চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২০

সর্বশেষ:

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ৩:০১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

পেঁয়াজ আসার খবরে কমছে দাম

বাড়তি দামেই স্থিতি ছিল অস্থির পেঁয়াজের বাজারে। গতকাল বুধবার পাইকারি মোকামে বেচাকেনা কম থাকায় দাম আর বাড়েনি। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পর থেকে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে পেঁয়াজের বাজার।

গতকাল দেশের ভোগ্যপণ্যের বড় বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ভারতীয় আমদানি করা ভালোমানের পেঁয়াজ সন্ধ্যার পর ৬২-৬৩ টাকায় নেমে আসে। আর মধ্যমানের পেঁয়াজ ৬০ টাকা থেকে আরেকদফা নেমে ৫৫ ও ৫৮ টাকায় নেমে যায়। আগেরদিন মঙ্গলবার ৭০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল।

খাতুনগঞ্জের আড়তদার মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, ‘গতকাল বেচাকেনা কম ছিল। মঙ্গলবারের তুলনায় ২০-৩০ শতাংশ কম বেচাকেনা হয়েছে। বেচাকেনা কম থাকায় দাম বাড়েনি। প্রতিকেজি পেঁয়াজ মান ও আকারভেদে ৬০-৬৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। মঙ্গলবার সেই পেঁয়াজ ৬৫-৭০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল’।

গতকাল মঙ্গলবার খাতুনগঞ্জ ৫-৬ ট্রাক এবং চাক্তাই আড়তে ৯ ট্রাক পেঁয়াজ ঢুকেছে। প্রতি ট্রাকে ১৩ টন করে পেঁয়াজ ছিল। এছাড়াও যশোরের সোনাপাড়া স্থল বন্দর দিয়ে ট্রেনের বগিভর্তি কিছু পেঁয়াজ দেশে ঢুকেছে। এসব খবরে পেঁয়াজের বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হয়।
চাক্তাই আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আহসান খালেদ পূর্বকোণকে বলেন, ‘যশোরের সোনাপাড়া স্থল বন্দর দিয়ে ট্রেনের বগিভর্তি পেঁয়াজ দেশে ঢুকেছে। আগের এলসি করা এসব পেঁয়াজ দু-একদিনের মধ্যে বাজারে আসবে। এছাড়াও মিয়ানমার থেকে কিছু পেঁয়াজ দেশে ঢুকছে। এসব খবরে দাম কিছুটা কমেছে’।
গত সোমবার ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পর দেশে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। গত দুইদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২৪-২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসেও ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছিল। সেই সময়েও পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়।
গত দুই দিনে পাইকারি মোকাম ঘুরে দেখা যায়, গত মঙ্গলবার পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধের ঘোষণার পর পাইকারি বাজারে হুলস্থুল শুরু হয়। ৩৫-৩৬ টাকায় বিক্রি করা পেঁয়াজ বেড়ে ৭০ টাকায় পৌঁছায়।
খাতুনগঞ্জ হামিদ উল্লাহ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস পূর্বকোণকে বলেন, ‘সকালে স্থলবন্দর দিয়ে কিছু পেঁয়াজ দেশে ঢুকেছে। এছাড়াও বাজারে আরও ৪-৫ দিন বিক্রি করার মতো পেঁয়াজ মজুত রয়েছে। বেচাকেনা কম থাকায় গতকাল সন্ধ্যায় পেঁয়াজের দাম ৬০ টাকায় নেমে আসে’।
এদিকে, পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায় মিয়ানমার, চায়না, তুরস্ক ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি খুলেছেন কয়েকজন আমদানিকারক। নতুন এলসি করা পেঁয়াজ বাজারে আসতে আরও অন্তত ১৫ দিন সময় লাগবে।
একাধিক আড়তদার জানায়, ঢাকার কয়েকজন আড়তদার মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেছেন। কয়েকদিনের মধ্যে এসব পেঁয়াজ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশে ঢুকতে পারে। এছাড়াও বেনাপোল, সোনা মসজিদ, হিলি স্থল বন্দরভিত্তিক আমদানিকারকদের কাছে প্রচুর পেঁয়াজ মজুত রয়েছে। দাম বাড়ার পর এসব পেঁয়াজ দেশের বিভিন্ন আড়তে আসতে শুরু করেছে।

 

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 114 People

সম্পর্কিত পোস্ট