চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০

হেদায়তময় শান্তির সোনালী আলোকবর্তিকা হযরত গাউছুল আজম (রা.)

২০ জানুয়ারি, ২০২০ | ৬:১১ পূর্বাহ্ণ

মুহাম্মদ রাশেদ হায়দার মহিউদ্দীন

হেদায়তময় শান্তির সোনালী আলোকবর্তিকা হযরত গাউছুল আজম (রা.)

মরু আরবের শুষ্ক প্রান্তর হতে ইসলামের যে বীজ আল্লাহর হাবীব (দ.) বপন করেছিলেন তা আজ ফুলে-ফলে সুশোভিত হয়ে ধরণীর প্রান্তে প্রান্তে সকলকে করছে মুগ্ধ-বিমুগ্ধ বিমোহিত, যাঁর পরশে সমগ্র সৃষ্টি হচ্ছে সম্মোহিত, সমাদৃত এবং সম্মানিত। ইসলামের এই যুগান্তকারী বিস্তৃতি এবং ব্যাপকতার নেপথ্যে যাঁরা ত্যাগ শ্রম এবং কোরবানির মাধ্যমে সুবিশাল অবদান রাখার মধ্য দিয়ে ইতিহাসের আলোয় উদ্ভাসিত তাঁদের সকলের যে শক্তি ছিল তা হলো ঈমানের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে তাওহীদকে বুকে ধারণ করে এশকে মোস্তফার অনুশীলন নবী (দ.) কে পরিপূর্ণ অনুসরণ এবং অনুকরণ।

প্রিয় রাসুল (দ.) এঁর এ ভালবাসাময় আকুলতায় তাঁরা হয়েছেন সৃষ্টির দিশারী, পথহারাদের পাঞ্জেরী। তাদের নূরাণী কর্ণকুহরে যেন প্রতিনিয়ত ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হয় নিপীড়িতদের আহাজারি, বঞ্চিতদের রোনাজারি।একজন মানুষকে যে সুমহান উদ্দেশ্য নিয়ে খোদা তাঁর প্রিয়তম সৃষ্টিরূপে দুনিয়াতে পাঠায় মানুষ যখন তা ভুলে যায় তখন খোদার প্রতিনিধি হয়ে নবী (দ.) এঁর আদর্শকে বাস্তবায়ন করার মধ্য দিয়ে সলফে সালেহীনগণ তথা যুগের যাঁরা সংস্কারক থাকেন তাঁরা দায়িত্ব গ্রহণ করেন সে সমস্ত পথভোলা মানুষকে খোদার পথে এনে জান্নাতের সুঘ্রাণ দেয়ার।

আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া একবিংশ শতাব্দির মাহেন্দ্রক্ষণে প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতার সময়ে নবীপ্রেমের বিন্যাসে এমন একজন কালজয়ী রাহবারকে আমরা পেয়েছি যিনি নূরে মোস্তফার সংস্পর্শে মানুষকে এমনভাবে পরিচালিত করছেন যে পথের শেষে অনাবিল প্রশান্তি, দূর হয় জীবনের ভ্রান্তি, আসে না এবাদতে ক্লান্তি, ক্বলবে অনুভূত হয় খোদায়ী শান্তি, ঈমান ও আখলাকে পাই হেদায়তময় তৃপ্তি, জীবনে জ¦লে উঠে নবীপ্রেমের দীপ্তি, দু’জাহানে হয় বেহেশতি প্রশান্তময় প্রাপ্তি। একজন বান্দা যখন গুনাহর সাগরে হাবুডুবু খেতে খেতে খোদাকে বেমালুম ভুলে যায় তখন সে যদি কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফে আসে তখন হযরত গাউছুল আজম (রা.) বক্ষ নিঃসৃত নবী (দ.) নূরেপাক গ্রহণ করে তখন তার জীবন ঐশী কৃপায় ভরপুর হয়ে উঠে। হাদীস শরীফে বর্ণিত রয়েছে যে ব্যক্তি এ নূর গ্রহণ করবেন তার তিনটি পরিবর্তন জীবনে আসবে ১) সে দুনিয়া থেকে হালকা হয়ে যাবে, আখেরাতের দিকে ধাবিত হবে; ২) সবসময় মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকবে; ৩) ইসলামের জন্য তার বক্ষ প্রসারিত হয়ে যাবে। এ নূরেপাক গ্রহণের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনগুলো দৃশ্যমান হয় তা যেন আজ বাস্তব গাউছুল আজমের অনুসারীদের মাঝে। এ নূরের প্রভাবে মানুষ আশেকে রাসুলে পরিণত হয়। যার হৃদয়ে নবীর প্রেম থাকে তার জীবনতো সুন্নতের অলংকারে সুসজ্জিত থাকবে। তার চলাফেরায় চিন্তাধারায় কথাবার্তায় ইসলামের জ্যোতি, সুন্নতের প্রীতি, খোদার ভীতি হবে দৃশ্যমান, নফসের প্রভাব হবে ¤্রয়িমান, ইনসানিয়্যত হবে বেগবান। সর্বোপরি খুঁজে পাবে এহসান তথা খোদার সন্ধান, মারেফতের সুঘ্রাণ। এ মহান তরিক্বতের আরেকটি মহামূল্যবান নেয়ামত হল ফয়েজে কোরআন তথা কোরআনের নূর। যেথায় মিলে হাকীক্বতের সুধা শরাফত, যার ঝলকানিতে ক্বলবে উঠে আল্লাহ আল্লাহ সুরের মহা ঝংকার, হৃদয়ে সাজে নবী প্রেমের অলংকার ঐ ব্যক্তিকে নিয়েই যেন জাতে পাকের অহংকার। অশ্রুজলে বিনীত প্রার্থনায় এরকম অগণিত ইনসানে কামেল সৃষ্টির রূপকার হযরত গাউছুল আজম (রা.)। এ মহান ব্যক্তিত্বের অবদান স্বরূপ উনি পেয়েছেন খলিফাতুর রাসুলের দুর্লভ মকাম, খলিলুল্লাহ উপাধি, গাউছিয়্যতের আসনে হয়েছেন উপবিষ্ট।

তাইতো তাঁর সংস্পর্শে অশান্ত হৃদয় হয়ে যায় শান্ত-শিষ্ট, সাধারণ ব্যক্তিও হয়ে উঠে বিশিষ্ট, আচারে ব্যবহারে হয় সুমিষ্ট, সবর শোকরের আসনে হয় অধীষ্ট, এবাদতে হয় আকৃষ্ট, দূর হয় জীবনের যত কষ্ট, হয়না কখনো পথভ্রষ্ট, শয়তানি ওসওয়াসা তাকে করতে পারেনা নষ্ট, এভাবেই হয়ে উঠে সৃষ্টিতে শ্রেষ্ঠ। গাউছিয়্যতের সোনালী আলোর রূপালী ছটা আজ ছড়িয়ে পড়েছে বিশে^র প্রান্ত হতে প্রান্তে সমস্ত দিগন্তে।
অদ্ভুত এক প্রশান্তিমাখা, ঘুম ভাঙানিয়া, জীবন জাগানিয়া, নফস দমনীয়া, রূহ রাঙানিয়া ঈমানোদ্দিপ্ত চেতনায় হযরত গাউছুল আজম সৃষ্টিকে করেছেন খোদা প্রেমের আহ্লাদে ভরপুর, বাজিয়েছেন নবীপ্রেমের সুরাসুর। নবীর দয়ায়-মায়ায় উনার ঠিকানায় মিলে প্রেমের আস্বাদন, নূরের প্রস্বেদন, চির শান্তির নিঃসরণ, প্রেম পিয়াসি করে চলে তা আহরণ, যার সুবাসে আভাসে জাগে ঐশী শিহরণ।

নিপীড়িত জীবনের তিনি প্রেমসুখ জড়ানো আক্বা, ঘোর আঁধারে উদ্ভাসিত হেদায়তময় শান্তির আলোকবর্তিকা। প্রেম শান্তির এই শাশ^ত পয়গামকে বিশ^বাসীর কাছে পৌঁছে দেবার জন্য ইনশাআল্লাহ আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক তরিক্বত কনফারেন্স। যেখানে হবে হেদায়তের সুধা মাখা প্রেম নূর বিনিময়, হুব্বে মোস্তফা চির মধুময়, তৌহিদী জ্যোতি বসন্তময়, মারেফতের অমৃত আধার রহমতময়, হাকীক্বতের ঝলকানি অপরূপ আলোময় সর্বোপরি গাউছিয়্যতের ফুয়ুজাতভরা রেজায়ে খোদার লীলাময়।

The Post Viewed By: 90 People

সম্পর্কিত পোস্ট