চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০

৬ মে, ২০১৯ | ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

পবিত্র রমজানে আত্মশুদ্ধির মহিমায় ব্যবসায়ীবৃন্দ মুনাফাবাজি পরিত্যাগ করুন

মুসলমানদের সংযম সাধনার মাস পবিত্র রমজান আবার ফিরে এসেছে। পুণ্যময় এই মাস রহমত, বরকত ও মুক্তির বার্তা নিয়ে আসে। কুপ্রবৃত্তি দমন ও আত্মশুদ্ধির সর্বোত্তম উপায় মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা। সঠিক উপায়ে সিয়াম সাধনা এবং মাহে রমজানের শিক্ষাকে ধারন করতে পারলে নিশ্চয়ই ইহকাল ও পরকালের অফুরন্ত কল্যাণ লাভ সম্ভব হবে। খোশ আমদেদ মাহে রমজান।
ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি হচ্ছে মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা। সিয়াম সাধনা বিশ্বমুসলিমকে শিক্ষা দেয় সংযত-সুন্দর জীবন যাপনের। অবিচ্ছিন্ন ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে সংযম সাধনার পাশাপাশি প্রকৃত রোজাদার নিজেকে বিরত রাখেন সব ধরনের মিথ্যা এবং অন্যায় অপকর্ম থেকে। প্রতিজন মোমিন মুসলমান মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার মধ্যদিয়ে মহামহিম সর্বশক্তিমান আল্লাহতালার করুণা লাভে ধন্য হয়। যার কারণে মুসলমানদের কাছে মাহে রমজানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। রমজানের সঙ্গে জড়িত রয়েছে প্রতিটি মুসলিমের অফুরন্ত আবেগ ও শ্রদ্ধা। ফলে প্রকৃত মোমিন মুসলমান রমজানের প্রতিটি মুহূর্তই ব্যয় করেন মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায়। সিয়াম সাধনা বা সংযম সাধনার মাধ্যমে মনের পবিত্রতা ও বিশুদ্ধিকরণের পাশাপাশি মানুষের কল্যাণকেও প্রাধান্য দেয়া হয়।
মাহে রমজানের সুবেহ সাদেক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকাই নয়, যাবতীয় অপবিত্রতা ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকার বিধানও নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। এ বিধান অনুসরণে রোজা পালন করলে একজন মানুষ পরিশুদ্ধ হয়ে ওঠে। তাই এ মাসকে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত এই তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে। অবিচ্ছিন্ন ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে রোজা পালন করে মহান আল্লাহর দরবারে আত্মসমর্পণই যেহেতু রোজার শিক্ষা সেহেতু এ মাসে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে মুক্তির পথে নিয়ে যাওয়া সহজ। যারা সত্যিকার অর্থেই সিয়াম সাধনা করেন তারা নিঃসন্দেহে মুক্তির বন্দরে পৌঁছে যাবেন, লাভ করবেন অফুরন্ত কল্যাণ। আর তাদের দ্বারাই পরিবার, সমাজ ও দেশ উপকৃত হবে। কারণ সত্যিকারের রোজা পালনকারীদের দ্বারা কখনো কোনো অন্যায় কাজ সংঘটিত হতে পারে না। তারা সবসময় মানবিক চিন্তা-চেতনায় পুষ্ট থাকেন বিধায় ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই তাদের দ্বারা উপকৃত হন। পরোপকারই তাদের মূল আরাধ্য হয়।
পবিত্র এই মাসের মধ্যে নিহিত রয়েছে দুনিয়া এবং পরকালের অশেষ কল্যাণ। আত্মিক ও নৈতিক উন্নতির সুযোগ গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে একজন মুসলমান একটি সুন্দর সমাজ ও সম্প্রদায় গড়ে তোলার প্রেরণা পান। হিংসা, ঈর্ষা, প্রতিহিংসা ত্যাগ করে আদর্শ মানুষ হিসেবে জীবনযাপনের সুযোগ পান। আর মাহে রমজানের পবিত্র লাইলাতুল কদরে মানুষ আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে আত্মনিবেদন করে সব গুনাহ থেকে পরিত্রাণ পেতে পারেন। এটি রোজাদারদের জন্যে মহান সৃষ্টিকর্তার একটি বড় নেয়ামত। তবে মাহে রমজানের দ্বারা সবাই পরিশুদ্ধ ও উপকৃত হতে পারে না। যারা মাহে রমজানের প্রকৃত শিক্ষাকে ধারন করে জীবন যাপনের চেষ্টা করেন শুধু তারাই কল্যাণপ্রাপ্ত হন। আর যারা লোকদেখানোর জন্যে রোজা পালন করে তারা রোজার কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়। তারা লোভ-লালসা, মোহের মতো নেতিবাচক বিষয়গুলো দ্বারা বিভ্রান্ত ও বিপথগামী হয়। ফলে প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ ও আত্মশুদ্ধির মহান সুযোগের সদ্ব্যবহার থেকে তারা বঞ্চিত হয়। তাদের সিয়াম সাধনায় ত্রুটি থাকে বলেই অন্যের ওপর জুলুম, নিপীড়ন, শ্রমশোষণ, অন্যের হক নষ্ট করা থেকে তারা বিরত থাকতে পারে না। পারে না অতি মুনাফার মোহ ত্যাগ করতে। আর সেজন্যেই ফি বছর অতি মুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা অন্যায়ভাবে জিনিপত্রের দাম বাড়িয়ে দেয়। অসাধু ব্যবসায়ীরা এই মাসে বেশি মুনাফার আশায় আগে থেকেই আটঘাট বেঁধে বসে থাকে। এদের এ ধরনের তৎপরতা সাধারণ মানুষের জীবনে দুর্ভোগ ডেকে আনে। অন্যদিকে সিয়াম সাধনার এই মাসে সামর্থ্যবান ও বিত্তশালীদের অনেকেই অপচয় করেন। এসব রমজানের পবিত্রতা, কৃচ্ছ্রসাধন ও শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
রমজানের তাৎপর্য আমাদের প্রত্যেকেরই গভীরভাবে উপলব্ধি করা প্রয়োজন। মানুষের কল্যাণের জন্যেই সংযম সাধনা। তাই রমজানের পবিত্রতা, মর্যাদা ও শিক্ষাপরিপন্থী সব নেতিবাচক বিষয় পরিহার ও প্রতিহত করা প্রত্যেক মুসলমানদের কর্তব্য। এ বিষয়ে সকলকে সজাগ ও সোচ্চার হওয়া উচিত। আমরা আশা করতে চাই রমজান মানুষকে পরিশুদ্ধ হয়ে, মানবিক চেতনায় পুষ্ট হয়ে একটি সাম্যপূর্ণ, সৌভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও সমৃদ্ধ সমাজ নির্মাণের যে সুযোগ দিয়েছে তার সদ্ব্যবহার করবেন প্রতিটি মুসলমান। সিয়াম সাধনার শিক্ষা, এর মাধ্যমে অর্জিত জীবনবোধ যদি জীবনাচরণে প্রতিফলিত হয়, তাহলে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক পরিম-লে নেমে আসবে অনাবিল শান্তি, সুখ, সমৃদ্ধি।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 342 People

সম্পর্কিত পোস্ট