চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২১

১ ডিসেম্বর, ২০২০ | ২:১৮ অপরাহ্ণ

ইফতেখারুল ইসলাম 

সেকেন্ডারি মার্কেটে বড় বিনিয়োগের শর্তে বিপাকে ব্রোকারেজ হাউস

সেকেন্ডারি মার্কেটে কোটি টাকার বিনিয়োগের শর্ত পুঁজি বাজারের স্টক ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে চরমভাবে বিপাকে ফেলেছে। অনেক হাউজে কোটি টাকা বিনিয়োগও নেই, কিন্তু আইপিও এলিজিবল কোটায় আবেদন করতে গেলে তাদেরকে ওইদিন কোটি টাকা বিনিয়োগ রাখতে হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট হাউসগুলো অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, একটা সময় ছিল এলিজিবল ইনভেস্টরগণ সকলেই আইপিও এলিজিবল কোটায় আবেদন করতে পারতো। এরমধ্যে ডিলারও অন্তর্ভুক্ত আছে। ২০১৫ সালে সংশোধিত আইপিও ইস্যু রুলে-মিউচুয়াল ফান্ড, ডিলার পেনশন ফান্ড, ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানসমূহকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করার জন্য এই সুবিধা দেয়া হয়। এই সুবিধা দেয়ার ফলে অনেকেই পুঁজিবাজারে আগ্রহী হতে দেখা যায়। কিন্তু আইপিওতে পাওয়া শেয়ার সাথে সাথে বিক্রি করে ফেলতে দেখা যায়। এলিজেবল ইনভেস্টর ও ব্যক্তিখাতে আইপিও শিকারিদের মধ্যে কোন পার্থক্য দেখা যায়নি। এ্ধসঢ়;ই প্রবণতা দুর করার জন্য, এলিজেবল ইনভেস্টর হতে হলে প্রত্যেক এলিজেবল ইনভেস্টরকে নির্দিষ্ট পরিমাণ শেয়ার হোল্ড করার নিয়ম চালু করা হয়। কিন্তু কত টাকার শেয়ার হোল্ড করতে হবে তা আইপিও ইস্যুরুলে উল্লেখ নেই।

একটি আইপিওতে এলিজেবল ইনভেস্টরদের সেকেন্ডারি মার্কেটে কত টাকার বিনিয়োগ থাকতে হবে কমিশন সময় সময় (ইস্যুওয়াইজ) নির্ধারণ করে দেয়ার ব্যবস্থা রেখেছে। কত টাকা সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগ থাকতে হবে তার পরিমাণ কমিশনের হাতে রাখা হয়েছে। বিগত কয়েকটি আইপিও এর ব্যাপারে এলিজেবল ইনভেস্টরদের বিও তে কমপক্ষে এক কোটি টাকার ইনভেস্টমেন্ট থাকতে হবে বলে শর্ত দেয়া হয়।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সিএসই-তে ১৪৬ জন একটিভ মেম্বার আছে। এদের অনেকেরই ডিলার লাইসেন্স আছে। এর মধ্যে ১২ জনের পরিশোধিত মূলধন এক কোটি টাকার কম। ৪৩ জনের পরিশোধিত মূলধন এক কোটি টাকা। ৩২ জনের পরিশোধিত মূলধন এক থেকে তিন কোটি টাকা। ডিএসই এর ৫ জনের পরিশোধিত মূলধন এক কোটি টাকার নিচে। ১০১ জনের মূলধন এক কোটি থেকে পাঁচ কোটি টাকার মধ্যে।

আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড এর  ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন এফসিএমএ পূর্বকোণকে বলেন, আমাদের জানা নেই, কী ধরনের তথ্যের ভিত্তিতে এই লিমিট সেট করা হয়েছে। সিএসই এর বেশিরভাগ ডিলার পক্ষে এই এক কোটি টাকার শর্ত পালন করা অসম্ভব। বৃহত্তর আকারে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য এক কোটি টাকার লিমিট পুন:বিবেচনার দাবি রাখে। সাধারণভাবে কমানো সম্ভব না হলে সিএসই/ডিএসই এর সেসব ডিলার এর পরিশোধিত মূলধন পাঁচ কোটি টাকার কম। তাদের জন্য সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগের পরিমাণ ২০ লাখ টাকা করা যায়।

টেন স্টার প্রাইভেট লি. এর পরিচালক ফারহানা আকতার পূর্বকোণকে বলেন, যেসকল ডিলারের পরিশোধিত মূলধন এক কোটি টাকা বা তার নিচে এরা কোন অবস্থাতেই এক কোটি টাকা সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগ করতে পারবে না। এমনকি যাদের পরিশোধিত মূলধন চার থেকে পাঁচ কোটি টাকা তাদেরও অনেকের পক্ষে এক কোটি টাকার মত বড় বিনিয়োগ সেকেন্ডারি মার্কেটে রাখা কষ্টসাধ্য হবে। ২০১০ সালে প্রচুর ক্ষতি হয়ে গেছে। মার্কেট ভ্যালুতে এক কোটি টাকা থাকতে হবে। এটা বড় ধরনের বোঝা। মার্কেটে কোটি টাকা বিনিয়োগের পরদিন দেখা গেল বাজারে ওই শেয়ারের দাম কমে ৮০ লাখ টাকা হয়ে গেছে। এভাবে কত টাকা বিনিয়োগ করা যায় এমন প্রশ্ন তোলে তিনি এই সিদ্ধান্ত।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 126 People

মন্তব্য দিন :