চট্টগ্রাম বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

২৭ জুন, ২০২০ | ১২:৫৮ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

দেশের পশ্চিমাঞ্চল হতে পারে দ. এশিয়ার ট্রানজিটের প্রাণকেন্দ্র

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তের ভোমরা স্থলবন্দর থেকে হাটিকুমরুল পর্যন্ত ২৬০ কিলোমিটার মহাসড়ক আধুনিকায়ন করার মাধ্যমে একটি দুই লেনের সিঙ্গেল পণ্যবাহী লেনকে পরিণত করা হবে ‘স্টেট অব দ্য আর্ট’-এ এবং জলবায়ুর সঙ্গে উপযোগী চার লেনের ডুয়েল ক্যারিজওয়েতে। যার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক লজিস্টিক এবং ট্রানজিটের প্রাণকেন্দ্র হতে পারে বাংলাদেশ।

বিশ্ব ব্যাংক ও এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের সমর্থনে বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডোর এন্ড রিজিওনাল এনহ্যান্সমেন্ট (উইকেয়ার) কর্মসুচিতে সড়কগুলোর উন্নয়ন করা হলে তা অতিক্রম করবে ১০টি জেলার ভিতর দিয়ে। এসব জেলায় বসবাস দুই কোটির ওপরে মানুষের। এতে স্থানীয় ভোক্তা ও স্থানীয় সম্প্রদায় উপকৃত হবেন। বিশেষ করে সুবিধা পাবেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের কৃষক ও উদ্যোক্তা, যারা নাজুক পরিবহন ব্যবস্থা এবং দুর্বল লজিস্টিক কারণে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহায়ে এসেছেন।

যেহেতু বৃহৎ পরিবহন বিষয়ক করিডোর উন্নততর সমৃদ্ধি এনে দিতে পারে, তাই অর্থনীতিতে তাদের পূর্ণাঙ্গতা অর্জন করতে হলে প্রয়োজন পরিপূরক পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এই দিক থেকে সেকেন্ডারি এবং টার্সিয়ারি সড়ক ও লজিস্টিক অবকাঠামো, যেমন স্টোরেজ এবং প্যাকেজিং ফ্যাসিলিটিজগুলো, কালেক্টিং পয়েন্ট তৈরি হতে পারে, যা করিডোর বরাবর স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আনতে পারে।

এই কর্মসূচির প্রথম দফায়, বাংলাদেশ সরকারকে ৫০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। তা দিয়ে যশোর থেকে ঝিনাইদহ পর্যন্ত ৪৮ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক নির্মাণ করা হবে। ৬০০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হবে বিভিন্ন গ্রাম, উপজেলা ও ইউনিয়নের সড়ক সংযুক্তিতে। এতে সংযুক্ত করা হবে প্রায় ৩২টি মার্কেটকে। নির্বাচিত কৃষিজ মূল্য আছে এমন চেইনের সঙ্গে যুক্ত থাকবে স্টোরেজ, গ্রেডিং, শর্টিং, প্যাকেজিং, কালেক্টিং এবং বিক্রয়কারী স্থাপনা।

ভূটান, নেপাল ও ভারতের জন্য প্রবেশদ্বার হিসেবে কৌশলগত ভৌগলিক অবস্থানে থাকার কারণে এর পূর্ণ সুবিধা ভোগ করতে বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলকে সাহায্য করবে উইকেয়ার। এই করিডোর বেনাপোল ও ভোমরা স্থলবন্দরে চলাচল ও বাণিজ্যকে সহজতর করবে। এই দুটি স্থলবন্দর হলো বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আন্তঃসীমান্তে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত বন্দর। অধিকতর সংযুক্তিতে অভাবনীয় সুবিধা পাবে বাংলাদেশ। এতে তার বাণিজ্যিক সেবা সহজ হবে। ট্রানজিট ফি হিসেবে স্থলবন্দর এবং সড়ক পরিবহনের চার্জ থেকে আয় বাড়বে।

তাছাড়া, প্রাথমিক এই বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কোভিড-১৯ মহামারির পরে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে সমর্থন দেবে, বিশেষ করে খুব ঝুঁকিতে থাকা মানুষ, যারা শুধুই দিনমজুর। প্রথম ২৪ মাসে গ্রাম এলাকায় শ্রমনির্ভর প্রায় ১ লাখ দিনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। (বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইট অবলম্বনে)

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 231 People