চট্টগ্রাম শনিবার, ০৪ জুলাই, ২০২০

সর্বশেষ:

যুক্তরাজ্যের মধ্যবর্তী নির্বাচন কনজারভেটিভ দলের বিজয়, ব্রেক্সিট এবং সম্ভাব্য নতুন সংকট

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ | ৩:৪২ পূর্বাহ্ণ

ফরিদুল আলম

যুক্তরাজ্যের মধ্যবর্তী নির্বাচন কনজারভেটিভ দলের বিজয়, ব্রেক্সিট এবং সম্ভাব্য নতুন সংকট

যুক্তরাজ্যে গত ১৩ ডিসেম্বরের সাধারণ নির্বাচনটি ছিল মধ্যবর্তী নির্বাচন। গত ৫ বছরের কম সময়ের মধ্যে তৃতীয় দফার এই নির্বাচনের শেষ দুটি ছিল ব্রেক্সিটকেন্দ্রিক। ২০১৬ সালের জুন মাসে এক গণভোটে বৃটেনের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে নিজ দেশকে বের করে আনতে এক যুগান্তকারী রায় দেন, যা ব্রেক্সিট নামে পরিচিত। ব্রেক্সিট নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠানের পর ইইউ’র নীতি অনুযায়ী সংস্থাটি থেকে বের হয়ে আসতে পরবর্তী দুই বছর সময় নির্ধারিত থাকলেও এই সময়ের মধ্যে দুপক্ষ্যের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য বিচ্ছেদ চুক্তি, যা ডিভোর্স বিল নামে পরিচিত। এর বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। আর এটা হয়নি সেদেশের হাউস অব কমন্সে সরকারী দলের কিছু আইনপ্রণেতাদের পাশাপাশি বিরোধী লেবার পার্টির বিরোধিতার কারণে। ডেভিড ক্যামেরুন প্রধানমন্ত্রী থাকাবস্থায় এই গণভোট অনুষ্ঠিত হলেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে ব্রেক্সিটের বিপক্ষে ছিলেন এবং ব্রেক্সিটের পক্ষে গণরায়ের ফলে তার নৈতিক অবস্থান থেকে তিনি ইস্তফা দানের পর তেরেসা মে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি সমাধানের চেষ্টা করতে গিয়ে বিরোধিতার সম্মুখীন হলে ২০১৭ সালে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনের ডাক দেন। সে নির্বাচনে কনজারভেটিভ দল সরকার গঠনের যথেষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করতে ব্যর্থ হয়ে ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির সাথে সমঝোতা করে সরকার গঠন করেন। এর পর থেকে ইইউ’র সাথে আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি খসড়া চুক্তিতে উপনীত হলেও বিপত্তি বাঁধে তা সংসদে পাশ করানো নিয়ে। তার নিজ দল এবং বিরোধী দলগুলো এই খসড়া চুক্তিকে জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী হিসেবে রায় দিয়ে এটি অনুমোদন করতে অপারগতার পরিপ্রেক্ষিতে একপর্যায়ে মে কেও পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয় এবং বরিস জনসন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দলের পক্ষ থেকে মনোনীত হন। তিনি এবার হাঁটেন অন্যপথে, কোন প্রকার চুক্তি ব্যতিরেকে তিনি নিজ দেশকে ইইউ থেকে বের করে আনতে আইন প্রণেতাদের সমর্থন চান। এক্ষেত্রেও ব্যর্থ হলে তাকেও আরেকবারের মত সাধারণ নির্বাচনের ডাক দিতে হয়। এদিকে প্রধান বিরোধী পক্ষ লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন যেন এই সুযোগটাই খুঁজছিলেন। তিনি যেকোন উপায়ে আরেকটি সাধারণ নির্বাচন আয়োজনে ব্রেক্সিট নিয়ে ক্রমাগতভাবে সরকারের পরিকল্পনার বিপরীতে গিয়ে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। তার ধারণা ছিল যে ইতোমধ্যে তিনিজন প্রধানমন্ত্রী এটি কার্যকর করতে যেহেতু ব্যর্থ হয়েছেন, সেক্ষেত্রে জনমতের ক্ষেত্রে এর প্রতিফলন ঘটবে। বাস্তবে ঘটল তার ঠিক উল্টো।
এখন মূল কথা হচ্ছে, কেন যুক্তরাজ্যের ভেতর ইউরোপীয় ইউনিয়নবিরোধী মনোভাব হঠাৎ করে এমন দানা বেধে উঠল। বিষয়টি যতটুকু জাতীয় স্বার্থের নিরিখে দেখার প্রচেষ্টা তার চেয়ে অনেক বেশী রাজনৈতিকভাবে জনমতকে নিজেদের দিকে প্রভাবিত করার একটা উদ্যোগ। বিশেষ করে কনজারভেটিভ সরকারের বিরোধী লেবার এবং ইন্ডিপেনডেন্ট দলের পক্ষ থেকে সরকারবিরোধী আন্দোলন জমিয়ে তোলার এটা একটা মোক্ষম উপলক্ষ। ১৯৭৩ সাল থেকে যুক্তরাজ্য সংস্থাটির সদস্যপদ প্রাপ্তির পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত তারা সংস্থার অন্যতম প্রধান অর্থদাতা, যার বাৎসরিক পরিমাণ ২০১৫ সালে ছিল ১৭.৮ বিলিয়ন পাউন্ড, কিন্তু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থেচারের সময় স্বাক্ষরিত এক চুক্তির বলে তারা কিছুটা ছাড় পাওয়াতে প্রতিবছর নির্দিষ্ট অংকের চেয়ে কিছুটা কম অর্থ প্রদান করতে হলেও গতবছর তাদের ১২.৯ বিলিয়ন পাউন্ড সংস্থাটিকে প্রদান করতে হয়। এই অর্থপ্রদানকে দৈনিক ভিত্তিতে দেখতে গেলে দেখা যাবে যে গতবছর প্রতিদিনের হিসেবে যুক্তরাজ্যর ইইউকে ৩৫ মিলিয়ন পাউন্ড করে অর্থ প্রদান করতে হয়েছে, অন্যকথায় বাৎসরিকভাবে প্রত্যেক নাগরিককে ২০০ পাউন্ড করে সংস্থাটিকে প্রদান করতে হয়। এখানে উল্লেখযোগ্য যে সদস্য রাষ্ট্রের আর্থিক অবস্থার বিশ্লেষণে চাঁদার এই অংক নির্ধারণ করা হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে বিষয়টি রাজনৈতিক হলেও সঙ্গতকারণেই যুক্তির প্রশ্ন এখানে উপেক্ষিত নয়। আর সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত প্রশ্ন হচ্ছে এই বিপুল অর্থ ব্যয়ে সদস্যপদের বিপরীতে যুক্তরাজ্য আর্থিকভাবে কতটুকু লাভবান হচ্ছে? এখানে যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় টেলিগ্রাফ পত্রিকায় গত ২০১৫ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলা হয় ২০১৪ সালে ইইউ এর অভিন্ন কৃষি নীতির অধীনে যুক্তরাজ্যের কৃষকদের জন্য ভর্তুকী, অনুদান এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা খাতে ৪.৪ বিলিয়ন পাউন্ড ইইউ কর্তৃক ফেরত এসেছে। এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি খাতে ১.৪ মিলিয়ন পাউন্ড এসেছে। সর্বমোট ১২.৯ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ের বিপরীতে সংস্থাটি থেকে প্রাপ্তি প্রায় ৬ বিলিয়ন পাউন্ড। এক্ষেত্রে যারা ইইউ বিরোধী তাদের মতে যুক্তরাজ্যের জন্য সংস্থাটির সদস্য পদ ধরে রাখতে গিয়ে ভীষণ বেশী মূল্য দিতে হচ্ছে, এবং সংস্থা থেকে বের হয়ে স্বতন্ত্রভাবে এই অর্থ দিয়ে দেশের জনকল্যাণমূলক কার্যাদি আরও দক্ষভাবে সম্পাদন করার যোগ্যতা রাখে যুক্তরাজ্য। নিবন্ধতিতে বলা হয়েছে যে ইইউতে যুক্তরাজ্য প্রদত্ত চাঁদার ১ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হয় সংস্থাটির পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সহায়তা হিসেবে, যা দেশটির জিডিপি’র শতকরা ০.৭ ভাগের কাছাকাছি, এবং এই পরিমাণ অর্থ নিজেরা ব্যয় করে যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তার ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করতে পারত।
সুতরাং যে অর্থ সংস্থাটির মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে ফেরত এসেছে তার বাইরেও আরও ৬.৫ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশী অর্থ সংস্থাটির নানাবিধ কর্মকা- সম্পাদনের কাজে ব্যয় হয়েছে, যার কোন সুফল যুক্তরাজ্য সরকার পায়নি এবং এই অর্থ দৈনিক হিসেবে তুলনা করে দেখলে দেখা যায় প্রতিদিন সংস্থাটির পেছনে বৃটিশ সরকারের ব্যয় ১৮ মিলিয়ন পাউন্ড। এই তুলনার বিপরীতে ইইউ পক্ষাবলম্বনকারীদের অভিমত এই অর্থ আপাতঃদৃষ্টিতে বৃটিশদের পক্ষ থেকে অপচয় বলা হলেও তারা আসলে সংস্থাটির একক বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে এর বিনিময়ে দেশটির অর্থনীতির জন্য ব্যাপক সুবিধা নিশ্চিত করছে। অপরদিকে ইইউ বিরোধীদের অভিমত এই সংস্থা থেকে বের হয়ে গেলেই যে সংস্থাটির একক বাজারে যুক্তরাজ্য তাদের প্রবেশাধিকার হারাবে তা নয় বরং উদ্বৃত্ত অর্থ তারা তাদের আভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বিনির্মাণে কাজে লাগিয়ে সংস্থাটির একক বাজারে নিজেদের অপরিহার্যতাকে তুলে ধরতে সচেষ্ট হবে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই ফলাফলে দেখা যাচ্ছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভ দল বিগত নির্বাচনের তুলনায় ১.২ শতাংশ জনসমর্থন বেশী পেয়ে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬৫০ আসনের সংসদে যেখানে ৩২৫টি আআসন প্রয়োজন, সেখানে তারা এবার লাভ করেছে ৩৬৫টি আসন। অপরদিকে জেরেমি কারবিনের নেতৃত্বাধীন বিরোধী লেবার পার্টির আসন ৫৯টি কমে দাঁড়িয়েছে ২০৩ এ এবং তাদের ভোট কমেছে প্রায় ৮ শতাংশ। অপরাপর দলগুলোর মধ্যে এবার অভাবনীয় ভাল ফল পেয়েছে স্কটল্যান্ডের জাতীয়তাবাদী দল (এসএনপি), তারা সেখানকার ৫৯টি আসনের মধ্যে ৪৮টিতে বিজয় অর্জন করেছে। গত নির্বাচনের তুলনায় এবার তারা ১৩টি আসন বেশী পেয়েছে। তবে এখানে উল্লেখ করার মত বিষয় হচ্ছে যে গোতা যুক্তরাজ্যের ভোটাররা যেখানে দলবেধে ব্রেক্সিটের পক্ষ্যে ভোট দিয়েছে, স্কটল্যান্ডের মানুষ সেখানে এর ঘোরতর বিরোধী এসএনপিকে বিজয়ী করে জানান দিয়েছে যে তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষ্যে এবং এর মাধ্যমে একই সাথে তারা স্বাধীনতাকামী মতামতকেও এই ভোটের মাধ্যমে প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। নির্বাচনের আগে দলটির প্রধান জনগণের কাছে ভোট চেয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তারা আরেকবারের মত স্কটল্যান্দের স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোটের আয়োজন করবে। এই রায়কে তাই আরেকটি গণভোটের পক্ষে এবং তাদের স্বাধীনতার পক্ষের রায় হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এর আগেরবার স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোটে তারা ৫৫-৪৫ ব্যবধানে পরাজিত হলেও পরিস্থিতি যে এখন অনেকটা বদলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আপাতদৃষ্টিতে এই নির্বাচনটির মধ্য দিয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইনপ্রণেতাকে বিজয়ী করে এনে যুক্তরাজ্যকে ইইউ থেকে বের করে আনার একটি প্রয়াস হিসেবে দেখা হলেও প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন নিশ্চয়ই জানেন যে আগামি বছরের ৩১ জানুয়ারীর মধ্যে চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের পর তার এবং দেশের জন্য আরও নতুন সংকটের উদয় ঘটতে যাচ্ছে। ইইউর সাথে সমঝোতা অনুযায়ী ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের পর ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে সংস্থাটির সাথে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্য সম্পর্ক নিরূপণে আলোচনা শুরু হবে এবং ধারণা করা হচ্ছে এটা শুরু হতে যাচ্ছে মার্চ মাসে। ২০১০ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর সময় পর্যন্ত এই সময়টিকে বলা হচ্ছে অন্তর্বর্তী সময় এবং আগামী মার্চের মধ্যে অনুষ্ঠেয় এই বাণিজ্যচুক্তি সংক্রান্ত আলোচনায় ইইউর পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেবেন মাইকেল বার্নিয়ার। যদিও ইইউর পক্ষ থেকে এটাও বলা হচ্ছে যে এমন স্বল্প সময়ের মধ্যে দুপক্ষের মধ্যে গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছানো অসম্ভব বিষয় এবং এক্ষেত্রে একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছুতে কয়েকবছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সময়য়টি আরও বাড়বে এবং এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাজ্যের সাথে ইইউ রাষ্ট্রগুলোর বাণিজ্যসম্পর্ক কেমন হবে সেটি এখনও পরিষ্কার নয়। তবে একথাও সত্য যে এখানে এই বিষয়ে আকুতি ইইউর যতটুকু, এর চেয়ে নিঃসন্দেহে বেশী যুক্তরাজ্যের তরফে।
কারণ, যদি ২০২০ সালের মধ্যে নতুন করে কোন বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে ঐকমত্য না হয় তবে উত্তর আয়ারল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের মধ্যকার সীমান্ত বিষয়ে সমঝোতার পথ বন্ধ হয়ে যাবে, এখানে উল্লেখ্য যে উত্তর আয়ারল্যান্ডের সাথে ইইউ’র কাস্টমস ইউনিয়ন সম্পর্কিত সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। বিষয়টি বৃটেনের অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য হলেও কার্যতঃ এই একক কাস্টমস ইউনিয়ন বহালের নামে বৃটেনের জন্য নতুন কাস্টমস শর্ত আরোপিত হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা যায়। এদিক বিবেচনায় নির্বাচনে কনজারভেটিভ দলের ব্যাপক বিজয় সামনের দিনগুলোতে নতুন সরকারকে আরও কঠিন পরীক্ষায় ফেলবে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

এক্ষেত্রে বাস্তবতার আলোকে বিশ্লেষকরা যা বলছেন তা হচ্ছে যুক্তরাজ্য-ইইউ’র মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদী যে বাণিজ্য সংলাপ আগামী মার্চ নাগাদ শুরু হবার কথা, এর একটি মৌলিক রূপরেখা হয়ত পরবর্তী ৩ মাসের মধ্যে দাঁড়াবে, তবে এগুলো নিয়ে আলোচনা, পরীক্ষা নিরিক্ষা এবং সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কোনভাবেই একই বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে সম্ভব নয়, বরং অনেক সময়সাপেক্ষ বিষয়। সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয়েছে যে ইইউ এবং জাপানের মধ্যে এধরণের বাণিজ্য সমঝোতায় পৌঁছুতে সাড়ে ৬ বছর এবং ইইউ এবং কানাডার মধ্যে ১০ বছর সময় লেগেছে। এখন এই অবস্থায় দুপক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে হয়ত সময়টি আগামী বছরের ডিসেম্বরের পরিবর্তে আরও ২/১ বছর বাড়িয়ে নেয়া যেতে পারে, কিন্তু মনে রাখতে হবে বিষয়টি হবে যুক্তরাজ্যের জন্য অন্তর্বর্তী সময় এবং এই সময়ের মধ্যে কোন চুক্তিতে উপনীত হওয়া সম্ভব হোক বা না হোক যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রিত হবে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নীতিমালার আলোকে। সেক্ষেত্রে এতদিন ধরে একটি আঞ্চলিক ছায়ার নীচে থেকে যে বাণিজ্য সুবিধা পেয়ে আসছিল এবং অনেকাংশে বাণিজ্যকে নিয়ন্ত্রণ করেছিল সে সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত হবে। সুতরাং বলা চলে যে ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন কোন সমাস্যার সমাধান নয়, বরং সমস্যার আরও গভীরে নিজেদের নিয়ে যাওয়া এবং এর থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য কঠিন প্রতিবন্ধকতাসমূহ তারা কিভাবে মোকাবিলা করবে সেটা সময়ই বলে দেবে।

ফরিদুল আলম সহযোগী অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

The Post Viewed By: 125 People

সম্পর্কিত পোস্ট