চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২০

২৬ জুলাই, ২০২০ | ২:০৮ অপরাহ্ণ

মোহাম্মদ আলী

করোনার প্রভাব পড়েছে ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও

নিষ্প্রাণ ঈদুল আযহা পালনের প্রস্তুতি রাজনৈতিক নেতাদের

নিষ্প্রাণ ঈদুল ফিতর উদযাপনের পর এবার একইভাবে ঈদুল আযহা পালন করবেন চট্টগ্রামের রাজনৈতিক নেতারা। পারিবারিকভাবে ঈদুল ফিতর আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। সেখানে থাকবেন না কর্মীরা। করোনার ঝুঁকি এড়াতে রাজনৈতিক নেতারা তাদের দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙ্গে এভাবে ঈদুল আযহা উদযাপন করবেন বলে জানা গেছে।

দেশে বড় দুই ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা ঘিরে রাজনৈতিক নেতাদের ঘরে কর্মীদের সরব উপস্থিতি থাকতো। আয়োজন করা হতো রকমারি খাবারের। ওইদিন কর্মীরা বাড়িতে এসে নেতার সাথে কৌশল ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করে থাকেন। কিন্তু করোনা আতঙ্কের কারণে নেতাদের ঘরে গত ঈদুল ফিতর উদযাপন অনেকটা নিষ্প্রাণ ছিল। কর্মীরা পা মাড়াননি নেতাদের ঘরে। এমনকি নেতাদের অনেকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামেও আসেননি। অনেকটা নিরবে কেটে গিয়েছিল ঈদ। কিন্তু এবারও তার কোন ব্যত্যয় হবে না। করোনা আতঙ্কের মধ্যে এবার ঈদুল আযহা পালন করবেন রাজনৈতিক নেতারা। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ রাজনৈতিক নেতাদের কেউ কেউ করোনা আক্রান্ত। কেউ কেউ করোনা মুক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন বেশ কয়েকজন। এ কারণে করোনা প্রভাব পড়েছে রাজনীতি মাঠে। করোনা সংশ্লিষ্ট জরুরি কোন কাজ ছাড়া অন্য কোন কর্মসূচি পালন করছেন না রাজনৈতিক নেতারা। তাই নিষ্প্রাণ ঈদুল ফিতর আয়োজনের পর এবার একইভাবে ঈদুল আযহা পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন চট্টগ্রামের রাজনৈতিক নেতারা।

রাজনৈতিক নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, করোনা সংক্রমণ শুরুর পর এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কমপক্ষে ৩০ নেতাকর্মী মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন শতাধিক নেতাকর্মী। এছাড়াও আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন অনেকে। করোনা আতঙ্কের কারণে রাজনীতির স্বাভাবিক কর্মকান্ডও বন্ধ রয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে ঈদেও।

এদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, করোনায় নগর, থানা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের কমপক্ষে ৭ নেতা মারা গেছেন।

মহানগর বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক মো. ইদ্রিস আলী দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘করোনায় বিএনপির কমপক্ষে ৮ নেতার মৃত্যু এবং কমপক্ষে ২০ নেতাকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন।

রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রাজনীতি ছাড়াও করোনার প্রভাব পড়েছে ধর্মীয় অনুষ্ঠানসমূহে। থমকে আছে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ প্রায় সবক’টি রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড। তবে বড় দল দুটি করোনা ইস্যুতে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মাধ্যমে মাঠ গরমের চেষ্টা করলেও বাকিগুলো গণমাধ্যমে বিবৃতি দেয়ার মধ্যেই পুরোপুরি সীমাবদ্ধ। করোনাভাইরাস মহামারি রূপ ধারণ করায় একে একে সবকিছুতেই আঘাত হেনেছে। রাষ্ট্রীয়, সরকারি-বেসরকারি, সামাজিক ও পারিবারিক অঙ্গনের বহু পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠান স্থগিত বা বাতিল হয়ে গেছে। ভাইরাসটি শনাক্ত হওয়ার পর থেকে বদলে যেতে শুরু করে রাজনীতির অঙ্গনও। একের পর এক সংকুচিত ও বাতিল হতে থাকে রাষ্ট্রীয় এবং সরকারি বিভিন্ন আয়োজন। সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোও স্থগিত করতে বাধ্য হয় তাদের বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচি। কোনো দলই জনসমাগমের মতো কর্মসূচির কথা আপাতত আর ভাবছে না। এর মধ্যে বড় দুই ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা ঘিরে তাদের বিভিন্ন কর্মসূচি থাকলেও তাও বাতিল করেছেন নেতারা। এ নিয়ে হতাশ কর্মীরা।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 387 People

সম্পর্কিত পোস্ট