চট্টগ্রাম সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

তপোধীর ভট্টাচার্যের সান্নিধ্যে

৮ মার্চ, ২০২০ | ২:২৭ পূর্বাহ্ণ

নাওজিশ মাহমুদ

তপোধীর ভট্টাচার্যের সান্নিধ্যে

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধায় চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামের জিমনিশিয়ামে অনুষ্ঠিত একুশের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে কবিতা এবং সাহিত্য বিষয়ে সেমিনার তথা ছোট আকারে গোলটেবিল অলোচনায় অংশ নেন বিখ্যাত কবি, প্রাবন্ধিক, উত্তরাধুনিকতার চিন্তাবিদ, সাহিত্যের নন্দনতত্ত্বের একজন বিশেষজ্ঞ, আসাম কেন্দ্রীয় বিশ^বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভাইস চ্যান্সেলর তপোধীর ভট্টাচার্য। কবিতা নিয়ে আলোচনা। তিনি ছাড়াও কবি মোশতাক আহমেদ ও ওমর কায়সার ছিলেন। ডা. জিল্লুর ছিলেন সঞ্চালক। স্টেজে যখন গোলটেবিলে বৈঠকে তারা আলোচনা করছিলেন তখন দর্শকসারিতে আমি ও এ.কে.খান ফাউন্ডেশেনের প্রধান কো-অর্ডিনেটর আবুল বাশার একসাথে বসে তাঁদের আলোচনা মনোযোগ সহকারে শুনছিলাম।
শুধুমাত্র তপোধীর স্যারের সাথে দেখা করার জন্য ঢাকা থেকে সকালে চট্টগ্রামে পৌঁছি। বিকেলে চট্টগ্রাম সিনিয়রস ক্লাবে দেখা হয়েছিল। সেখানে কথা হয়। পরের দিন কক্সবাজার যাবেন। উনার সাথে যাওয়ার লোভ সামলাতে পারলাম না। উনাকে প্রস্তাব দেয়ার সাথে সাথে তিনি সগ্রহে সম্মতি দিলেন। বললেন এখন পর্যন্ত কেউ সাথে যাচ্ছে না। আপনি গেলে বরং ভ্রমণ আনন্দময় হয়ে উঠবে। জানালেন, রাত্রে নিশ্চিত করবেন।
কবিতার পর মননশীল সাহিত্য বিষয়ে আলোচনায় এজাজ ইউসুফীর নাম দেখেও আনন্দিত হয়েছিলাম। কিন্তু স্টেজে উনাকে দেখলাম না। স্বপ্না চক্রবর্তীর নাম দেখলাম কিন্তু স্টেজে উঠলেন ¯¦প্না ভট্টাচার্য অর্থাৎ তপোধীর স্যারের সহধর্মিনী। আলোচনার মধ্যদিয়ে বুঝা যায় একজন ব্যক্তির জ্ঞানের গভীরতা এবং বিষয় সম্পর্কে সচ্ছ ধারণা আছে কী-না। সেই সাথে দর্শকদের মধ্যে চিন্তাচেতনাকে কতটুকু সঞ্চারিত করতে পারেন বা ছড়িয়ে দিতে পারেন। উপস্থিত দর্শকের মান নিয়ে কিছুটা আশাহত হতে হলো। তবে আশার কথা আমার কক্সবাজার যাওয়া নিশ্চিত হলো।
২০ ফেব্রুয়ারি সকালে আটটায় জামাল খান সিনিয়র ক্লাবে পৌঁছলাম। যথারীতি কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে একটি কারে রওনা দিলাম ড্রাইভারসহ চারজন। তপোধীর ভট্টাচার্য, স্বপ্ন ভট্টাচার্য (বৌদি) ও আমি। চলতে চলতে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা। একজন জ্ঞানী মানুষ কখনও কাউকে থামিয়ে দেন না। একজন ভালো শ্রোতা হিসেবে আরেকজনের কথা শুনেন এবং তেমনি উৎসাহ দেন। আমিও সারাপথে সারাক্ষণ বকবক করে গেলাম। উনারা দু’জনেই আমার বকবকানি সহ্য করে গেলেন। কোন বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেই কেবল জবাব দিয়েছেন সাবলীল ভাষায়। বিশে^র বিভিন্ন স্থানে ঘুরেছেন। অনেক সি বিচ দেখেছেন। শুধু বাড়ীর কাছে কক্সবাজার কখনও আসা হয়নি। অনেক শুনেছেন। বাংলা ভাগ না হলে এটাতে নিজের দেশের সি বিচ হিসেবে অনেকবার আসা হতো। এই নিয়ে ৪ বার চট্টগ্রাম এসেছেন। কিন্ত সি বিচ দেখা হয়নি। বৌদির আগ্রহ ছিল বেশী। তাই ঢাকার প্রোগ্রাম থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম আসাটাকে প্রাধান্য দিযেছেন। পাহাড় ও সমুদ্র নিয়ে গড়ে উঠা চট্টগ্রামকে খুব পছন্দ করেন, এটাও জানালেন। গতকাল সকালে তিনি ভাটিয়ারি গল্ফ ক্লাব ঘুরে এসেছেন। তাও জানালেন।
তপোধীর ভট্টাচাযের্র বর্তমান আবাসভূমি শিলচর। সিলেট, করীমগঞ্জ, হাইলাকান্দি এবং কাছাড় জেলা নিয়ে আসাম রাজ্যের এই অঞ্চলকে বরাক ভ্যালি বা উপত্যকা নামে পরিচিতি। সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি। বৃটিশদের প্রশাসনিক স্বার্থে এবং রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে আসামের সাথে এই অঞ্চলকে জুড়ে দেয়া হয়েছিল। দেশ ভাগের সময় নেতাদের অদূরদর্শীতা ও স্বার্থপরতার কারণে এই অঞ্চলের বাঙালি জনগোষ্ঠী বিপণœ হয়ে পড়েছে। গণভোটের মাধ্যমে বরাক উপত্যকা থেকে সিলেট তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সাথে সংযুক্ত হয়। বাকী অংশ আসামের সাথে জুড়ে দেয়া হয় অথচ সুযোগ ছিল ত্রিপুরার মত আলাদাভাবে একটি রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার। আজকে বাঙালি অহমিয়া দ্বন্দ্বের ফলে সৃষ্ট নাগরিক আইনের দোহায় দিয়ে অনেক বাঙালি হিন্দু মুসলিমকে বাস্তুচ্যুত করার চক্রান্ত হচ্ছে। এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার তপোধীর ভট্টাচার্য। স্বজনদের দুঃখ-দুর্দশায় পাশে দাঁড়ানো এই ব্যাক্তিটি সমাজের দায়বদ্ধতা থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখেননি। কোন দলের সাথে সরাসরি জড়িত নন। একসময় সিপিআইএম এর সাথে সংযুক্ত ছিলেন। বর্তমানে বাঁধনহারা। মার্কসীয় দর্শনে অনুরক্ত কিন্তু দলীয় শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকেন নি। ফলে মুক্তচিন্তার একজন পথিকৃত হিসেবে সারা বাংলায় সুপরিচিত। কবি, সমালোচক, সাহিত্যের নন্দনতাত্ত্বিক এবং উত্তর আধুনিক তত্ত্বের একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে বাঙালি বুদ্ধিজীবী মহলে বিশেষ এক স্থান দখল করে আছেন।
মূলত সিলেটের বিয়ানিবাজারে পূর্বপুরুষদের ভিটা থাকলেও বর্তমানে শিলচরের স্থায়ী বাসিন্দা। বৌদি স্বপ্না ভট্টাচার্যও সিলেটের হবিগঞ্জের মানুষ। তবে মায়ের বাড়ী ব্রাহ্মণবাড়ীয়া হওয়ায় খাস সিলেটের ভাষার উচ্চারণে এখনও অভ্যস্ত হয়ে উঠেননি। উভয়ের চারিত্রিক মাধুর্য, আচার আচরণে এক ধরনের চুম্বকীয় আকর্ষণ আছে। যার কারণে আমি নিজেও এড়িয়ে যেতে পারিনি। উনাদের সান্নিধ্যের জন্য ব্যাকুল ছিলাম। প্রথম পরিচয় সিলেটের বইপত্রে শুভেন্দু ইমামের মাধমে। এরপর শিলচরে গিয়ে উনার সাথে দেখা করে মনিপুর গিয়েছিলাম। উনার সাথে বাসায় চা খেতে খেতে আলোচনা হয়েছিল। তা ছিল আমার জন্য স্মরণীয়। উনার প্রেরণায় আমার দ্বিতীয় গ্রন্থ বাঙালি: জাতি ও জাতীয়তাবাদ প্রাচীন যুগ বইটি লিখি।
পথে রামু চা বাগানে বৌদ্ধ মন্দিরে গিয়ে মন্দিরের পাহাড়ে উঠে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদর্শন করে প্রায় দুপর একটায় কক্সবাজার পৌঁছি। উনি জনৈক প্রকৌশলী প্রদীপ দত্তের মাধ্যমে কক্সবাজারে পিডিবির রেস্ট হাউজে ভিআইপি স্যুটে উঠেন। দুপুরে চারজনে খেয়ে আমি কাস্টমসের সহকারী কমিশার নু চ্যু প্রু এর সৌজন্যে সি ক্রাউন হোটেল উঠি। সি ক্রাউন সমুদ্র সংলগ্ন সি বিচ এর পাশ ঘেঁষে। বেলকুনিতে বসে সরাসরি সি বিচের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। দুপুরে খেয়ে বিচে চলে যাই। বড় ছাতার নীচের কাঠের চৌকি দুইঘণ্টার জন্য ভাড়া করি। সৌন্দর্য উপভোগের সাথে চলতে থাকে বৌদি এবং তপোধীর স্যারের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা। ভারতীয় উপমহাদেশের বাঙালিদের ভবিষ্যত। বর্তমানের সংকট। হিন্দু ও মুসলিম মৌলবাদের উত্থান। রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি ও সংস্কৃতি। আলোচনা ছিলো সৌহার্দ্যমূলক এবং পরস্পরের মতবিনিময়। বৌদির চিন্তা-চেতনার গভীরতায় আলোচনা হয়ে উঠে আরো সাবলিল। অবাক হয়ে উপলব্ধি করলাম আমরা কেউ কোন বিষয়ে কোন দ্বিমত পোষণ করিনি।
এই সময় ফোন আসলো ডা. জিল্লুর রহমানের কাছ থেকে। মানিক বৈরাগী, ককসবাজারের একজন কবি ও সাংস্কৃতিক কর্মী, ঝালমুড়ির খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছেন। সাথে আড্ডা। মানিক বৈরাগী টেলিফোন করে জানালেন দু’জন ছেলে আসছে আমাদেরকে নিয়ে যেতে। আমি এর মধ্যে টেলিফোন করেছিলাম রাখাইন সম্প্রদায়ের সাবেক সভাপতি উ ক্যা থিন দাদাকে। উনি রওনা দিয়েছেন বাসা থেকে। উনি থাকেন টেকপাড়ায় কলাতলী সি বিচ থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে। মানিক বৈরাগীর পক্ষে দু’জন সাংস্কৃতিক কর্মী আসলো। একজনের কাঁধে গিটার। নাম অজয় মজুমদার। শহরে বাসা। এখানকার স্থানীয়। প্রথমে লোকাল বলায় আপত্তি করলো। লোকাল বাস এবং লোকাল ট্রেন নিম্নমানের, ধীরগতি এবং অব্যবস্থপনার প্রতীক। আমরাও মেনে নিলাম। অজয় এসে গান ধরলো। একসাথে আমরাও গলা মেলালাম। আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে। এরপর আরও ২/১টি গানের পর টেলিফোনে তাগিদ।
সি বিচে একটু শীত শীত লাগছে। তপোধীর স্যার এবং বৌদির ইচ্ছা ছিল না সি বিচের পরিবেশ ছেড়ে উঠবার। তবু ভক্তদের ভালোবাসা এবং প্রাণের টান অস্বীকার করা যায় না। যেতে হল মানিক বৈরাগীর বাসায়। এয়ারপোর্ট সংলগ্ন। ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নিলেন সাংস্কৃতি কর্মী ও কবি-সাহিত্যিকদের একটি ছোট্ট গ্রুপ। যাদের মধ্যে ছিলেন মানিক বৈরাগী ছাড়াও বাংলাদেশ থিয়েটার ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য ও কক্সবাজার থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক নাট্যজন তাপস রক্ষিত, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সভাপতি সত্যপ্রিয় চৌধুরী দোলন, শিল্প একাডেমী, কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক বিশ^জিৎ পাল বিষু ও যুগ্ন সম্পাদক খোরশেদ আলম, আবৃত্তি শিল্পী পরেশ কান্তি, কবি আসিফ নুর, কবি আলম তৌহিদ, কবি মহিউদ্দিন আজাদ সঙ্গীত শিল্পী- সুদিপ্তা চক্রবর্তী, অজয় মজুমদার, অনিকা তসনিম, মনির মোবারক এবং সাংস্কৃতিক কর্মী তৌফিকুল ইসলাম।
আড্ডার আলোচনার বিষয়বস্তু বাংলা সাহিত্য, বিশেষ করে, কবিতা নিয়ে। এরপর প্রসঙ্গক্রমে উঠে আসে উত্তরাধুনিকতা নিয়ে। তপোধীর স্যার বললেন, ইউরোপের আধুনিকতা আর ভারতের বা বাংলাদেশের উত্তরাধুনিকতা এক নয়। উত্তরাধুনিকতা শুধু সাহিত্য এবং কবিতার বষয়বস্তু নয়। তার সাথে অর্থনীতি, রাজনীতি এবং সমাজনীতি সম্পর্কিত। এই অঞ্চলের সমাজ বর্জিত ইউরোপীয় উত্তরাধুনিকতা হয়ে উঠে শিকড়বিহীন। উত্তরাধুনিকতার পূর্বে আমদেরকে বুঝতে হবে আধুনিকতা। উত্তরাধুনিকতার অর্থের মধ্যে লুকিয়ে আছে প্রকৃত অর্থ। উত্তরাধুনিকতা তত্ত্ব না আধুনিকতার পরে, এ দুয়ের পার্থক্য বুঝতে হবে। এটা নিয়ে বিতর্কের কোন সুযোগ নেই। উঠে আসে বাংলাদেশের উত্তর আধূনিকতার সুত্রপাতকারী আশরাফ হোসেন এবং এজাজ ইউসুফীর নাম। স্বরচিত কবিতা আবৃতি করেন মানিক বৈরাগী। এর পর গান গেয়ে শোনান অজয় মজুমদার, অনিকা তসনিম ও সুদিপ্তা চক্রবর্তী। আঞ্চলিক গান গয়ে শোনান মনির মোবারক। সবচেয়ে বেশী দাগ কাটে অজয় মজুমদার কন্ঠে আহমদ ছফার লিখিত গান। সুরও দিয়েছেন অজয় মজুমদার নিজে। শুনতে ভালই লাগলো।
মানিক বৈরাগী অসুস্থ মানুষ। তার সাথে তার স্ত্রীও অসুস্থ হয়ে ঘরে শয্যায় শায়িত। তবু আমাদের ঝালমুড়ি ও চা দিয়ে আপ্যায়ন, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের চিরায়ত আতিথেয়তার ঐতিহ্যকে যেন স্মরণ করিয়ে দেয়। আলোচনা হয় কক্সবাজারের সাহিত্য চর্চার সমস্যা নিয়ে। কক্সবাজারে পর্যটনকে কেন্দ্র করে যে হারে পুঁজির দ্রুত প্রবেশ করেছে, কক্সবাজারের ঐতিহ্য কিভাবে ধরে রাখা যাবে? বিষয়ভিত্তিক আলোচনা চক্র, পাঠচক্র, সাহিত্য ও কবিতার নিজস্ব ধারাা গড়ে না তুললে মুনাফাভিত্তিক পুঁজির কাছে কক্সবাজারের ঐতিহ্য হারিয়ে যাবে সময়ের কালো গহ্বরে। স্থানীয় পত্রিকায় সাহিত্য পাতা বরাদ্দ বা সাহিত্যবিষয়ক নিয়মিত প্রকাশনা এই সংকট থেকে কিছুটা উদ্ধার পাওয়া যেতে পারে।
আড্ডা থেকে বের হয়ে রাতের খাওয়ার পর্ব সেরে ঘুমাতে চলে গেলাম। ২১ তারিখ শহীদ দিবস সকালে আবার সি বিচে কিছুক্ষণ বসে চলে গেলাম কক্সবাজার শহীদ মিনারে। তিনজনেই ফুল দিয়ে কক্সবাজারে মহেষখালী যাওযার ঘাট দেখে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। পথে উত্তরাধুনিকতার উপর তপোধীর স্যারের কাছ থেকে বোঝার চেষ্টা করলাম। যা আমার অজ্ঞানতা এবং সীমাবদ্ধতা লাঘবে সাহায্য করবে। চট্টগ্রাম এক রাত থেকে উনি পরের দিন বিমানে কলকাতায় চলে গেলেন। আমি ঢাকায়। মনে চির জাগরুক হয়ে থাকলো স্বপ্না বৌদি ও তপোধীর স্যারের অপরূপ স্মৃতি ।

নাওজিশ মাহমুদ রাজনীতি বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 154 People

সম্পর্কিত পোস্ট