চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০

এনবিআর’র দুই সিদ্ধান্তেও কমবে না কন্টেইনার জট

১৯ এপ্রিল, ২০২০ | ২:৫৯ পূর্বাহ্ণ

সারোয়ার আহমদ

এনবিআর’র দুই সিদ্ধান্তেও কমবে না কন্টেইনার জট

  • আরো ৬ ধরণের পণ্য অফডক থেকে ডেলিভারির অনুমতি
  • এসএপিএল থেকে শর্ত সাপেক্ষে কমলাপুর আইসিডি এর পণ্য ডেলিভারি করা যাবে
  • সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কন্টেইনার কমবে মাত্র ২৩শ টিইইউস

চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার জট কমাতে অফডক ও এসএপিএল বিষয়ে গৃহীত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর সিদ্ধান্ত ফলপ্রসু হবে বলে মনে করেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা। গতকাল শনিবার এনবিআর বিকডার বেসরকারি ১৯টি অফডক থেকে আরো ৬ ধরণের পণ্য খালাসের সাময়িক অনুমোতি দিয়ে আদেশ জারি করেন।
এছাড়া একই দিনে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি’র পণ্য মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুরে অবস্থিত সামিট এলায়েন্স পোর্ট লিমিটেড (এসএপিএল) এর রিভার টার্মিনাল থেকে ডেলিভারির অনুমোতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জরি করা হয়।
এনবিআর এর এই দুই সিদ্ধান্তে চট্টগ্রাম বন্দরের থাকা ৪৮ হাজার টিইইউস এর বেশি কন্টেইনার থেকে খালাস হতে পারে মাত্র ২৩শ টিইইউস কন্টেইনার। যার ফলে জায়গা না থাকায় পণ্য খালাসের অপেক্ষায় থাকা আউটারের ২৮ জাহাজকে আরো অপেক্ষায় থাকতে হবে। প্রতিদিন গড়ে বন্দর থেকে যে ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টিইইউস কন্টেইনার খালাস হতো সেখানে ২৩শ টিইইউস কন্টেইনার খালাস হলে বন্দরের বর্তমান কন্টেইনার জটে খুব একটা পরিবর্তন আসবে না।
জানা যায়, অফডকে ৩৮ পণ্যে অতিরিক্ত যে ৬ জাতীয় পণ্য খালাসের অনুমোতি মিললো সেগুলো হলো: সকল প্রকার বীজ; সকল ধারণের ফাইবার; ঔষধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আমদানিকৃত ঔষধ প্রশাসনের অনুমোদিত ব্লক লিষ্টের পণ্য; উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আমাদানিকৃত সুতা; কীটনাশক বস্তু, ছত্রাক নাশক ও উদ্ভিদ নাশক পণ্য; উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আমদানিকৃত টায়ার কর্ড জাতীয় পণ্য।
বন্দর সূত্র জানায়, গতবছর ৩১লাখ টিইইউস কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং করে চট্টগ্রাম বন্দর। এর মধ্যে ওই ৬ জাতীয় পণ্য থাকে মাত্র ৪ শতাংশ। এর মধ্যে কিছু কিছু পণ্য আবার সিজনাল ইমপোর্ট করা হয়। তাই বর্তমানে বন্দরে ওই ৬ জাতীয় পণ্যের কন্টেইনার আছে মাত্র ২হাজার টিইইউস এর মতো। আর ঢাকা আইসিডি’র পণ্য এসএপিএল-এ যাওয়ার মতো কন্টেইনার আছে মাত্র ২৭০ টিইইউস। অর্থাৎ সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ২৩শ টিইইউস কন্টেইনার খালাস হতে পারে। যা বন্দরের জট কমাতে খুব বেশি ফলপ্রসু হবে না।
আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকা ওই দুই আদেশ এর বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু পূর্বকোণকে বলেন, অফডক থেকে যে ৬ ধরণে পণ্য ডেলিভারির অনুমোতি দেওয়া হলো সেগুলোর কিছু কিছু কাস্টমস ফ্রি পণ্য। তাই অফডকেও যাওয়ার প্রয়োজন নেই। সরাসরি জাহাজ থেকে নেমে খালাস হয়ে যায়। আর ওই ৬ ধরণের পণ্যের মধ্যে কিছু পণ্য খুব কম আমদানি করা হয়। সেগুলোর ক্ষেত্রেও কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। এসবের সাথে আছে অফডক থেকে পণ্য খালাসের হয়রানি।
তিনি আরো বলেন, বন্দর থেকে অফডকে পণ্য নিয়ে যেতে বাড়তি সাড়ে ৬হাজার টাকা খরচ বাড়বে। যার কারণে আমদানিকারদের খরচ বেড়ে গিয়ে পণ্যের দামে প্রভাব ফেলবে। সব মিলিয়ে আমদানিকারকেরা এই জারি করা আদেশের ফলে কতটুকু পণ্য খালাস করবে ভাববার বিষয়।
এদিকে বিকডার সচিব রুহুল আমিন সিকদার পূর্বকোণকে বলেন, দেশের স্বার্থে আমরা চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার জট কমাতে ১৮ হাজার টিইইউস কন্টেইনার অফডকে রাখার প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছি। কিন্তু যে ৬ জাতীয় পণ্য এনবিআর অনুমোতি দিয়েছে তাতে ঠিক বন্দর কতটুকু লাভবান হবে, বন্দরের কন্টেইনার চাপ কমবে তা নিয়ে সন্দিহান।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক পূর্বকোণকে বলেন, আমাদের প্রস্তাব ছিল বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ এর পণ্য বেসকাররি আইসিডিগুলো থেকে খালাসের ব্যবস্থা করা হোক। কারণ চট্টগ্রাম বন্দরের এই দুই সংগঠনেরই কন্টেইনার আছে ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ। আর অফডকগুলোতেও প্রায় ১৮ হাজার টিইইউস কন্টেইনার রাখার জায়গা আছে। সুতরাং বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ এর পণ্য এনবিআরের জারি করা আদেশে উল্লেখ থাকলে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম অনেক বেড়ে যেতো।
তিনি আরো বলেন, এনবিআর যে ৬ জাতীয় পণ্য অফডক থেকে খালাসের অনুমোতি দিয়েছে তাতে বন্দরের সাময়িক কাজের সুবিধা হবে। কিন্তু আমাদের আবেদন থাকবে দেশের স্বার্থে এবং বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম চলমান রাখতে এনবিআরকে আরো ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ এর কথা মাথায় রাখতে হবে।
এনবিআর এর সিদ্ধান্তে যেন আমদানিকারকেরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেই বিষয় উল্লেখ করে বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী বলেন, বিকডায় ইতিমধ্যে ২২% বর্ধিত চার্জ নিয়ে নানা ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। এখন নতুন আরো ৬ ধরণের পণ্য অফডক থেকে নিতে গেলে বাড়তি চার্জ বহন করতে হবে আমদানিকারকদের। তাই এনবিআর’র উচিত অফডকে কন্টেইনার রাখা ও ডেলিভারির ক্ষেত্রে বন্দরের ন্যায় চার্জ রেখে একটা আদেশ জারি করা।
একই বিষয়ে বলেন বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোওয়ার্ডার্স এসোসিয়েশন (বাফা)’র পরিচালক খায়রুল আমল সুজন। তিনি বলেন, নতুন ৬ ধরণের পণ্য অফডক থেকে ডেলিভারি হবে। সেগুলো আগে বন্দর থেকে হতো। ওই সব পণ্যের আমদানিকারকদের জন্য অফডক থেকে পণ্য খালাস নতুন ঝামেলা হিসেবে গণ্য হবে। আর তাদের আমদানি খরচও বেড়ে যাবে। তাই আমাদের অনুরোধ থাকবে বন্দরের সমপরিমান চার্জ যেন অফডকগুলোতেও বাস্তবায়ন করা হয়।

The Post Viewed By: 328 People

সম্পর্কিত পোস্ট