চট্টগ্রাম রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০

সর্বশেষ:

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ৩:১৩ অপরাহ্ণ

মোহাম্মদ আলী

সংকটে-দুশ্চিন্তায় প্রবাসীরা দেশে আটকে পড়া

দেশে আটকা পড়া প্রবাসীদের অনিশ্চয়তা এখনো কাটছে না। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার ছাড়া এখনো অন্য দেশসমূহের প্রবাসীরা কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। করোনার কারণে সরাসরি বিমান চলাচল বন্ধ এবং কর্মস্থলে ফিরতে সেসব দেশের অনুমতি না থাকায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন প্রবাসীরা।

করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার আগে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান, বাহরাইনসহ অন্যান্য দেশসমূহ থেকে ছুটি কাটাতে দেশে আসে প্রবাসীরা। কিন্তু করোনার কারণে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা আর কর্মস্থলে ফিরতে পারেননি। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিমানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের কিছু কিছু প্রবাসী যাওয়ার সুযোগ হলেও অন্য দেশসমূহের প্রবাসীরা এখনো দেশে আটকে আছেন। এ কারণে প্রতিদিন তারা ট্রাভেল এজেন্টগুলোর অফিসে ধর্ণা দিচ্ছেন। কিন্তু কেউ কোনো আশ্বাস দিতে পারছেন না। অন্যদিকে, দেশে আটকে থাকার পর অর্থকষ্টে পড়েছেন প্রবাসীদের বড় একটি অংশ। প্রতিদিন শত শত প্রবাসীর পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তার আবেদন পড়ছে জনশক্তির কার্যালয়গুলোয়। চট্টগ্রামে এমন বিপুল সংখ্যক প্রবাসী আর্থিক অনুদানও চেয়েছেন। অনেকে ঋণ সহায়তার আবেদনও করছেন। কিন্তু কোনোটিতেই এখন পর্যন্ত সেভাবে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস, চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল আলম মজুমদার দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘দেশে প্রবাসীদের অনেকে আমাদের অফিসে আসছেন। তারা পুনরায় কর্মস্থলে ফেরার তথ্য চাইছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার ছাড়া অন্য কোন দেশে প্রবাসীরা যেতে পারছে না। দেশে আটকে পড়া প্রবাসীদের অন্যান্য দেশসমূহে পাঠাতে সরকার সব রকমের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সেইসব দেশের অনুমতি পেলে প্রবাসীরা যেতে পারবেন। আশাকরছি আগামী অক্টোবরের শুরুতে সংকট কিছুটা কাটতে পারে’।
মোহাম্মদ জহিরুল আলম মজুমদার বলেন, ‘প্রতিদিন দেশে আটকা পড়া প্রবাসীদের অনেকে আমাদের অফিসে আসছেন। তারা কর্মস্থলে ফিরতে নানা তথ্য জানতে চাইছেন। অনেকে আর্থিক সংকটের কথা বলে সরকারের কাছে আবেদনও করছেন’।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, করোনার কারণে দেশে আটকে পড়া প্রবাসীদের সংখ্যা হবে কয়েক লক্ষ। এরমধ্যে চট্টগ্রামের হবে লক্ষাধিক। এসব প্রবাসী ২০১৯ সালের নভেম্বর, ডিসেম্বর এবং চলতি বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ছুটি কাটাতে দেশে আসেন। কিন্তু করোনার সংক্রমণ শুরু হলে তারা দেশে আটকা পড়েন। বর্তমানে অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। অনেকে দেশে থাকা অবস্থায় চাকরিও হারিয়েছেন। যারা ব্যবসায় জড়িত তাদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে আরো বেশি।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী আয়ে বাংলাদেশ পৃথিবীর শীর্ষ ১০ দেশের একটি। বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য বলছে, ১৯৭৬ সাল থেকে এখন পযর্ন্ত এক কোটিরও বেশি বাংলাদেশি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কাজ করতে গেছেন। তারা সবমিলিয়ে দুই লাখ ১৭ হাজার মিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় পাঠিয়েছেন। তবে করোনার কারণে পুরো অভিবাসন খাতটা সংকটে পড়েছে। বর্তমানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ৭৫ শতাংশই আছেন মধ্যপ্রাচ্যে। এককভাবে শুধু সৌদি আরবেই আছেন ২০ লাখ বাংলাদেশি। আরব আমিরাতে আছেন অন্তত ১৫ লাখ। এছাড়া কাতার, কুয়েত, ওমান, বাহরাইনে গড়ে তিন থেকে চার লাখ বাংলাদেশি আছেন। একে তো করোনা তার ওপর জ্বালানি তেলের দাম একেবারেই কমে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নানা সংকট তৈরি হয়েছে। ওদিকে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশিরাও একইভাবে নানা সংকটের মধ্যে আছেন।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 143 People

সম্পর্কিত পোস্ট