চট্টগ্রাম শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ফিসারিঘাটে ১ মে. টন নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ জব্দ

১৮ জুলাই, ২০২০ | ৪:৪২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফিসারিঘাটে ১ মে. টন নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ জব্দ

চট্টগ্রাম নগরীর ফিসারিঘাট থেকে ১ মেট্রিক টন নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া মাছ বিক্রি ও সংরক্ষণের দায়ে মমিন সওদাগর নামে এক মাছের আড়তদারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইসঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালত তার কাছ থেকে প্রায় ২শ কেজি পিরানহা মাছ জব্দ করে । 

আজ শনিবার (১৮ জুলাই) জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুকের নেতৃত্বে নগরীর ফিসারিঘাটের মাছের আড়তে ভোর ৬ টা থেকে সকাল ১০ ঘটিকা পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, শনিবার অভিযান পরিচালনাকালে মাছের আড়তে নিষিদ্ধ পিরানহা ও আফ্রিকান মাগুর মাছ বিক্রয় ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে গিয়ে মমিন সওদাগরের আড়ত নামে একটি আড়তে পিরানহা মাছের সন্ধান মিলে। সেখানে বিক্রির জন্য সংরক্ষিত প্রায় ২শ কেজি নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং তাকে নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ বিক্রি ও সংরক্ষণের দায়ে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অন্যদিকে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের খবর পেয়ে ট্রাকভর্তি প্রায় এক মেট্রিক টন নিষিদ্ধ পিরানহা মাছসহ ট্রাক ফেলে মালিক ও ড্রাইভার পালিয়ে যায়। মাছগুলো জব্দ করে তা জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক বলেন, মমিন সওদাগরের মাছের আড়তের বিক্রি রেজিস্ট্রার খাতা যাচাই করে দেখা যায় তিনি পিরানহা মাছ না লিখে চাঁন্দা মাছের নাম লিখে রেখেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে বিক্রয়কর্মী বলেন ফিসারিঘাটে পিরানহা মাছকে চাঁন্দা বা চাঁদা মাছ বলে। অনেকেই জানেন না অনেকটা রুপচাঁদা মাছের মতো দেখতে এই মাছের নাম পিরানহা। যার ফলে অসাধু ব্যবসায়ীরা অনায়াসে মানুষকে ঠকাচ্ছে হরহামেশা।
তিনি আরও বলেন, পিরানহা মাছটি রাক্ষুসে স্বভাবের। এদের ছোট চোয়াল হলেও ত্রিভুজাকৃতির ক্ষুরের মতো ধারালো দুইপাটি দাঁত আছে। অন্য প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণীদের খেয়ে ফেলে খুব সহজে। দেশীয় প্রজাতির মাছ তথা জীববৈচিত্রের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ এই পিরানহা মাছ। সরেজমিনে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, পিরানহা মাছ ও আফ্রিকান মাগুর মাছগুলো দেশের বিভিন্ন জেলা যেমন সাতক্ষীরা, কক্সবাজার, কুমিল্লা, চাঁদপুর এমনকি ভারত থেকে চট্টগ্রামের ফিসারিঘাটের আড়তে আসে।

ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন ও মৎস্য জীববৈচিত্রের জন্য ভয়ানক হুমকি স্বরূপ এই পিরানহা ও আফ্রিকান মাগুর মাছের পোনা উৎপাদন, চাষ, বাজারজাতকরণ, পরিবহন ও মজুদ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অভিযানকালে অন্যদের মধ্যে ছিলেন জেলা মৎস্য দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো আনোয়ারুল আমীন, আবুল কালাম আজাদ, কামাল উদ্দিন, কোস্টগার্ডের পতেঙ্গা পুর্ব জোনের সিপিও শফিউল্লাহ ও সিএমপি পুলিশ সদস্যরা।

 

 

পূর্বকোণ/আল-আমিন-এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 276 People

সম্পর্কিত পোস্ট