চট্টগ্রাম সোমবার, ২৫ মে, ২০২০

সর্বশেষ:

বন্দরের শতভাগ স্টোরেন্ট চার্জ মওকুফের সময় ফের বাড়লো

৫ মে, ২০২০ | ৯:১৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বন্দরের শতভাগ স্টোরেন্ট চার্জ মওকুফের সময় ফের বাড়লো

অফডকের চার্জ না কমালে এই সিদ্ধান্তে কোন লাভ হবে না আমদানিকারকদের

তৃতীয় দফায় আবারও কনটেইনার রাখার ভাড়া (স্টোরেন্ট চার্জ) শতভাগ ছাড় দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। করোনা পরিস্থিতির কারণে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিতে আগামী ১৬ মে এর মধ্যে পণ্য খালাস নেওয়া হলে এই ছাড় পাবেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল মঙ্গলবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ছাড়ের ঘোষণা দেয় চট্টগ্রাম বন্দরের ট্রাফিক বিভাগ।
এবিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক পূর্বকোণকে বলেন, বন্দরের কন্টেইনার চাপ কমিয়ে কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে তৃতীয় বারের মত কন্টেইনারের স্টোরেন্ট চার্জ শতভাগ মওকুফ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীক বিভিন্ন মহল থেকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে সরকারী সাধারণ ছুটিতে কন্টেইনারের স্টোরেন্ট চার্জ শতভাগ মওকুফ জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। তারই প্রেক্ষিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বন্দর কর্তৃপক্ষ কন্টেইনারের স্টোরেন্ট চার্জ শতভাগ মওকুফের ঘোষণা দেয়।

এদিকে বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অফডকগুলোর বর্ধিত চার্জের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত না হলে বন্দরের স্টোরেন্ট চার্জ মওকুফেও লাভবান হবেন না আমদানিকারকেরা। কারণ বন্দরের পাশাপাশি সবধরণের পণ্যের কন্টেইনার এখন চট্টগ্রামের ১৯টি অফডক থেকেও খালাস হচ্ছে। কিন্তু বন্দরের চার্জের চেয়ে অফডকগুলোর চার্জ বেশি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোওয়ার্ডাস এসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সূজন পূর্বকোণকে বলেন, বন্দরের এই ছাড়ে আমদানিকারকরা তেমন লাভবান হবে না। শুধুমাত্র যারা বন্দর থেকে খালাস নিবে তারাই এ সুযোগ পাবে। কিন্তু কন্টেইনারতো চলে যাচ্ছে ডিপোগুলোতে। ডিপোতে দ্বিগুণের বেশি খরচ। এতে আমদানিকারকের উল্টো অধিক হারে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। যদি ডিপোগুলোও কন্টেইনারের চার্জ মওকুফ করে তাহলে আমদানিকারকগণ লাভবান হবে। এ ছাড়াও এক চালানে একের অধিক কন্টেইনার সময়মত এক সাথে ডিপোতে না নিতে পারায় আমদানিকারকের অধিক অর্থদন্ড দিতে হচ্ছে এবং পণ্য পেতে সময়ও বেশি লেগে যাচ্ছে। পণ্য খালাসে আমদানিকারকের প্রতিনিধি সিএন্ডএফ এজেন্টের ভোগান্তি চরমে পৌঁছাচ্ছে।
প্রসঙ্গতঃ স্বাভাবিক সময়ে জাহাজ থেকে নামানোর পর চারদিন পর্যন্ত বিনা ভাড়ায় কনটেইনার রাখা যায় বন্দরে। এরপর প্রথম ধাপে প্রতিটি ১টিইইউস কনটেইনারে ৬ ডলার, দ্বিতীয় ধাপে ১২ ডলার এবং শেষ ধাপে ২৪ ডলার করে ভাড়া দিতে হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ ছাড়ের সুবিধা দেওয়ায় সময়ভেদে একেকটি কনটেইনারে সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ছাড় পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সাধারণ ছুটির সময়ে আমদানি হওয়া কনটেইনার বন্দরে নামানো হয়েছে সেগুলো খালাসের ক্ষেত্রে এই ছাড় পাওয়া যাবে। ছুটি ঘোষণার চারদিন আগের কনটেইনারও এই সুবিধা পাবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। প্রথম দফায় ২০ এপ্রিল পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় দফায় ৪ মে পর্যন্ত কনটেইনার রাখার ভাড়ায় শতভাগ ছাড় দেওয়া হয়। এবার মিলে দেড় মাসের বেশি সময় এই সুবিধা পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

The Post Viewed By: 231 People