চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

২৭ এপ্রিল, ২০১৯ | ৩:২৭ পূর্বাহ্ণ

ইমরান বিন ছবুর

তহোস্টেলে আবাসন ২৫০ শিক্ষার্থীর

তিন বছর পর চালু হচ্ছে চট্টগ্রাম কলেজ হোস্টেল

তিন বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর অবশেষে চালু হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম কলেজের হোস্টেল। একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরুর সাথে সাথে ১ জুলাই থেকে তিনটি হোস্টেল চালু করার কথা জানিয়েছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি একাডেমিক কাউন্সিলিং মিটিংয়ে এ তিনটি হোস্টেল চালু করার এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। হোস্টেল তিনটির মধ্যে দুটি মেয়েদের এবং একটি ছেলেদের। হোস্টেলগুলোতে আবাসন সুবিধা পাবে প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী। ২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর ছাত্রশিবির ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষের পর চট্টগ্রাম কলেজের তিনটি ছাত্রাবাস ও একটি ছাত্রীনিবাস বন্ধ ঘোষণা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এই তিনটি হোস্টেল চালু হলে কিছুটা হলেও শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা দূর হবে বলে জানান শিক্ষার্থীরা। এ সম্পর্কে চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হাসান বলেন, চট্টগ্রাম কলেজ বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কলেজ। ছাত্র-ছাত্রীরা অনেক আশা নিয়ে এই কলেজে ভর্তি হয়।
হোস্টেলে থেকে শিক্ষার্থীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে লেখাপড়া করে ভালো রেজাল্ট করবে। কিন্তু ২০১৫ সাল থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা হোস্টেলের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। যারা শহরের মধ্যে রয়েছে, তাদের তেমন কোনো অসুবিধা না হলেও দূরদূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের হোস্টেলের প্রয়োজন রয়েছে। গ্রাম থেকে আসা একজন দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীর ভালো রেজাল্ট থাকার পরও হোস্টেল সুবিধা না থাকায় সে চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হতে চায় না। কারণ ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ করে কোনো প্রাইভেট হোস্টেলে থাকার সামর্থ্য গ্রামের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর নেই। ফলে ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম কলেজ মেধাবী শিক্ষার্থী থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই আমরা মন্ত্রণালয়কে এই ব্যাপারে জানাবো। যাতে সঠিক সময়ের মধ্যে হোস্টেলগুলো চালু করা যায়।
তিনি আরো বলেন, আগামী ১ জুলাই থেকে তিনটি হোস্টেল চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। তারমধ্যে দুটি মেয়েদের এবং একটি ছেলেদের। এতে প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পাবে। মেয়েদের দুটি হোস্টেলে ১০০ করে মোট ২০০ এবং ছেলেদের হোস্টেলে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা পাবে। মেয়েদের দুটি হোস্টেলের মধ্যে একটি নতুন আর একটি পুরাতন। আর ছাত্রদের জন্য (অমুসলিম) সোহরাওয়ার্দী বি-ব্লকের হোস্টেলটি খুলে দেওয়া হবে। এছাড়া আর বাকি যে তিনটি হোস্টেল রয়েছে- সবুর, সোহরাওয়ার্দী (বড় সোহরাওয়ার্দী) এবং শেরেবাংলা এগুলো প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। এগুলো যদি খুলতেও হয়, আরো সময় লাগবে। এতে অনেক খরচের প্রয়োজন রয়েছে। এগুলোর জন্য আমরা ইতোমধ্যে আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছি।
হোস্টেল চালু করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, এই তিনটি হোস্টেল চালু হলে শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা কিছুটা হলেও লাঘব হবে। আবাসিক সুবিধা না থাকায় গ্রাম থেকে আসা অনেক দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হতে চায় না। অনেক বছর ধরে হোস্টেলগুলো বন্ধ রয়েছে। তাই কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের আবেদন থাকবে যাতে দ্রুত হোস্টেলগুলো চালু করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। সরকারি কলেজ হোস্টেলে অল্প টাকায় থাকা-খাওয়া এবং লেখাপড়ার একটা সুষ্ঠু পরিবেশ থাকে। কিন্তু বাইরে থাকতে গেলে অনেক বেশি টাকার প্রয়োজন হয়। এছাড়া অনেক সময়ও নষ্ট হয়।
চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিম বলেন, হোস্টেল বন্ধ থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু হুট করে হোস্টেল চালু করা ঠিক হবে না। কারণ শিবিরের ছেলেরা হোস্টেলে প্রবেশ করে আবার কলেজ দখল করতে চাইবে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আড়ালে যাতে শিবিরের ছেলে-মেয়েরা হোস্টেলে প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে। আর হোস্টেল চালু করার আগে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়াটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 759 People

সম্পর্কিত পোস্ট