চট্টগ্রাম বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

১৭ নভেম্বর, ২০২০ | ১:৫১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক 

রবি’র আইপিও আবেদন শুরু আজ

পুঁজিবাজারে আজ থেকে বহুজাতিক মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লি. এর প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) এর আবেদন শুরু হচ্ছে। চলবে ২৩ নভেম্বর সোমবার পর্যন্ত। ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে আইপিও ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ৫২৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার মূলধন সংগ্রহের লক্ষ নিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ৫২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩৩ হাজার ৩৪০ টাকা সংগ্রহ করবে। কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ৫২ কোটি ৩৭ লাখ ৯৩ হাজার ৩৩৪টি সাধারণ শেয়ার আইপিওতে ইস্যু করবে। এর মধ্যে ১৩ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার ৯৩৪টি শেয়ার কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ইস্যু করা হবে। এর আগে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চলতি বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন দেয়। খসড়া প্রসপেক্টাস অনুযায়ী চার হাজার ৭১৪ কোটি ১৪ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধনের রবির ২০১৯ সালে টার্নওভার হয়েছে ৭ হাজার ৪৮১ কোটি ১৭ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। এ টার্নওভার থেকে সব ব্যয় শেষে নিট মুনাফা হয়েছে ১৬ কোটি ৯০ লাখ ৮৯ হাজার টাকা।

কোম্পানিটির ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরে শেয়ার প্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৪ পয়সা। পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৬৪ পয়সা। কোম্পানিটিকে পুঁজিবাজারে আনতে ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট।

এদিকে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস থেকে জানানো হয়েছে, রবি পুঁজিবাজার থেকে ৫২৩ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। যা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ আইপিও। উত্তোলিত অর্থ রবির নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য ব্যবহৃত হবে। টেলিকমিউনিকেশন খাতের দ্বিতীয় কোম্পানি হিসেবে রবির তালিকাভুক্তি বাজারের মূলধনকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে। এর আগে পুঁজিবাজারে সর্বোচ্চ আইপিও ছিল টেলিযোগাযোগ খাতের আরেক শীর্ষ কোম্পানি গ্রামীণ ফোনের ৪৮৬ কোটি ৮ লাখ টাকা।

বিএসইসি জানিয়েছে, রবি আজিয়াটা শেয়ারবাজারে শেয়ার ছেড়ে যে টাকা সংগ্রহ করবে তার মধ্যে ১৩৬ কোটি টাকা দেবেন কোম্পানিটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শেয়ার ছেড়ে সংগ্রহ করা টাকায় কোম্পানিটি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করবে। রবি আজিয়াটাকে শেয়ারবাজারে আনার ক্ষেত্রে ইস্যু ম্যানেজারের দায়িত্বে রয়েছে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সমাপ্ত আর্থিক বছরের হিসাব বিবরণীর ওপর ভিত্তি করে কোম্পানিটির আইপিও অনুমোদন দেয়া হয়। তাতে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরশেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস দাঁড়িয়েছে চার পয়সায়। আর একই সময়ে কোম্পানিটির প্রকৃত সম্পদমূল্য বা এনএভি দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৬৪ পয়সায়।

রবি আজিয়াটা এখন পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে বড় মূলধনি কোম্পানি। এটির পরিশোধিত মূলধন ৫ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা। রবির তালিকাভুক্তির মধ্য দিয়ে শেয়ারবাজারে বহুজাতিক কোম্পানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২ টি।

২০০৯ সালে গ্রামীণফোন শেয়ারবাজারে আসার ১১ বছর পর দ্বিতীয় মুঠোফোন অপারেটর হিসেবে রবি শেয়ারবাজারে আসছে।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 68 People