চট্টগ্রাম বুধবার, ০৩ জুন, ২০২০

রমজানে ডায়াবেটিস রোগীদের বিশেষ যত্ন এবং করণীয়

১২ মে, ২০২০ | ২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

সু স্থ থা কু ন

রমজানে ডায়াবেটিস রোগীদের বিশেষ যত্ন এবং করণীয়

রমজানে ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মতান্ত্রিক ওষুধ সেবন, খাবার গ্রহণের মাত্রা, ব্যায়াম, ডায়াবেটিস পরীক্ষার নিয়মসহ সমগ্র জীবনযাত্রার পরিবর্তন করতে হয়। অল্প সময়ে জীবনযাত্রার এই পরিবর্তনের সাথে তাল মেলাতে না পেরে অনেকেই পড়েন নানা সমস্যায়।
ডায়াবেটিসের কোন ঔষধ কখন খাবেন?
১. ডায়াবেটিসের যেসব ঔষধ নাস্তার আগে খেতে হয়, সেগুলো ইফতারের শুরুতে খেয়ে ইফতার শুরু করবেন। এক্ষেত্রে স্বাভাবিক সময়ের মতো ১০-৩০ মিনিট অপেক্ষা করা যাবে না। ২. ইনসুলিন নিয়েই ইফতার খেতে বসতে হবে। এক্ষেত্রেও নরমাল ইনসুলিনগুলোর ক্ষেত্রে যে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়, সেটা করা যাবে না।
আর আধুনিক ইনসুলিনগুলোতে তো অপেক্ষা করাই লাগে না, সাথে সাথেই খাওয়া যায়। ৩. সেহরীতে ডায়াবেটিসের ঔষধ এবং ইনসুলিনের waiting period ঠিকই বজায় রাখবেন। নরমাল ইনসুলিনগুলো সেহরীর ২০ মিনিট আগে এবং আধুনিক ইনসুলিনগুলো সেহরী খাবার ৫ মিনিট আগে নিবেন। ৪. থাইরয়েডের ঔষধ – Thyrox/ Thyrin/ Thyronor ইত্যাদি সেহরীর অন্তত আধা ঘন্টা আগে খাবেন।
৫. প্রেশারের ঔষধ- সকালেরগুলো সেহরীতে এবং রাতেরগুলো ইফতারে খাবেন।
ডায়াবেটিস কখন মাপবেন?
১. বিকেল তিনটা থেকে চারটার মধ্যে একবার মাপবেন। এই সময়ের সুগারের মাত্রা দেখে, আপনার সেহরীর ঔষধ এবং ইনসুলিনের ডোজ adjust করতে হবে। ২. আরেকবার মাপবেন, ইফতারের দুই ঘন্টা পর।
কখন রোজা ভেঙে ফেলবেন?
১. খুব অসুস্থ বোধ করলে। ২. বেলা তিনটা-চারটার সময় সুগারের মাত্রা ৩.৫ এর কম পেলে। ৩. সেহরী করতে না পারলে।
রোজায় খাওয়া দাওয়ার নিয়ম কি?
১. সেহরীর শেষ সময়ের কাছাকাছি সময়ে খাবেন, বেশী আগে না। ২. দৈনিক মোট ক্যালরীর পরিমান একই থাকবে। অর্থাৎ এখন ১৬০০ ক্যালরীর খাবার খেলে, রোজাতেও একই রাখবেন। ৩. ইফতার থেকে সেহরী পর্যন্ত প্রচুর পানি এবং তরল খাবেন। যেমন ঃ- ডাবের পানি, শরবৎ (কম চিনিযুক্ত বা চিনিবিহীন), দুধ, টক দইয়ের লাচ্ছি, ডাল ইত্যাদি। ৪. ইফতারে ভাজাপোড়া এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার কম খাবেন। ৫. সেহরী এবং ইফতারে আঁশযুক্ত খাবার বেশী খাবেন। যেমনঃ- ভাত, রুটি, সব্জি, ডাল, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, দই, ফলমূল, সালাদ ইত্যাদি।
রোজা রেখেও কোন কোন ঔষধ ব্যবহার করতে পারবেন?
১. চোখ ও কানের ড্রপ। ২. চামড়ায় লাগানোর ক্রিম। ৩. সাপোজিটরি। ৪. অক্সিজেন। ৫. ইনজেকশন (তবে শিরাপথে দেয়া পুষ্টির ইনজেকশন নয়)। ৬. জিহবার নীচে দেবার ট্যাবলেট বা স্প্রে (হার্টের ব্যথা উঠলে)।

The Post Viewed By: 156 People