চট্টগ্রাম রবিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

২৭ এপ্রিল, ২০১৯ | ৩:৫৫ পূর্বাহ্ণ

কামরুল ইসলাম

৯ মাস ১৯ দিনে এসেছে ১৩০৪ কোটি ৮৯ লাখ ডলার

রেমিটেন্স প্রবাহ জোরদার

দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি রেমিটেন্স। জিডিপিতে এর অবদান প্রায় ১২ শতাংশ। চলতি ( ২০১৮-২০১৯) অর্থবছরের ( জুলাই-মার্চ ) প্রথম ৯ মাসে রেমিটেন্স এসেছে প্রায় ১১৮৬ কোটি ৮৯ লাখ মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় তা প্রায় ১১০ কোটি ডলার বেশি। রমজান এবং ঈদকে সামনে রেখে চলতি এপ্রিল মাসে রেমিটেন্স প্রবাহ জোরদার হয়েছে। গত ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত এ মাসের ১৯ দিনে ১১৮ কোটি ডলার এসেছে ব্যাংকিং চ্যানেলে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ এন্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে রেমিটেন্স পরিস্থিতি বেশ ভাল। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে প্রায় প্রতিটি শাখায় রেমিটেন্স হেল্প ডেস্ক চালু করা হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রেমিটেন্স তথ্য বেনিফিসিয়ারিকে দেয়া নিশ্চিত করা হয়েছে। গ্রাহকরা যাতে কোনরূপ হয়রানি না হয় সেজন্য বিভিন্ন নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে। এসব প্রেক্ষাপটে রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রেমিটেন্স বিষয়ক সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে এসেছিল ১৫৯ কোটি ৭২ লাখ। গত বছরের জানুয়ারিতে তা ছিল ১৩৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। এ বছরে ফেব্রুয়ারিতে এসেছে ১৩১ কোটি ৭৭ লাখ। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে এসেছিল ১১৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার। গত মার্চে রেমিটেন্স এসেছে ১৪৫ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। গত বছরের মার্চে এসেছিল ১২৯ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এসেছিল ১৩১ কোটি ৮১ লাখ ডলার। পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই মাসে তা ছিল ১১১ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। অবশ্য আগস্টে প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে চলতি অর্থবছরে ও গত অর্থবছরে। এবারে এসেছে ১৪১ কোটি ১০ লাখ ডলার। গত বারে এসেছিল ১৪১ কোটি ৮৫ লাখ ডলার। গত সেপ্টেম্বরে এসেছে ১১৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে এসেছিল ৮৫ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। গত অক্টোবরেও পূর্ববছরের একই মাসের তুলনায় বেশি এসেছে। ১২৩ কোটি ৯১ লাখ ডলার এসেছে গত অক্টোবরে। ২০১৭ সালের অক্টোবরে তা ছিল ১১৬ কোটি ২৭ লাখ ডলার। গত বছরের নভেম্বরে রেমিটেন্স এসেছে ১১৮ কোটি ৪ লাখ ডলার। আর ১২১ কোটি ৪৭ লাখ ডলার এসেছিল পূর্ববর্তী অর্থবছরের নভেম্বরে। ঐ অর্থবছরের ডিসেম্বরে এসেছিল ১১৬ কোটি ৩৮ লাখ ডলার এবং গত ডিসেম্বরে এসেছে ১২০ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। অর্থবছরের ৯ মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ সময়ে প্রধানত ১০টি দেশ থেকে অধিক পরিমানে রেমিটেন্স এসেছে বৈধপথে। দেশগুলো হলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইউএসএ, কুয়েত, মালয়েশিয়া, ব্রিটেন, ওমান, কাতার, ইতালি এবং বাহরাইন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে এ প্রসঙ্গে দৈনিক পূর্বকোণকে বলেছেন, বিভিন্নমুখী ব্যবস্থার ফলে হুন্ডিতে রেমিটেন্স পাঠানো নিরুৎসাহিত হয়েছে। বিশেষতঃ বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নানামুখী উদ্যোগের সুফল হিসেবে বৈধপথে রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছে।
বাংলাদেশিরা সবচেয়ে বেশি কাজ করেন মধ্যপ্রাচ্যে। তেলের দাম কমে যাওয়ায় সেসব দেশে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেয়। সে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। তাতে শ্রমিকদের সঞ্চয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। অধিক পরিমানে অর্থ দেশে পাঠাতে পারছেন। প্রতি বছর মাহে রমজান এবং দু’ঈদে নিয়মিত খরচের পাশাপাশি বাড়তি খরচ হয়। প্রবাসীরা এ জন্য টাকা সঞ্চয় করেন। সেই টাকা পাঠিয়ে দেন একসাথে। ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, মোবাইলে হুন্ডি প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়িসহ আরও বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে রেমিটেন্স প্রবাহ ইতিবাচক ধারায় ফিরে এসেছে। ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে গেছে গ্রামে-গঞ্জে, মানুষের দোরগোড়ায়। তাছাড়া, ডলারের বিপরীতে আগের তুলনায় বেশি টাকা পাওয়ায় ব্যাংকিং চ্যানেলে অধিক রেমিটেন্স পাঠানোর দিকে ঝুঁকেছেন প্রবাসীরা। আরও জানান, প্রবাসীরা প্রচুর অর্থ বাড়িতে পাঠান রমজান ও ঈদের আগে। সে কারণে রেমিটেন্সের পরিমান এ সময়ে বেড়ে যায় স্বাভাবিকের তুলনায়। প্রতি বছর দু’ঈদকে সামনে রেখে বাড়তি রেমিটেন্স আসে। বছরের অন্য ১০ মাসের তুলনায় এ সময় রেমিটেন্স আসে অধিক । অপর এক ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, প্রতিমাসে রেমিটেন্স আসে। তবে মাহে রমজানের আগে এবং ঈদের আগে রেমিটেন্সে উল্লম্ফন দেখা যায়। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি আসে। এর পরিমান ৭ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ব্যাংকিং চ্যানেল আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে। কিন্তু এখনও প্রবাসীরা অনেকটা হুন্ডি নির্ভর। অবশ্য, আগের তুলনায় কিছুটা হ্রাস পেয়েছে এই নির্ভরতা। ব্যাংকের চেয়ে অবৈধ চ্যানেলে বিনিময় হার কিছুটা বেশি থাকে। এই বাড়তি লাভের জন্য তারা চোরাপথে অর্থ পাঠান। মাহবুবুল আলম মনে করেন, যেসব দেশ থেকে অধিক রেমিটেন্স আসে সেসব দেশে ব্যাংকের কালেকশন বুথ বাড়ানো, রেমিটেন্স পাঠানোর পর দ্রুত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, সরকারি, বেসরকারি এবং বিদেশি ৫৭ টি ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স আসে। এগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। এরপরের অবস্থান অগ্রণী ব্যাংকের। শীর্ষদশে অপর ৮টি ব্যাংক হলো-ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড, সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, জনতা ব্যাংক লিমিটেড, ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, সাউথ ইস্ট ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক এবং ব্যাংক এশিয়া।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 486 People

সম্পর্কিত পোস্ট