চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

দাবি আদায়ে ‘ধীরে চল’ নীতিতে বার্থ অপারেটর

১১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ১:১৬ অপরাহ্ণ

সারোয়ার আহমদ

দাবি আদায়ে ‘ধীরে চল’ নীতিতে বার্থ অপারেটর

দীর্ঘদিন ধরে বার্থ অপারেটর ও শিপিং এজেন্টদের মধ্যে অনবোর্ড অপারেশনে বর্ধিত শ্রমিক মজুরি নিয়ে জটিলতা আরো বাড়ছে। বন্দরের বার্থ অপারেটর তাদের দাবি আদায় করতে কাজে ক্ষেত্রে অনেকটা ধীরে চলা নীতিতে এগুচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বার্থ শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী।
তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে বার্থ অপারেটরদের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। আমরা বিষয়গুলো টেবিলে বসে মীমাংসা করতে পারি। জটিলতা সমাধান করে নিতে পারি। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের কাজে মনে হচ্ছে দাবি আদায়ে তারা ধীরে চল গতিতে যেতে চায়। কারণ বন্দরের ৫ নম্বর কার্গো বার্থিং এ এমভি জুডি জাহাজটি বার্থিং করে গত বুধবার সকালে। তখন থেকেই জাহাজে জাহাজে ৪টি গ্যাং লাগানো ছিল। কিন্তু গতকাল বুধবার বিকেলে বার্থ অপারেট একটি গ্যাং কমিয়ে দেয়। যার ফলে কাজের গতি কমে যাওয়াটা খুব স্বাভাবিক।

আহসানুল হক চৌধুরী শ্রমিক মজুরি প্রসঙ্গে বলেন, প্রতিবছর জাহাজের শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির যে নিয়ম রয়েছে সেটি শুধুমাত্র শ্রমিকদের মজুরির উপর বাড়ার কথা। মূল বিলের উপর নয়। কিন্তু আমাদেরকে শ্রমিকের মজুরির উপর বর্ধিত বিল না দিয়ে মোট বিলের উপর বর্ধিত বিল করে পরিশোধের জন্য বলা হয়। যা নিয়ম বহির্ভূত।
এদিকে একই বিষয়ে জানতে চাইলে বার্থ অপারেটরস শিপহ্যান্ডেলিং অপারেটরস এন্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে ইকরাম চৌধুরী দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘কাজের গতি কমেছে কিনা সেটা আগে থেকে বলা যাবে না। সব জাহাজ এক রকম কার্গো নিয়ে আসে না। আবার একই কার্গো জাহাজে বিভিন্ন ধরণের পণ্য থাকে তখন প্রয়োজন অনুসারে গ্যাং বাড়াতে বা কমাতে হয়। অর্থাৎ যখন যেটি প্রয়োজন সেটিই প্রয়োগ করতে হবে। এখানে গ্যাং কমিয়ে কাজের গতি কমিয়ে দেয়া হয়েছে কথাটি সত্য নয়। আমাদের একটি নয় অনেক কার্গো নিয়ে কাজ করতে হয়। প্রয়োজনের তাগিতেই একটি গ্যাং কমানো হয়েছিল। আমরা কাজ করছি বলেই বন্দরের প্রাডাক্টিভিটি বাড়ছে, এবং সেটি ধারাবাহিকভাবেই বাড়ছে।’
২০১৬ সালের এপ্রিলের চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবছর জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে কমর্রত শ্রমিকদের মজুরি বাড়ার কথা। সেই চুক্তিতে কন্টেইনার জাহাজের শ্রমিকদের মজুরি ৪% ও কার্গো জাহাজের শ্রমিকদের মজুরি ৯% বাড়ানোর বিধান রয়েছে। তবে এই বর্ধিত চার্জ পরিশোধে প্রতিবছরই অনিহা দেখায় বলে জানান বার্থ অপারেটরস শিপহ্যান্ডেলিং অপারেটরস এন্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে ইকরাম চৌধুরী।
এ নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম চেম্বার উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেয়া পর্যন্ত সেই বর্ধিত বিল পরিশোধের জন্য বলে দেওয়া হলেও তা মানছে না শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশন।
উল্লেখ্য, অনবোর্ড অপারেশনের নিয়োজিত শ্রমিকদের বর্ধিত মজুরি পরিশোধের ব্যাপারে গত ২৯ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরের বোর্ড সভায় ত্রিপক্ষীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বন্দরের প্রশাসন ও পরিকল্পনা সদস্য জাফর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অনবোর্ড অপারেশনের নিয়োজিত কন্টেইনার জাহাজের শ্রমিকদের ৪% ও কার্গো জাহাজের শ্রমিকদের ৯% মজুরি বৃদ্ধি করে পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে গত ১২ আগস্ট শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশন থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষকে ওই বিল পরিশোধে অপারগতা জানালে জটিলতা সৃষ্টি হয়।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 136 People

সম্পর্কিত পোস্ট