চট্টগ্রাম শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

জলবায়ু পরিবর্তন : বদলে যাবে খাদ্যাভ্যাস

৯ জানুয়ারি, ২০২০ | ৪:২২ পূর্বাহ্ণ

নাসরিন আকতার

জলবায়ু পরিবর্তন : বদলে যাবে খাদ্যাভ্যাস

ছোলা থেকে তৈরি হবে দুধ, বার্গার হবে মাংস ছাড়াই গরুর মাংস তৈরি হবে বিজ্ঞানাগারে, প্রয়োজন পড়বে না গরু কিংবা কসাইয়ের দোকান। পান্তা খামির থেকে তৈরি হবে হ্যামবার্গার এবং এতে থাকবে না এক ছটাকও মাংস। উড়ন্ত শূককীট থেকে তৈরি হবে টুনা মাছের মতো উচ্চ ক্যালসিয়াম সম্পন্ন খাবার!

মুদি দোকানের পাশে কন্টেইনারে উৎপাদিত হবে সবজি। ছোলা থেকে তৈরি হবে দুধ। কেক তৈরির সব উপাদান পাওয়া যাবে একেবারে রেডিমেড ক্যাপসুলের ভেতর। ওভেনের ভেতর গরম করলেই তা একেবারে পরিপূর্ণ কেক হয়ে যাবে।

হতে পারে এটি কোনও বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীতে দেখানো দূর ভবিষ্যতের কোনও দৃশ্য। কিন্তু না, খাবারের জগতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন শুরু হয়েই গেছে। বাজারে আসছে নতুন নতুন উদ্ভাবন, ফুড টেক এখন গতি অর্জন করছে এবং মানুষ একটি বিষয়ে অনেক বেশি একমত হতে শুরু করেছে। আর তা হলো : জলবায়ু সংকটের কারণে মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও তা উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের এই সংকট তৈরি হচ্ছে জ্বালানি উৎপাদন, পরিবহন, শিল্পোৎপাদন ও নির্মাণের কারণে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সির মতো, এই সংকটের জন্য অন্য যেকোনও ফ্যাক্টরের চেয়ে বড় প্রভাব রাখছে খাবার উৎপাদন ও পরিবহন। গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনে বড় একটি অংশ আসে খাদ্যের জন্য পশুপালন থেকে, এ নিয়ে তেমন কোনও দ্বিমত নেই। ১০০ গ্রাম মাংস প্রোটিন উৎপাদনের জন্য ১০০ গ্রাম টফু উৎপাদনের চেয়ে ৩০ গুণ বেশি গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গত হয়। এছাড়া, বিশ্বের ৭০ শতাংশের বেশি কৃষিজমি পশুখাদ্য উৎপাদনের জন্য বরাদ্দ। ফলে জলবায়ু সংকটের জন্য কৃষি বড় একটি কারণ এবং এই সংকটের সমাধানও হতে পারে কৃষিই। আর এই সমাধান দ্রুত নিয়ে আসার জন্য ফুড টেক খাতে জড়িতরা কাজ করে যাচ্ছেন। এই শতাব্দীর মাঝামাঝিতে বিশ্বে আরও দুই থেকে তিনশ’ কোটি মানুষের খাবার প্রয়োজন হবে। এখন এই সংখ্যা ৭.৭ মিলিয়ন। চীন ও ভারতের দ্রুত প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের কারণে মাংসের চাহিদা আরও বাড়ছে। এই অগ্রগতির ফলে যে সংকট তৈরি হচ্ছে তা একেবারে স্পষ্ট: কীভাবে আরও বেশি মানুষকে খাবার দেওয়া সম্ভব হবে গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন কমিয়ে, যখন জলবায়ু পরিবর্তন খারাপের দিকে যাচ্ছে। সহজ করে বললে এই সংকটের সমাধানের উপায় হলো, কীভাবে কম জমিতে বেশি খাবার উৎপাদন করা যাবে কম জ্বালানি ও পানি ব্যবহার করে। ইতোমধ্যে এই খাতে বিভিন্ন লক্ষ্যে অগ্রগতি হয়েছে। এতে বায়োপেস্টিসাইডস ও
জিনগতভাবে পরিবর্তিত শস্য থেকে শুরু ব্যক্তিগত পুষ্টির চাহিদা মেটানোর কৃষি অন্তর্ভুক্ত। এসব পরিবর্তনের বেশ কিছু অর্থনীতি ও সামাজিক চাহিদা থেকে হলেও অনেকগুলোই স্বাস্থ্যজনিত উদ্যোগ।

প্রোটিনের উৎস সাগর
ইসরায়েলের সিয়াকুয়া খামারে কন্টেইনারে পরিশোধিত নোনা পানিতে সমুদ্র-শৈবাল উৎপাদন করা হচ্ছে। প্রথম দেখায় হবে এটি একেবারেই সমুদ্র শৈবাল। কিন্তু বাস্তবতা হলো, টানা ১৫ বছরের গবেষণার পর এই প্রজাতি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এতে মুরগির বুকের মাংসের চেয়ে ৩০ গুণ বেশি প্রোটিন রয়েছে। বিশ্বের সমুদ্র শৈবালের বাজার প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের। বেশিরভাগ উৎপাদিত হয় পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন খামারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষের খাবারে এটি যুক্ত করা হয়। তবে মূলত এটি পশুর খাবার।
ইসরায়েলি কোম্পানির এই সবুজ সমুদ্র শৈবালের নাম উলভা। যা ‘সি লেটুস’ হিসেবে বেশি পরিচিত। খামারটির এক কর্মকর্তার মতে, লাখো মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পারে সি লেটুস। এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, পটাসিয়াম, ভিটামিন এ ও কে রয়েছে। এশিয়া-বহির্ভূত ভোক্তারা হয়তো দ্রুতই সি লেটুস কিনতে আগ্রহী হবে না। কিন্তু পুষ্টিমানের পাশাপাশি এর পরিবেশগত সুবিধাও রয়েছে।
(চলবে) [সূত্র : সূত্র: হারেৎজ]

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 156 People

সম্পর্কিত পোস্ট