চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

৫ মে, ২০১৯ | ২:৪১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদদাতা , সাতকানিয়া

এওচিয়া সরকারি স্কুলের বিভিন্ন কক্ষে ফাটল, পলেস্তারা খসে পড়ছে

ঝুঁকিতে ভবন, ঝুঁকিপূর্ণ জীবন

সাতকানিয়ায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের বিভিন্ন কক্ষে ফাটল ও পলেস্তারা উঠে গিয়ে পিলারের রড বের হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছে। ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় মৃদু ভূ-কম্পনেও ভবন ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য অনেক তদবির করে কোন সুরাহা না হওয়ায় প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা। সম্প্রতি উপজেলার উত্তর এওচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী, বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য ও শিক্ষকদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নের উত্তর এওচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সাতকানিয়া-বাঁশখালী সড়কের পার্শ্ববর্তী কাঞ্চনা জোটপুকুরিয়া বাজার ও শান্তিরটেক এলাকার মাঝামাঝি স্থানে খাঁন মোহাম্মদের বাড়ি এলাকায় অবস্থিত।
সম্প্রতি বিদ্যালয়টি সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকতেই দেখা যায়, হাতের বাম পাশের সেমিপাকা টিনসেটের একটি ভবন। সে ভবনে বসে ঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীরা। দরজা-জানালা ভাঙ্গা। ভবনের পিলার থেকে পলেস্তারা উঠে গিয়ে বের হয়ে গেছে লোহার রড। উপরে ফুটো হয়ে গেছে টিনের চালা। ভেঙ্গে গেছে টিনের চালার সাথে লাগোয়া গাছের বিমগুলো। মনে হচ্ছে এ মুহূর্তেই চালাটি ভেঙ্গে নিচে পড়ে ঘটতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা। এ ভবনটি দক্ষিণ-পূর্ব পার্শ্বে রয়েছে ৩ কক্ষ বিশিষ্ট ছাদ জমানো একটি পাকা ভবন। যেটি ১৯৯৫ সালে এলজিইডি নির্মাণ করেন। ভবনের ৩টি কক্ষের

মধ্যে ২টি শ্রেণিকক্ষ ও ১টি শিক্ষকদের অফিস হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। পরিদর্শনে আরো দেখা যায়, শিক্ষকরা ক্লাস নেয়ার সময় শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি শিক্ষক বা বোর্ডের দিকে নয়, তারা তাকিয়ে থাকে ওপরে, ভবনের ছাদে-এই বুঝি ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ল। একই অবস্থা অফিস কক্ষে বসা প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকদেরও। এভাবেই দিনের পর দিন আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস করছে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুল মজিদ বলেন, এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত ভবনটির নির্মাণকাজে ত্রুটির কারণে ২৪বছরের ব্যবধানে ভবনটি মৃত্যু ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তি রাণী ধর বলেন, বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩শ। দুই শিফটে নেয়া হয় ক্লাস। এ ব্যাপারে এমপি মহোদয় এ বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে মন্ত্রণালয়ে তালিকা প্রেরণ করেছেন। শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকার পরও অনেক কষ্ট ও গাদাগাদি করে হলেও চলমান রাখতে হয় শ্রেণি কার্যক্রম।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জসীম মাহমুদ বলেন, অনেক চেষ্টা তদবীর করেও বিদ্যালয়ের শ্রেণি সংকট থেকে উত্তোরণ হওয়া যায়নি। তবুও নিরুপায় হয়ে মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকায় শ্রেণির পাঠদান চলমান রাখতে হয়।
এ বিদ্যালয়টি ছাড়া আমার ইউনিয়নের আরো ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবন নির্মিত হবে।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 328 People

সম্পর্কিত পোস্ট