চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮ | ৯:০৫ অপরাহ্ণ

ন্যাজোফেরিন্জিয়াল এনজিওফাইব্রোমা নাকের ভয়ংকর টিউমার

কুইন এলিজাবেথ-২ কনফারেন্স সেন্টার এর গড়ড়ৎব হল রুমে নাকের একটি ভয়ানক ব্যাধি নিয়ে আলোচনা চলছে। পৃথিবীজোড়া খ্যাতির শীর্ষে থাকা নাক কান গলা সার্জনদের সম্মেলন এটি। সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সার্জারির কলা-কৌশল নিয়ে নিরন্তর আলোচনা চলছে পুরো মিলনায়তন জুড়ে। ঔঁনবহরষব ঘধংড়ঢ়যধৎুহমবধষ অহমরড়ভরনৎড়সধ- এমন একটি রোগ যা সংশ্লিষ্ট পরিবারকে করে তোলে ভীষণ হতাশাগ্রস্ত, প্রয়োজন পড়ে প্রচুর অর্থকড়ির। বলা বাহুল্য, হতদরিদ্রদের মাঝে এই রোগটির আধিক্য দেখা যায়। বিশেষ করে বয়ঃসন্ধিকালে তথা উঠতি কিশোর-যুবাদের এই রোগটির বিকাশ ঘটে (১৩ থেকে ১৯ বছর)। সাধারণত এই টিউমারটি প্রকৃতিগত দিক থেকে ভদ্র অথচ রোগীদের মাঝে ভীষণ রাশভারী আচরণ করে, প্রতিনিয়ত রক্তক্ষরণ যার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আক্রান্ত কিশোর-যুবা সর্বদা থাকে ভয়ে তটস্থ- না জানি কোন সময় হুট করে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। স্কুল- কলেজ, পথে- ঘাটে, অলিতে- গলিতে যে কোনো অবস্থায়ই এই রোগটির অভদ্রজনিত আচরণ লক্ষ্য করা যায়। কিশোর যুবার পরিবারে দেখা দেয় মানসিক অস্বস্তি, পারিবারিক অস্থিতিশীল পরিবেশ আর হতাশাময় জীবন। এই টিউমারটি মূলত নাকের পেছন অংশ থেকে বের হয়। স্ত্রীলিঙ্গধারীদের এটি খুব একটা দেখা যায় না। পার্শ্ববর্তী অঙ্গসমূহে এটির বিস্তৃতি লক্ষ্য করা যায় না। যে কোনো এক পাশ নাক বন্ধ থাকা এবং অবিরাম রক্তক্ষরণ টিউমারটির আজন্ম-লালিত আচরণ। রক্ত মিশ্রিত পুঁজ পড়া, অনবরত নাকে সর্দি, শ্রবণশক্তি হ্রাস, দ্বৈত দর্শন (তৃতীয় এবং চতুর্থ ¯œায়ু- বৈকল্য এর কারণে), চোখ বের হয়ে যাওয়া ইত্যাদি টিউমারটির অন্যতম উপসর্গ। ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়া, অবিরাম কর্ণপ্রদাহ, চোখ ব্যথা মাঝে মাঝে হতে পারে। ক্লিনিক্যালি টিউমারটির পরিচিতি পাওয়া খুবই সহজ। নচেৎ সিটি স্ক্যান, এমআরআই স্ক্যান দিয়ে রোগটির উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব। এখানে উল্লেখ্য যে, বায়োপসি নামক রোগ নির্ণয়কারী পরীক্ষা পদ্ধতিটি না করাই উত্তম কারণ এটি করার ফলে জীবন-ঝুঁকিতে চলে যাওয়ার মতন রক্তক্ষরণ হতে পারে। যেহেতু টিউমারটি অসংখ্য রক্তনালী দিয়ে গঠিত, সেখানে কোনো মাংসপেশির আবরণ নেই। DSA (digital Subtraction angiography) of Carotid artery-কর্তৃক টিউমারটির উৎপত্তি, বৃদ্ধি, প্রসারণ ও সংযোগকারী রক্তনালীর উৎস বোঝা যায়। এই টিউমারের সাথে অপরাপর টিউমারের সামঞ্জস্য দেখা যায়, যেমন: Antro-Choanal polyp, Rhinosporidiosis, Malignancy Nasopharyngeal Carcinoma, lymphoma, Rhabdomyosarcoma,  Pyogenic granuloma ইত্যাদি।
চিকিৎসা পদ্ধতির ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত অভিমত হল: শৈল্য চিকিৎসা অর্থাৎ পুরো টিউমারটি সরানো। এটি বাহির অংশ দিয়ে অথবা এন্ডোস্কপির সাহায্যেও করা যায়। মুখের তালুর নরম অংশে আড়াআড়ি কেটে টিউমারটি সহজেই নিয়ে আসা যায়। মেডিকেল চিকিৎসা এবং রেডিয়েশনথেরাপী নেই বললেই চলে। এই টিউমারের বিশ্বনন্দিত শৈল্য চিকিৎসা পদ্ধতি এন্ডোস্কপিক এপ্রোচ-এর মাধ্যমে করাটা সর্বজনস্বীকৃত এবং অত্যন্ত জনপ্রিয়। এটির মাধ্যমে টিউমারটাকে খুব সহজে উৎপত্তিস্থল থেকে অতীব সহজে অপসারণ করা যায়। অপারেশন সময়কার রক্তক্ষরণ বন্ধের নিমিত্তে Preoperative embolisation করা যেতে পারে।
এই টিউমারটির prognosis অত্যন্ত উৎসাহব্যাঞ্জক কারণ টিউমারটির আচরণ মার্জিত, আশপাশের অঙ্গসমূহে কখনো ছড়ায় না। শুধুমাত্র ঘন রক্তনালীসমৃদ্ধ হওয়ায় টিউমারটি দ্রুত সময়ে বৃদ্ধি পায়। অত্যধিক রক্তক্ষরণ এবং অবিরাম নাক বন্ধ থাকার কারণে এটি দ্রুত অপসারণ করাই শ্রেয়। Jubenile Nasopharyngeal Angiofibroma নামক টিউমারটি ভয়ংকর হলেও মৃত্যুর হার অনেক কম। দুপুরে লাঞ্চ শেষে Churchill মিলনায়তনে শুরু হয় অনন্য এক আলোচনা: Revision Sinus Surgery। মনোযোগ দিয়ে নির্ধারিত বক্তার আলোচনা শুনে উক্ত সার্জারির আধুনিক কলা-কৌশল সম্পর্কে জ্ঞাত হলাম। অন্যত্র St.James Suite njig চলছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা: How I do it-Management of Septal perforation, যে আলোচনাটি আমাদের মতন জুনিয়র সার্জনদের সার্জারি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অসম্ভবভাবে কাজে লাগবে।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 510 People

সম্পর্কিত পোস্ট