চট্টগ্রাম সোমবার, ২৫ মে, ২০২০

সর্বশেষ:

বায়ুদূষণ সংক্রান্ত রোগ প্রতিরোধে যা খাবেন

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | ৬:৩১ পূর্বাহ্ণ

বায়ুদূষণ সংক্রান্ত রোগ প্রতিরোধে যা খাবেন

পরিবেশদূষণ দিন দিন বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে বায়ুদূষণ। একসময় যাদের শ্বাসকষ্ট ছিল না, আজকাল তাদেরও শ্বাসকষ্টসহ শ্বাসতন্ত্রের অন্য সমস্যা বাড়ছে। এই সমস্যার সঙ্গে লড়াইয়ের জন্যে এন্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার খাওয়া প্রয়োজন।
দূষিত বায়ুতে রয়েছে ওজন, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, যানবাহনের কালো ধোঁয়াসহ অসংখ্য ক্ষতিকর পদার্থ। আমাদের ফুসফুসে উপস্থিত এন্টি-অক্সিডেন্ট এই তীব্র বায়ুদূষণের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে আর যথেষ্ট নয়। তাই বায়ুদূষণ সংক্রান্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এন্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।
ভিটামিন সি : শরীরের সবচেয়ে জরুরি এন্টি-অক্সিডেন্ট হচ্ছে ভিটামিন সি। এটি পানিতে দ্রবীভূত হয়। তাই আমাদের সারা শরীরে উপস্থিত এই ভিটামিন শরীরের সব ক্ষতিকর পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া ভিটামিন ই তৈরিতেও ভূমিকা রাখে এটি। ফুসফুসে ভিটামিন সি’র পরিমাণ ঠিক রাখতে প্রতিদিন ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি।

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন প্রয়োজন ৪০ গ্রাম ভিটামিন সি। ধনেপাতা, বাঁধাকপি, শালগমসহ সব ধরনের সবুজ শাক-সবজিতে ভিটামিন সি রয়েছে। আমলকি, কমলা, পেয়ারা ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল। এছাড়া, সাইট্রাসযুক্ত ফলগুলোতে ভিটামিন সি সবচেয়ে বেশি থাকে। প্রতিদিন লেবুর শরবত খেলে শরীরে এর চাহিদা পূরণ করা সম্ভব সহজেই।
ভিটামিন ই : ভিটামিন ই চর্বিতে দ্রবীভূত হয়। শরীরের কোথাও আঘাত পেলেই রক্ত পড়া বন্ধ করে টিস্যু পুনর্গঠন করে সুরক্ষা দেয় এই ভিটামিন। সূর্যমুখী, পিনাট, ক্যানোলা ও জলাপাইয়ের তেলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই থাকে। এলমন্ডসহ সব বাদাম ও সূর্যমুখীর বীজে এটি থাকে। তবে, এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে চর্বিও থাকে, তাই প্রতিদিন এক আউন্স খাওয়াই যথেষ্ট। মরিচের গুঁড়া, লঙ্কা, লবঙ্গসহ বেশকিছু মশলায় এই ভিটামিন আছে। রান্নায় এসব ব্যবহার করতে পারেন।

বিটা ক্যারোটিন : শরীরের প্রদাহ দূর করতে সাহায্য করে বিটা ক্যারোটিন। শরীরে তা ভিটামিন এ হিসেবে রূপান্তর হয়। ধনে, লেটুস, পুদিনা পাতা, মেথি, লালশাকসহ বিভিন্ন শাকে প্রচুর পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন থাকে। গাজরসহ রঙিন সবজিও বিটা ক্যারোটিন সমৃদ্ধ।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড : হৃৎপি- ও ফুসফুসের ওপর বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে বাধা দেয় ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। সরিষাসহ বিভিন্ন বীজ ও বাদামে এটি থাকে। স্যালমন, ট্রাউট, টুনা, সারডিনস- এসব সামুদ্রিক মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ।
আয়ুর্বেদিক ওষুধ : আয়ুর্বেদিক ওষুধ ও মশলা শ্বসনতন্ত্র সুরক্ষা করে। হলুদ অনেক এন্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। ঘিয়ের সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে খেলে কাশি ও এজমার সমস্যা কমবে। এছাড়া গুড় ও মাখনের সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে খেলেও উপকার হবে। পেঁয়াজের রসের সঙ্গে গুড়ো মিশিয়ে খেলে কফ ও খুসখুসে কাশি থেকে মুক্তি মিলতে পারে। ঘুমের আগে ও ঘুম থেকে উঠে হরিতকি ও গুড়ো খাওয়া শ্বাসনালীর জন্যে ভালো। আদা, তুলসি, পুদিনা পাতাÑএসবই শ্বসনতন্ত্র সুরক্ষা করে।

The Post Viewed By: 62 People

সম্পর্কিত পোস্ট