চট্টগ্রাম রবিবার, ৩১ মে, ২০২০

এভিগান কি সত্যিই করোনা প্রতিরোধের পথ দেখাচ্ছে?

৯ এপ্রিল, ২০২০ | ৯:০১ অপরাহ্ণ

এভিগান কি সত্যিই করোনা প্রতিরোধের পথ দেখাচ্ছে?

বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধের পথ খুঁজতে গবেষকরা মরিয়া হয়ে উঠেছেন। বিশ্বনেতারা ছুটছেন ওষুধ বা ভ্যাকসিনের পিছনে। চারিদিকে একই প্রশ্ন, কভিড-১৯ প্রতিরোধে তাহলে কোন ওষুধ নেই? ভ্যাকসিন নেই?

বিষয়টি অদ্ভুত শোনালেও এখন পর্যন্ত এই ভাইরাস দমনে কার্যকর প্রমাণিত কোন ওষুধ বের হয়নি। হয়নি আবিষ্কার কোনও ভ্যাকসিন বা টিকা। তবে এরই মধ্যে অন্তত ডজন খানেক ওষুধ যেমন ফ্যাভিপিরাভির, রেমডেসিভির, ইন্টারফেরন আলফা টুবি, রিবাভিরিন, ক্লোরোনকুইনিন, লোপিনাভির এবং আরবিডল কভিড-১৯ চিকিৎসার সারিতে জমা হয়েছে। সরাসরি নভেল করোনাভাইরাসের জন্য তৈরি না হলেও অন্য ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করা ড্রাগ কভিড-১৯ ঠেকাতে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার শুরু হয়েছে। (সূত্র-১)

এইসব এন্টিভাইরাল ওষুধের মধ্যে অন্যতম ‘জাপানের ফুজিফিল্ম তয়োমা ফার্মাসিউটিক্যালস লি.- তৈরি  ফ্যাভিপিরাভির ‘এভিগান (Avigan)’। যেটি ২০১৪ সাল থেকে ইনফ্লুয়েঞ্জার চিকিৎসার জন্য তৈরি করা হয়।  চীন উহানে কভিড-১৯ ব্যাপক প্রাণহানির পর সেই দেশের সরকার গত মার্চে দাবি করে, এভিগান ওষুধ ‘কোভিড-১৯’ প্রতিরোধে ভাল কাজ দিয়েছে। চীনের দাবির এক মাসের মধ্যে জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রী কাতসুনোবু কাতো ইঙ্গিত দেন যে ‘এভিগান’ কভিড -১৯-এর বিরুদ্ধে পরীক্ষা করার পরিকল্পনা করছে। (সূত্র ২)

আর এরপরই মূলত কভিড-১৯ জন্য এভিগানকে প্রস্তুত করতে উঠে পড়ে লাগে জাপান। এর মধ্যে গত ৩১ মার্চ ফুজিফিল্মর প্রেসিডেন্ট জুনিজি ওকাদা এক বিবৃতিতে, ফ্যাভিপিরাভিরের জেনরিকের অ্যাভিগান তৃতীয় ধাপে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করেছে দাবি করেন। কডিড-১৯ মহামারি রুখতে বিশ্বের অন্যন্য দেশের চাহিদা অনুযায়ী জাপান সরকারের পরামর্শক্রমে তারা এই ওষুধ সরবরাহ করবে জানান। (সূত্র-৩)

তৃতীয় ধাপে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে থাকা অবস্থায় ৭ এপ্রিল ২০টি দেশে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসার জন্য পরীক্ষামূলকভাবে বিনামূল্যে ফ্লু-রোধী ‘এভিগান’ ওষুধ সরবরাহের পরিকল্পনা কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী তশিমিসু মোতেগি।

শুধু তাই নয়, এভিগান সরবরাহের খরচ বাবদ ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, আলবেনিয়া, ইউক্রেন, এস্তোনিয়া, সাইপ্রাস, কসোভো, সান মেরিনো, জর্জিয়া, স্লোভেনিয়া, সার্বিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, মলদোভা, লাক্সেমবার্গ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান, সৌদি আরব এবং তুরস্ক জন্য জাতিসংঘ তহবিলে ১০ লাখ মার্কিন ডলারও দেওয়ার ঘোষণা এসেছে জাপানের পক্ষ থেকে। এছাড়া আরো ত্রিশটি দেশ এভিগান পাওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। (সূত্র-৪)

সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, এভিগানকে কভিড-১৯ প্রতিরোধী প্রমাণের জন্য ফেইজ-৩ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে জাপান সরকার বেশ আশাবাদী।

অ্যাভিগান কী এবং কিভাবে কাজ করে?

২০১৪ সালের মার্চ মাসে জাপান সরকার ফ্যাভিপিরাভির (৬-ফ্লুরো-৩-হাইড্রোক্সি-২-পাইরাজনিকারবক্সামাইড) বা এভিগানকে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস প্রতিরোধী হিসেবে ঘোষণা দেয়। এরপর থেকে এভিগান ব্যবহার শুরু হয়। (সূত্র-৫)

সাধারণত- SARS-CoV-2 আরএনএ (রাইবো নিউক্লিক এসিড) বিটা-করোনাভাইরাস। সার্স এবং মার্স মত নভেল এই করোনাভাইরাসে কিছু এনজাইম যেমন ৩-ক্রাইমোট্রিপসিন জাতীয় প্রোটিয়েজ, প্যাপেইন জাতীয় প্রোটিয়েজ, হেলিক্যাস এবং আরএনএ নির্ভর আরএনএ পলিমেরেজ (আরডিআরপি) থাকে। এই চার ধরনের এনজাইম ভাইরাসের জীবনচক্রে অতি প্রয়োজনীয়।

এছাড়া ভাইরাসের স্পাইকে গ্লাইকোপ্রোটিন রয়েছে, যেটি পোষকের কোষের বিশেষ গ্রাহক Angiotensin converting enzyme 2 (ACE2) মধ্যে দিয়ে কোষে প্রবেশ করে জেনোমিক প্রতিলিপিকরণ শুরু। আর এই পাঁচ ধরনের প্রোটিন ভাইরাসের বিস্তার ও সংক্রমণক্ষম করার জন্য যথেষ্ঠ। অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগগুলো মূলত এই প্রোটিনগুলোকে অকার্যকর করে ফেলার জন্য ডিজাইন করা হয়ে থাকে। সাধারণত ড্রাগের রাসায়নিক উপাদানের বিশেষ ক্রিয়া যখন কোন এনজাইম বা প্রোটিনগুলোর স্বাভাবিক উৎপাদনে বাঁধা দেয়, তখন ভাইরাসটি বলতে গেলে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। (সূত্র-৬)

ঠিক এইসব ভাইরাসের মত ইনফ্লুয়েঞ্জা একটি আরএনএ ভাইরাস। ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং SARS-CoV-2 দুই ভাইরাস তাদের জেনোমিক প্রতিলিপিকরণের জন্য আরএনএ নির্ভরশীল আরএনএ পলিমারেজ (আরডিআরপি) নামকে এক ধরনের এনজাইমের দরকার পড়ে, যেটি এক দণ্ডাকার আরএনএ বর্ধিতকরণে সহায়তা করে। সাধারণত এই পলিমারেজে ড্রাগ বা ওষুধ স্থাপনের জন্য বিশেষ একটি পকেট বা থলি থাকে।

আরএনএ যে চারটি উপাদান দিয়ে তৈরি সেইসব উপাদানের মধ্য অন্যতম অ্যাডেনিন ও গুয়ানিন সাদৃশ্য রাসায়নিক পদার্থ আরএনএ-নির্ভর আরএনএ পলিমারেজের ওই পকেটে গিয়ে আবাসন তৈরি করে। ফলে ভাইরাসের আরএনএ সংশ্লেষ বা সিনথেসেসিস আর এগোতে পারে না।

আরও ভিতরে আলোচনা করলে বিষয়টি বোঝা যাবে। ফ্যাভিপিরাভির মূলত এই আরএনএ গুয়ানিন থেকে তৈরি করা একটি রাসায়নিক যৌগ যেটি  আরএনএ নির্ভর আরএনএ পলিমারেজ (আরডিআরপি) কাজকে বন্ধ করে দেয় ফসফোরিবোসিলট্রান্সফরেজ এনজামের মাধ্যমে। এই এনজাইম আরএনএ গঠনগত উপাদান গুয়ানিন প্রথম দিকে ডাইফসফেট (আরডিপি) তৈরি করার সুযোগ করে দেয়, পরে তা  ফেভিপিরাবির-রাইবোফুরানোসিল -৫′ ট্রাইফসফেট (আরটিপি) তৈরি করে যা ভাইরাল আরএনএ সংশ্লেষণ সময় অতি প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহকারী রাসায়নিক উপাদান গুয়ানিন ট্রাইফসফেট বা জিটিপির সাথে আরটিপি এক ধরনের প্রতিযোগিতা তৈরি করার পরিবেশ পায়। যে কারণে, আরএনএ প্রতিলিপিকরণ বা ভাইরাসের সংখ্যা বৃদ্ধি আর সম্ভব হয় না। (সূত্র-৭)

৭ দিনে কভিড-১৯ প্রতিরোধে করে অ্যাভিগান?

গত ৮ এপ্রিল অসম্পাদিত ‘মেডিকেল আর্কাইভ (medrxiv) নামে এক প্রি-প্রিন্ট জার্নালে প্রকাশিত চীনের উহান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক Xinghuan Wang এর নেতৃত্বে এক গবেষণা প্রবন্ধে  বলা হয়, ক্লিনিকাল ট্রায়ালে অ্যাভিগান জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্ট আর এক ওষুধ আরবিডলের সাথে তুলনায় কার্যকরী যা COVID-19 এর চিকিত্সা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

তাদের গবেষণা বলছে, এভিগান ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত চীনের উহান বিশ্ববিদ্যালয়ের জংগান হাসপাতাল উহান লেসেশান হাসপাতাল এবং হুবেই প্রদেশের আর একটি হাসপাতালে ২৩৬ জন কভিড-১৯ আক্রান্ত মাত্র ৭ দিনের মধ্যে অন্তত ৬১ শতাংশ রোগী ৭ দিনে জ্বর, কাশি থেকে মুক্ত হোন। এছাড়া এইসব রোগীদের জন্য শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য কৃত্রিম অক্সিজেন সরবরাহ করার প্রয়োজন পড়েনি। অধিকাংশ কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ এবং শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা ছিল। অ্যাভিগান এইসব রোগীর শরীরে ভালভাবে কাজ করেছে বলে এই গবেষকরা দাবি করছে। তারা তাদের ডেটা চীনের http://chictr.org.cn/ জমা দেয়া হয়েছে। (সূত্র-৮)

চীনের গবেষকদের এই খবরের মধ্যে ৯ এপ্রিল ফুজিফিল্ম এক বিবৃতিতে দাবি করে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অ্যাভিগানের ক্লিনিক্যাল ফেইজ টু শুরু করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এই ক্লিনিকাল ট্রায়ালের জন্য ইতিমধ্যে ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতাল এবং ম্যাসাচুসেটস মেডিকেল স্কুলের সহায়তায় ৫০ জন কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর ওপর তারা এভিগানের পরীক্ষামূলক কাজ চালাবে। ফুজিফিল্ম কর্তৃপক্ষ মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে তারা পুরোপুরি সহায়তা দিয়ে আসবে। তারা মনে করছে এভিগানের উৎপাদন বাড়িয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই বৈশ্বিক মহামারী মোকাবেলা করা সম্ভব হবে। (সূত্র-৯)

এরও আগে গত ৩১ মার্চ ফুজিফিল্ম তৃতীয় ধাপে এভিগানের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়ার কথা জানান তারা। সর্বশেষ তথ্যে জানা যাচ্ছে, তয়োমা সিটিতে ফুজিফিল্মের যে ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিটি রয়েছে সেখানে তার কাঁচামালের জোগাড় দিতে স্থানীয় সিটি কর্পোরেশন সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ধারনা করা যাচ্ছে, বড় আকারের এভিগানের প্রস্তুতকরণের সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।

বাংলাদেশ কি এভিগান পাবে?

প্রাথমিকভাবে জাপান সরকার যে ২০ টি দেশে বিনামূল্যে এভিগান দিচ্ছে, সেই তালিকায় বাংলাদেশ নেই। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোতেগি বলছেন, “আরো ৩০ টি দেশ এ ওষুধ নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে।” তবে এই আগ্রহ দেখানোর তালিকাও বাংলাদেশ নেই বলে টোকিওস্থ জাপান দূতাবাসের কর্মকর্তারা বলছে।

আর সেটা যদি, হয় তাহলে কভিড-১৯ মহামারি রুখতে বিশ্বের অনেক দেশ এভিগান পেতে হুমড়ি খেয়ে বসবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি ইয়োহিশিদে সূগা মনে করছেন তার দেশের “সরকার অ্যাভিগান ওষুধটির ক্লিনিক্যাল গবেষণায় ইচ্ছুক দেশগুলোর সঙ্গে ব্যাপক পরিসরে এ গবেষণা করতে চায়। ফুজিফিল্মও প্রায় একই ধরনের কথা বলছে। তারা অ্যাভিগানে বিস্তৃতি বাড়ানোর জন্য স্থানীয়ভাবে উৎপাদনেরও চেষ্টা করবে।

গত ৩১ মার্চ তাদের বিবৃতিতে সরাসরি বলেছে, The drug is to be supplied only at the discretion of Japan’s Health, Labor and Welfare Ministry. It is therefore only manufactured and distributed upon request by the Japanese Government. As such, while the Japanese government has a certain stockpile of the drug, Avigan has never been distributed in the market and is not available at hospitals and pharmacies in Japan or overseas. (সূত্র-৩)।

বোঝাই যাচ্ছে, জাপান সরকার এই ওষুধটি এখনো বিক্রির পর্যায়ে নিয়ে যায়নি। তারা সরাসরি এর বিপণন ও বাজারজাতকরণে এক ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বলতে গেলে অন্য দেশে এই ওষুধ উৎপাদনের এখন পর্যন্ত বৈধ ভিত্তি নেই।

তার কারণ, প্রথমত এই ওষুধটি ক্লিনিক্যাল ফেইজ-৩ ট্রায়ালে এখনো উত্তীর্ণ হয়নি। যার ফলে, জাপান সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি বলা হচ্ছে না, যে এই ওষুধটি কভিড-১৯ প্রতিরোধী। কিন্তু বিভিন্ন দেশে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা মূলত এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অংশ বিশেষ। নিজ দেশেও করছে। আর এইসব করে যদি জাপান সরকার মনে করে যে, অ্যাভিগান কাজ করছে, তাহলে তারা মার্কেটে আনবেন।

দ্বিতীয়ত, অ্যাভিগান জাপানের বাইরে গেলে তার মান কতটুকু নিয়ন্ত্রণ করা যাবে সেটাও বিবেচ্য হচ্ছে। তারা মনে করছে, দেশের বাহিরে তারা স্থানীয় ফার্মাসিউটিক্যালসের মাধ্যমে এর উৎপাদন করবে।

তৃতীয়ত, জাপান সরকার চাচ্ছে, মহামারির এই সংকটময় অবস্থায় অ্যাভিগান উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিনামূল্যে সরবরাহ করতে।

জাপান বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু প্রতীম দেশ। স্বাধীনতার পর থেকে এই দেশ আমাদের পাশে যেভাবে দাঁড়িয়ে আছে, সেটা আমাদের চরম পাওয়া। জাপানের যখন এই আগ্রহ তখন, আমাদের দেশের সরকার বিষয়টি নিয়ে কতটা ভাবছে তা বলা কঠিন। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশের দুইটি ফার্মাসিউটিক্যালস গণমাধ্যমকে বলেছে যে, তারা ফ্যাভিপিরাভির জেনেরিকের ওষুধ তৈরি করছেন। (সূত্র -১০) দেশে ওষুধ তৈরি হলে সেটা মন্দ নয়, তবে যে দৃষ্টিভঙ্গিতে ওষুধ তৈরি করা হচ্ছে সেটা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। অ্যাভিগান জাপানে এখনো মূল্য নির্ধারণ না করলেও বাংলাদেশের কোম্পানিগুলো ৪০০ টাকা মূল্যে ওষুধ বিক্রির কথা গণমাধ্যমে জানিয়েছে। (সূত্র-১০)

এরও আগে দেশের এক সাংসদ তার নিজ কোম্পানির নামে ফ্যাবিপিরাভিরের আর একটি ওষুধের মোড়ক ফেইসবুকে তুলে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে পড়েন। দিনশেষে তিনি তা প্রত্যাহারও করেন।

সামান্য কূটনৈতিক অনুরোধে যে ওষুধটি বাংলাদেশ বিনামূল্যে পাওয়ার সম্ভাবনা রাখে, সেখানে কোন রকম ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ছাড়া দেশে ওষুধ বিক্রির ঘোষণা সরকার কিভাবে দেখছে সেটাই বিবেচনার বিষয়। এদের উৎপাদন বৈধ না অবৈধ তা দেখার দায়িত্ব সরকারের তবে অ্যাভিগান নিয়ে জাপানই যখন পরীক্ষার ভিতর রয়েছে, সেখানে আমাদের দেশে ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিদেন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অমূলক হবে না। বিশ্বের অনেক দেশ, যেখানে এই ওষুধ তৈরি করার অনুমতি মেলেনি, সেখানে আমাদের দেশ কিভাবে জনসম্মুখে এই ধরনের প্রচারনায় এলো তা আমার ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে আসে না।

অ্যাভিগান সত্যি যদি কভিড-১৯ কে প্রতিরোধ করতে পারে, তাহলে এটি হবে এই শতকের সবচে বড় অর্জন। মহামারী রুখতে, জাপানি ওষুধ ত্রাতা হিসেবে আর্বিভাব হয়েছে কি না তা দেখার জন্য আমাদের আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে যেহেতু অনেক দেশ পরীক্ষামূলকভাবে জাপানি এই ওষুধকে এগিয়ে রাখছে, সেহেতু আমাদের সরকারের উচিত হবে কূটনৈতিকভাবে অ্যাভিগান দেশের ঘরে নিয়ে যাওয়া। আশা রাখছি, অ্যাভিগানের কার্যকারিতা নিয়ে খুব শিগগির আমরা ভাল কোন খবর পেতে পারবো।

তথ্যসূত্র

১.Clinical course and risk factors for mortality of adult inpatients with COVID-19 in Wuhan, China: a retrospective cohort study. Lancet. 2020; published online Mar 11. doi:10.1016/S0140-6736(20)30566-3.

২. Japanese flu drug ‘clearly effective’ in treating coronavirus, says China

৩.  Fujifilm announces the start of a phase III clinical trial of influenza antiviral drug “Avigan Tablet” on COVID-19 and commits to increasing production

৪. Foreign Minister’s interview record

৫. Favipiravir (T-705), a novel viral RNA polymerase inhibitor, Proc Jpn Acad Ser B Phys Biol Sci. 2017;93(7):449-463. doi: 10.2183/pjab.93.027.

৬.. Therapeutic options for the 2019 novel coronavirus (2019-nCoV), Nature Reviews Drug Discovery 19, 149-150 (2020)doi: 10.1038/d41573-020-00016-0

৭. New Nucleoside Analogues for the Treatment of Hemorrhagic Fever Virus Infections; Chem. Asian J. 2019, 14,3962–3968

৮. https://www.medrxiv.org/content/10.1101/2020.03.17.20037432v3

৯. Fujifilm announces the start of a phase II clinical trial of its influenza antiviral drug “Avigan® Tablet” for COVID-19 patients in the U.S.

১০.Local pharmaceuticals producing anti-flu drug that holds hope of Covid-19 cure

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

পূর্বকোণ/আরপি

The Post Viewed By: 556 People

সম্পর্কিত পোস্ট