চট্টগ্রাম রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ২:৩৪ অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

অর্জিত হয়নি বোরোর লক্ষ্যমাত্রা

বাজারে চালের দাম বাড়তি থাকায় বোরো সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি সরকার। ২০১৭ সালেও একই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল। চলতি মৌসুমে সরকার আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৯০৬৭ টন। তার বিপরীতে সংগ্রহ হয়েছে ৬ হাজার তিন শ’ টন। সিদ্ধ চালের সংগ্রহ লক্ষ্য ছিল ২৯৪৩ টন। অর্জিত হয়েছে ৫শ টন। ধানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৯৩৯ টন। সংগ্রহ হয়েছে ২০০৯ টন।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু নঈম মোহাম্মদ শফিউল আলম পূর্বকোণকে বলেন, ‘লক্ষ্যমাত্রার ৭৫ শতাংশ পূরণ হয়েছে। বাজারে ধান ও চালের দাম বাড়তি থাকায় শতভাগ অর্জিত হয়নি’। তিনি বলেন, ‘সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে কৃষক যাতে ভালো দাম পায়। কৃষক ধানের ন্যায্য দাম পেয়েছেন। এটাই হচ্ছে সরকারের সফলতা’।
মিল মালিকদের দাবি, সরকার আতপ চাল ৩৫ টাকা ও সিদ্ধ চাল ৩৬ টাকা দরে কিনেছে। অথচ খোলা বাজারে চাল বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৩৮-৪০ টাকা। তার সঙ্গে রয়েছে শ্রমিক, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ মিলে আরও দুই টাকা। লোকসান গুনে সরকারকে চাল দিয়েছে মিল মালিকরা। আর কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ধান কিনেছেন ২৬ টাকা দরে।
খাদ্য বিভাগ জানায়, গত ৭মে থেকে মিলারদের থেকে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সরকার। ৩১ আগস্ট ছিল ধান-চাল সংগ্রহের শেষ দিন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারায় আরও ১৫ দিন সময় বাড়িয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর শেষদিন করা হয়। সময় বাড়িয়েও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি সরকার।
চট্টগ্রাম রাইস মিল মালিক সমিতির সভাপতি শান্তদাশ গুপ্ত পূর্বকোণকে বলেন, ‘বাজারে চালের দাম ছিল ৩৮-৪০ টাকা। তার উপর রয়েছে মিল ও খাদ্য গুদামের শ্রমিক, পরিবহন খরচ। তারপরও চুক্তি করায় সরকারকে চাল দিয়েছেন মিল মালিকরা’। তিনি দাবি করেন, মহানগরীর মিলাররা চুক্তি মতো চাল দিয়েছেন। কিন্তু বিভিন্ন উপজেলার মিলাররা চুক্তি মতো চাল দিতে পারেনি’।
‘চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা মিলে ১২২টি মিল সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেছে। বাজারে ধান ও চালের দাম বাড়তি থাকায় সরকারের কাছ চাল বিক্রি করতে অনীহা তাদের’।
মিল মালিক সমিতির সভাপতি শান্তুদাশ গুপ্ত বলেন, ‘চুক্তি করায় সরকারকে চাল দিতে আমরা বাধ্য। লোকসান হলেও লাইসেন্স টিকিয়ে রাখতে চাল দিয়েছি’।
খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আবু নঈম মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ‘মিল মালিকরা চুক্তি মতো চাল দিতে বাধ্য। যারা চুক্তি মতো চাল দেয়নি, তাদের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে জানানো হবে। মন্ত্রণালয় যেই নির্দেশনা দেবে সেই নির্দেশনা মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।
এদিকে, ধান ও আতপ চালের চেয়ে সংগ্রহ কার্যক্রমে পিছিয়ে রয়েছে সিদ্ধ চাল সংগ্রহ কার্যক্রম। দুই হাজার ৯৪৩ টনের বিপরীতে সংগ্রহ হয়েছে ৫শ টন। সংগ্রহ হয়েছে ১৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ। সরকারকে সিদ্ধ চাল দেওয়ার জন্য ২০টি মিল চুক্তি করেছে।
এ নিয়ে শান্তদাশ গুপ্ত বলেন, ‘চট্টগ্রাম হচ্ছে আতপ চাল নির্ভরশীল। সিদ্ধ চালের অভ্যস্থতা কম। চট্টগ্রামে সিদ্ধ সংগ্রহ কমিয়ে আতপ চালের সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে দিলে সরকার উপকৃত হবে’।
একই কথা বলেন চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু নঈম মোহাম্মদ শফিউল আলম। তিনি বললেন, চট্টগ্রামের কয়েকটি উপজেলায় সিদ্ধ চালের মিল রয়েছে। তবে উৎপাদন ক্ষমতা কম। বিষয়টি আমি মন্ত্রণালয়কেও জানিয়েছি’।
কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনেছে সরকার। কৃৃষককে সরাসরি প্রণোদনা দিতে ও ফড়িয়াদের দৌরাত্ম্য কমাতে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া হয়। ধানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ছয় হাজার ৯৩৯ টন। সংগ্রহ হয়েছে ২৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
খাদ্য কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাক। কৃষক বাজারে বিক্রি করে ধানের ভালো দাম পেয়েছেন’।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 90 People