চট্টগ্রাম রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

শ্রমিকদের মোবাইলে বেতন তুলতে চার্জ হাজারে ৪ টাকা

২৩ এপ্রিল, ২০২০ | ৭:৩৪ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

শ্রমিকদের মোবাইলে বেতন তুলতে চার্জ হাজারে ৪ টাকা

রপ্তানিমুখী কারাখানা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা তুলতে প্রতি হাজারে ৮ টাকা চার্জ নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরমধ্যে শ্রমিকদের দিতে হবে ৪ টাকা। বাকি ৪ টাকা পরিশোধ করবে ঋণ প্রদানকারী ব্যাংক।

বর্তমানে সেবাভেদে ১ হাজার টাকা তুলতে ১৫ থেকে ১৮ টাকা খরচ হয়। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের আজকের নির্দেশনার ফলে শ্রমিকেরা অল্প মাশুলে এমএফএস থেকে টাকা উত্তোলনের সুবিধা পাবেন।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। এ প্যাকেজের আওতায় নতুন করে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম ডিপার্টমেন্ট থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।

জানা গেছে, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় ক্যাশ আউটে (টাকা উত্তোলনে) প্রতি হাজারে ১৮ থেকে ২০ টাকা চার্জ কেটে নেয় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) এজেন্টরা। স্বল্প আয়ের শ্রমিকদের এ খরচ বহন করা কঠিন। বিষয়টি বিবেচনায় এ নির্দেশনা দিয়েছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।

সব এমএফএসে পাঠানো বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য সরকারের বিশেষ ঋণসুবিধার অর্থ শ্রমিক-কর্মচারীদের ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবের মাধ্যমে প্রদানের নির্দেশ রয়েছে। এই স্কিমের আওতায় বেতন প্রদানের ক্ষেত্রে শ্রমিক-কর্মচারীদের স্বার্থ বিবেচনায় কোনো ক্ষেত্রে শুধু খরচ আদায় ও কোনো কোনো প্রণোদনা প্রদানের নীতি গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে ১ হাজার টাকা উত্তোলনে ৮ টাকা মাশুল নেওয়া যাবে। এর মধ্যে ৪ টাকা প্রদান করবে ঋণ প্রদানকারী ব্যাংক ও ৪ টাকা দেবে ওই শ্রমিক।

গত ২ এপ্রিল রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য সকলকে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট খোলার নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এই স্কিমের আওতায় পরিশোধিত বেতন ভাতা ক্যাশ আউট এর ক্ষেত্রে শ্রমিক-কর্মচারীদের স্বার্থ বিবেচনায় ফি আদায়ে শুধুমাত্র কষ্ট রিকভারি বা কোনো ক্ষেত্রে সাবসিডি প্রদানের জন্য অপারেটরদেরকে (নগদ সহ) অনুরোধ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বা হাজারে ৮ টাকার বেশি চার্জ আদায় করা যাবে না। এর মধ্যেও এমএফএস অপারেটরদের নিজেদের কমিশন থেকে ৪ টাকা প্রদান করবে ঋণ প্রদানকারী ব্যাংক। বাকি ৪ টাকা পরিশোধ করবে গ্রাহক বা প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক।

এর আগে গত ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার একটি সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই সার্কুলারে বলা হয়, করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই প্যাকেজ থেকে উৎপাদনের ন্যূনতম ৮০ শতাংশ পণ্য রফতানি করছে এমন সচল প্রতিষ্ঠান সুদবিহীন সর্বোচ্চ ২ শতাংশ হারে সার্ভিসচার্জ দিয়ে ঋণ নিতে পারবে। তবে এ ঋণ দিয়ে শুধুমাত্র শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হবে। কোনোভাবেই কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা প্রদান করা যাবে না। একইসঙ্গে এ বেতন সরাসরি শ্রমিকের ব্যাংক বা মোবাইল অ্যাকাউন্টে দিতে হবে। নগদ টাকা প্রদান করা যা‌বে না।

এ প্রেক্ষিতে গত ৬ এপ্রিল এ ঋণ সুবিধা নিতে চায় এমন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য ২০ এপ্রিলের মধ্যে মোবাইল একাউন্ট খোলার নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এই হিসাব খোলার জন্য কোনো ধরনের চার্জ বা ফি না কাটা নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
The Post Viewed By: 459 People

সম্পর্কিত পোস্ট