চট্টগ্রাম শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০

২৮ এপ্রিল, ২০১৯ | ১:৫১ পূর্বাহ্ণ

নাওজিশ মাহমুদ

সড়ক দুঘর্টনা, নিমতলা-বনানীর আগুন ও নুসরাত হত্যা : রাষ্ট্রের দায় নিয়ে প্রশ্ন

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিনিয়ত মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। এটাকে আমরা স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিয়েছি। মনে হচ্ছে, এটাই আমাদের নিয়তি। পুরান ঢাকার নিমতলীতে আগুন লেগে পথচারীসহ শতাধিক ব্যক্তির নিমেষে পৃথিবী থেকে চিরবিদায়, বনানীর বহুতল ভবনে আগুন লেগে ২৬ জন ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু এবং নুসরাতকে পরিকল্পিত হত্যা আমাদের নাগরিক জীবনের জন্য এক একটি মর্মস্পর্শী ঘটনা। কিন্তু রাষ্ট্র, জাতি, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সাময়িক। হয়তো এরপর স্মৃতির অন্তরালে চলে যাবে। প্রতিকারের কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে না। কিন্তু এই ধরনের মৃত্যুর ফলে যে যন্ত্রণা ও বিপর্র্যয় একটি পরিবারে নেমে আসে, এর মর্মবেদনা এবং শোকের গভীরতা, ভুক্তভোগী ছাড়া আমরা কেউ বুঝতে পারি না। এটা বহন করে ভুক্তভোগী একা, সেই সাথে পরিবার, স্বজন এবং ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন। বিশেষ করে একটি পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল মানুষ যখন চলে যায়, তখন স্ত্রীর বা নারী শুধু ভালবাসার মানুষটাকে হারায় না, সেই সাথে শেষ হয়ে যায় তাঁর বেঁচে থাকারও অবলম্বন। অবুঝ সন্তানদের কি ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়, তাঁর সম্পর্কে আমাদের কোন ধারণা আছে বলে মনে হয় না। বিশেষ করে একজন শিশুর সুখ শান্তিতে ভরা পিতৃ¯েœহে বা মাতৃ¯েœহে আপ্লুত জীবন যখন হারিয়ে ফেলে, তখন পৃথিবীর নিষ্ঠুরতা তাঁকে মানুষ হিসেবে গড়ে উঠার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে। শৈশবকালে তাঁর জগতটা হয়ে পড়ে প্রতিকুল এবং বৈরী। একজন বৃদ্ধ পিতা মাতা তাাঁর সারা জীবনের ত্যাগ ও তিতিক্ষার মাধ্যমে স্বপ্ন ও শেষ সঞ্চয় দিয়ে যখন তাঁর সন্তানকে কর্মক্ষম গড়ে তোলে, তখন সন্তানের মৃত্যুর বেদনা ও যন্ত্রণা কত হৃদয়বিদারক হতে পারে, এটা আমাদের পক্ষে অনুধাবন করা অসম্ভব। এখন প্রশ্ন আসে এই ধরনের দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কারা? এটাকি নিছক দুর্ঘটনা বা প্রাকৃতিক বিপর্যয় না আমাদের অদক্ষতা না আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের অমানবিক উদাসীনতা?
প্রথমইে আসি সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে। সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র আমাদের স্কুলের কোমলমতি ছেলেরা আন্দোলন গড়ে তোলে, ঢাকা শহরের পুরা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সাময়িকভাবে নিজেদের হাতে নিয়ে কিভাবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হয়, তা দেখিয়ে দিয়েছে। আমাদের সমাজের এবং প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা কিভাবে ট্রাফিক আইনের তোয়াক্কা না করে আইন বর্হিভূতভাবে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে পরিচালনা করছেন, তা বেরিয়ে আসে। খোদ পুলিশ কমিশনারকে স্বীকার করতে হয় স্কুলে কোমলমতি ছেলেরা আমাদের নৈতিকতা শিখিয়ে গেল। কিন্তু এর পরও আমাদের মধ্যে কোন সংশোধন হয় নি। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নতি হয়েছে বলা যায় না। মাঝখানে এই আন্দোলনকে একটি কুচক্রিমহল সরকার পতনের আন্দোলনে রূপান্তর করতে গিয়ে সহিংসতার আশ্রয় নেয়। সরকার ও কঠোর হস্তে দমন করে। মাঝখানে বেশ কিছু ছাত্র এখনো মামলায় জর্জরিত হয়ে শিক্ষা জীবন থেকে ঝড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে কিন্তু এটার দেখার কেউ নেই। মামলার নিষ্পত্তিও হচ্ছে না। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলার দেয়ার উপাদানও পাচ্ছে না। কিন্তু মামলাও প্রত্যাহার হচ্ছে না। এই তরুণদের মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে তাদের একূল এবং দুকূল হারানোর অবস্থা। অথচ দুর্ঘটনার মূল কারণ যে অতিরিক্ত মুনাফার প্রলোভনে পড়ে চুক্তিভিত্তিক বাস ভাড়া দেয়া, অধিকাংশ ড্রাইবারের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা, হেল্পারদের দিয়ে গাড়ী চালানো, যেখানে সেখানে যাত্রী তোলা, যাত্রীদের সাথে দুর্ব্যবহার, অতিরিক্ত যাত্রী তোলা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং বেপোরোয়া গাড়ী চালানো সবকিছুই পূর্বের মতো চলছে। এর জন্য দায়ী আমাদের রাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনার দিকগুলোর অমানবিক উদাসীনতা। সেই সাথে বাস মালিকদের মুনাফার কাছে আমাদের অনৈতিক আত্মসমর্পণ। এটাকে সরাসরি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। এই নীরব ঘাতকদের বিরুদ্ধে নির্লিপ্ত হয়ে কতদিন আমরা বসে থাকবো?
পুরান ঢাকায় নিমতলার ঘটনার সূত্রপাত যদিও বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে কিন্তু বিস্তার লাভ করেছে প্রসাধনী গুদাম থেকে। বডি স্প্রে যা উচ্চপর্যায়ের দাহ্য প্রদার্থ। পুরান ঢাকার মতো আবাসিক এলাকায় এই ধরনের গুদাম কিভাবে থাকতে পারে, যেখানে এই স্প্রে বাতাসের সাথে আগুনকে দ্রুত ছড়িয়ে দেয়। তার সাথে যোগ হয়েছে ট্রাফিক জ্যাম। ফলে জামে আটকা পড়ে বাতাসের মাধ্যমে আগুন ছড়িয়ে পড়ে নিমেষের মধ্যে শতাধিক লোকের প্রাণহানী ঘটায়। এখানে শুধুমাত্র অতিরিক্ত আর্থিক লোভে আবাসিক এলাকায় গুদাম ভাড়া দেয়া হয়েছে। সে সাথে এই গুদাম ভাড়াকে প্রতিহত করার জন্য আমাদের রাষ্ট্র এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ কোন দায়িত্ব পালন করেছে বলে মনে হয়না। এই ঘটনার জন্য প্রকৃত দোষী তা এখনও নির্ধারিত হয়নি। বাড়ির মালিক, গুদামের মালিক, পণ্যের মালিক হয়তো এই জন্য সাজাও ভোগ করবেন কিন্ত তাঁরা এই কাজটি করতে কেন উৎসাহিত হলেন? কাদের প্রশ্রয়ে, কাদের উদাসীনতায় এই নির্বিঘেœ ঘর ভাড়া দিতে পেরেছেন তা কোন দিনে উদঘাটিত হবে না। রাষ্ট্রই তো নাগরিকদের জীবন মালের নিরাপত্তা দিবে। স্থানীয় কাউন্সিলার, সিটি কর্পোরেশন , পরিবেশ অধিদপ্তর আইন শৃংখলা-রক্ষা বাহিনী এবং করসংগ্রহকারী সংস্থা কারো কি এই ব্যাপারে কোন দায় দায়িত্ব নেই? সবার আগে মানুষ। রাষ্ট্রের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাঁর নাগরিক। তাঁদের নিরাপত্তা প্রদান করাইতো তাঁর কাজ। এই ব্যর্থতা বা উদাসিনতা যে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করে, তাতে রাষ্ট্রের সার্থকতা থাকে?
এর পর আমার দেখলাম বনানীর আগুনে ২৬ জন হতভাগ্য নাগরিকের করুণ মৃত্যু। বাঁচার সুযোগ ও সময় থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র অব্যবস্থাপনার কারণে এই হতভাগ্য মানুষগুলোকে মানুষের সৃষ্ট সমস্যার কারণে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। এখানকার আগুনের উৎসও বিদ্যুতের সর্ট সার্কিট। বিদ্যুতের সর্ট সার্কিটোর কারণ উদঘাটন কেউ করেছে বলে মনে হয় না। বিদ্যুৎ সঞ্চালনের লাইন বসানো দায়ী, নাকি নি¤œমানের বৈদ্যুতিক তার, নাকি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন এ জন্য দায়ী? তা কিন্তু কোন তদন্তে বা আমাদের টকশোতে উঠে আসে নি। সকলে আগুন থেকে বাঁচার অপ্রতুলতা, আমাদের ফায়ার সার্ভিসের সীমাবদ্ধতা, বেআইনিভাবে ভবনের অতিরিক্ত ৩টি তলা নির্মাণের কারণকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। এর জন্য গ্রেফতারও হয়েছেন। এখন প্রশ্ন হলো ঐ তিনটি তলা নির্মাণ না করলে কি আগুন থেকে রক্ষা পাওয়া যেত? আগুনের উৎসস্থলে কোন দুর্বলতা আছে কি-না তা আগে খতিয়ে দেখা উচিত ছিল। এ দিকটি কেউ দেখেছে বলে মনে হয় না। আমাদের দেশের বৈদ্যুতিক তারে কেন এতো সর্ট সার্কিট হয়, এটাও আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। তারের বহিরাবরণে পর্যাপ্ত পিভিসি ব্যবহার না করে খরচ কমালে, শর্ট সার্কিট অহরহ ঘটতে থাকবে। ফায়ার সার্ভিসকে আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে সজ্জিত না করে কিভাবে বহুতল ভবনের অনুমতি দেয়া হলো ? তাও ভেবে দেখতে হবে। আমাদের ফায়ার সার্ভিসের দক্ষতার উপর অনেকাংশে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণ নির্ভর করে। বনানী আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় তাঁদের সীমাবদ্ধতা দেখেছি। আশে পাশে পানির অভাবে দেখা গিয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সিঁড়ি আটতালার বেশী উঠতে না পারার কারণে অনেককে উদ্ধার করা সম্ভব হয় নি। আধুনিক যুগে শুধু পানি দিয়ে আগুন নিভায় না। দ্রুত ভবন থেকে নামার জন্য বিশেষ ধরণের কাপড়ের গোল সিঁিড় ব্যবহার করা হয়। আগুন নিভানোর জন্য ধোঁয়া বোমা ব্যবহার করা হয়। তার খরচও তেমন একটা বেশী না। কিন্তু আমাদের ভবনগুলিতে এই ধরনের দ্রুত উদ্ধারের কোন ব্যবস্থা এখনও গড়ে উঠে নি। এটা বাধ্য করার দায়িত্ব রাষ্ট্র্রে। ঢাকার শহরের ভবন নির্মাণের প্রথম শর্তই হলে ভূমিকম্প , আগুন এবং অন্য কোন দুর্ঘটনায় জানমাল রক্ষার ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা। বাসিন্দাদের দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা করা। আমরা শুনেছি কোন চোর কোন ঘরে চুরি করতে যাওয়ার আগে নিশ্চিত হয়, সে পালাবার কোন রাস্তা আছে কি-না । বের হওয়ার পথ নিশ্চিত না হলে সে চুরিই করে না। কিন্ত আমাদের দেশে হয়েছে উল্টো। ফায়ার সার্ভিসের সিঁড়ি যতটুকু পর্যন্ত উঠতে পারবে, তাঁর উপরে কোন ভবন নির্মানের অনুমতি কিভাবে দেয়? সমস্যা হলো প্রভাবশালীরা কেউ এটা মানতে চায় না। এখন এটা অনুসরণ করা এবং মানতে বাধ্য করার দায় দায়িত্ব কার? প্রথমত ভবন নির্মাতার হলেও, পরবর্তীকালে ভবন ব্যবহারকারী হলেও, প্রধান দায়িত্ব রাষ্ট্রের। রাষ্ট্র যদি এটাকে দায়িত্ব মনে করে, তখন প্রশ্ন আসবে দক্ষতার সাথে এ সকল দুর্ঘটনার থেকে উদ্ধারের উপায় খুঁজে বের করার। সাইক্লোন এবং বন্যা থেকে উদ্ধারের ব্যাপারে বিশ^ব্যাপী যে সুনাম আমরা অর্জন করেছি, কেন আগুন এবং সড়ক দুর্ঘটনা থেকে রক্ষার উপায় বের করতে পারছি না। আমরা কিছু লোকের লোভলালসা ও মুনাফার কাছে কি আত্মসমর্পণ করছি? নাকি অমানবিক উদাসীনতা?
সর্বশেষে আসছি নুসরাতের হত্যাকা-ে। এই হত্যাকা-ে মাদ্রাসার একজন প্রিন্সিপাল মূলহোতা। মাদ্রাসাসমূহকে আমরা মনে করি, নৈতিক শিক্ষার সর্বোচ্চ স্থান। সে হিসেবে সে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা পাশের অজুহাতে যেভাবে যৌন নির্যাতনের খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা আমাদের জন্য লজ্জার, শুধু লজ্জার। এই ধরনের ঘটনা অনেক মিাদ্রাসা বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হতে পারে। আমাদের নারী এবং ছাত্রীরা লোকলজ্জা , পিতা-মাতা এবং আত্মীয় স্বজনের কাছে মান-সম্মানের হারাবার ভয়ে অনেক কিছু গোপন করে যায়। কারণ এর ফল ভুক্তভোগীকে ভুগতে হয় । নির্যাতনকারীকে পরিবার সমাজ রাষ্ট্র বয়কটতো করেই না। পারলে পুরস্কৃত করে। আর যে প্রতিবাদ করলো সে পরিবারে কাছে বোঝা , সমাজের চোখে চরিত্রহীনা এবং রাষ্ট্রের কাছে অহেতুক ঝামেলা সৃষ্টিকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়। অথচ এই একজনের প্রতিবাদের ফলে হাজার হাজার ছাত্রী এবং নারীর মান-সম্মানে রক্ষার উপায় তৈরী হয়। সে জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানানো উচিত। উচিত তার সাহসিকতার জন্য পুরস্কৃত করা। রাষ্ট্রের উচিত তাঁকে এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে আরো সোচ্চার হওয়ার সুযোগ করে দেয়ার ব্যবস্থা করা। আমরা কোনটাই করি না। আমরা কি নপুংসক পরিবারে জন্ম নিয়েছি? আমরা বিকৃত সমাজে বাস করি? নাকি শাসনের অমানবিক উদাসীনতায় আমরা আমাদের সহজাত প্রবণতা হারিয়ে ফেলেছি? ২/১ জন সাহসী নারীর কারণে এটা প্রকাশ্যে চলে আসে। কিন্তু সেই সাহসী নারীকে আমরা উৎসাহ দেয়ার বদলে ধামাচাপার দেয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করি। মাদ্রাসার একজন প্রিন্সিúাল যৌন অপরাধ করেছে। সে সাথে আমাদের পুলিশ প্রশাসন, জনপ্রশাসনে বিচার দিয়েও বিচার তো পাই না। উল্টো হয়রানীর শিকার হতে হয়েছে। নারী নির্যাতনকারীর পক্ষে মানববন্ধন হয়েছে। যেখানে দেশের প্রধানমন্ত্রী হত্যাকারীদের ব্যাপারে কঠোর মনোভাব দেখিয়েছে, সেখানে অপরাধীর পক্ষে রাস্তায় নামার সাহস কোথা থেকে পায়? পুলিশ প্রশাসন এবং জনপ্রশাসনের অমানবিক উদাসীনতার কারণে নির্র্যাতনকারীরা মানববন্ধন করার এবং হত্যার করার সাহস পায়। থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলাকে উল্টো খাতে ঘুরিয়ে দিয়ে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে বড় অপরাধ করেছে। তেমনি জনপ্রশানের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এডিসি, যাদের উপর মানুষের অগাধ বিশ^াস রয়েছে, তার কাছে বিচার চেয়েও পায় নি। সে সাথে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতার সংশ্লিষ্টতাও অবাক করার মতো। সরকারী দলের স্থানীয় প্রধান যদি এই অপরাধীদের আশ্রয় দেয় তা হলে বাকীদের ভূমিকা কি থাকতে পারে? তবু ভাগ্য ভাল ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এদের প্রশ্রয় না দিয়ে কঠোরভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এই ব্যাপারে মিডিয়া এবং বিভিন্ন নারী সংগঠনের ভূমিকা অনেক বেশী সক্রিয় এবং সোচ্চার।
এই ধরনের ঘটনা সমজে অহরহ ঘটছে। একজন সাহসী নুসরাত, তাঁর নিজের ও পরিবারের মান সম্মান জলাঞ্জলি দিয়ে সমাজের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গেল। দায় থেকে রাষ্ট্রকে মুক্তি পেতে হলে দৃষ্টান্তমূলক ভাবে পুলিশ এবং জনপ্রশাসনের যে সকল কর্মকর্তার অমানবিক উদাসীনতার ফলে নুসরাতের মৃত্যু হলো তাঁদেরকে বিচার আওতায় এনে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার যাতে না হয়, সে ব্যাপারে একটি বার্তা কি দেয়া যেতে পারে না? সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আরো কঠোর হতে পারি না? আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার আরো আন্তরিক হতে পারি না? ধর্ষণসহ নারীর উপর যৌন নির্যাতন বন্ধে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে পারি না? অমানবিক উদাসীনতাকে ঝেড়ে ফেলে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে একটি মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারি না?

লেখক : রাজনীতি বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 304 People

সম্পর্কিত পোস্ট