চট্টগ্রাম সোমবার, ২৫ মে, ২০২০

মন্দবাগে ট্রেন দুর্ঘটনা ও আমার অনুভূতি

২০ জানুয়ারি, ২০২০ | ৬:১১ পূর্বাহ্ণ

মন্দবাগে ট্রেন দুর্ঘটনা ও আমার অনুভূতি

গত ১২.১১.১৯ ইং রাত ২.৪৮ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগ স্টেশনের কাছাকাছি জায়গায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী তুর্ণা নিশীথা ও সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের মধ্যে যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে আমি তখন তুর্ণা নিশীথার যাত্রী ছিলাম। ফলে ঐ দুর্ঘটনার সময় থেকে শুরু করে পুনরায় ঐ ট্রেনে করে দুপুর ২টায় বিমানবন্দর স্টেশনে পৌঁছা পর্যন্ত সবকিছু কাছে থেকে দেখার অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে। ঐ সময় প্রচ- ঝাঁকুনী দিয়ে, রীতিমত হার্ড ব্রেক করে তুর্ণা নিশীথা ট্রেনটি থেমে যায়। আমরা যারা ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম হঠাৎ জেগে উঠি অনেকে সিট থেকে পড়ে যায়। পাশের জানালা খুলতেই দেখি বাইরে ঘন কুয়াশা এবং উদয়ন এক্সপ্রেসের সামনের দিকের অক্ষত বগীর যাত্রীরা দৌড়ে পিছনের দিকে যাচ্ছে উদ্ধার করার জন্য। এটা দেখে আমাদের ট্রেনের যাত্রীরাও উদ্ধার করার জন্য ট্রেন থেকে নিচে নামে। তাৎক্ষণাৎ আমি যা দেখলাম তা গা শিউরে উঠার মতো। উদয়ন এক্সপ্রেসের হলুদ পুরাতন বগীগুলো একটা অন্যটার উপর উঠে গেছে, এমনকি আংশিক বগী তুর্ণা নিশীথার ইঞ্জিনের উপরও উঠে আছে। উদয়ন এক্সপ্রেসের ১ম বগীটা চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে সম্পূর্ণ লাকড়িতে পরিণত হয়েছে এবং সর্বশেষ এবং ৪র্থ বগীটা অক্ষত অবস্থায় লাইনের উপর দাঁড়িয়ে আছে।

একজন ড্রাইভারকে ট্রেনে চালানোর দায়িত্ব দেয়ার আগে তার পঞ্চ ইন্দ্রিয় সচল আছে কিনা তা যাচাই করা প্রয়োজন। চক্ষু, কর্ণ, জিহ্বা, নাসিকা ও ত্বক সক্রিয়ভাবে কাজ করলে এ গুরুদায়িত্ব পালনের উপযুক্ত। সহকারী চালকেরও একই গুণ থাকা প্রয়োজন। যে ড্রাইভারের বিগত রাতে ঘুম হয়নি, অথবা অসুস্থ অথবা ঐ মুহূর্তে মানসিক টেনশনের কারণে ট্রেন চালাতে অপারগতা প্রকাশ করছে তাকে এ দায়িত্ব দেয়া থেকে তাৎক্ষণিক বিরত রাখা দরকার। আমাদের ঐ সময় মনে হয়েছিল ভুল ঝরমহধষ এর কারণে ট্রেন দুর্ঘটনা হয়েছে। কারণ যাই হোক অবশ্যই কয়েক কোটি টাকা দামের ইঞ্জিনে ঈঈ ঈধসবৎধ লাগানে আছে। আর যাতে ড্রাইভার বা ঝরমহধষ ম্যানের ভুলের কারণে এমন দুর্ঘটনা না ঘটে।

মো. শহীদুল আমিন জোলাহাটী,
২০৪৪, ডি.টি. রোড, আব্দুল আলী হাট, চট্টগ্রাম।

The Post Viewed By: 77 People

সম্পর্কিত পোস্ট