চট্টগ্রাম শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

টাইগারদের বড় জয় ধরে রাখতে হবে এ ধারা

২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | ২:৩১ পূর্বাহ্ণ

টাইগারদের বড় জয় ধরে রাখতে হবে এ ধারা

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে একমাত্র টেস্টে চার দিনেই জিম্বাবুয়েকে ইনিংস ও ১০৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে জয়ের ধারায় ফিরেছে টাইগাররা। টানা ছয় টেস্টে পরাজয়ের পর অবশেষে মুমিনুল হকের নেতৃত্বে ইনিংস ব্যবধানেই জয়ের দেখা পাওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য নানা কারণে খুবই তাৎপর্যবহ। সবচেয়ে বড় কথা এই জয়ে দল আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবে। ভালো পরিকল্পনা নিয়ে এগোলে, জয়কেই একমাত্র টার্গেট করে সব কৌশলকে কাজে লাগিয়ে আন্তরিকতা নিয়ে খেললে যে ব্যর্থ হতে হয় না, এ জয় তারই পরিচায়ক। এই জয়ের মধ্য দিয়ে দুরন্ত টাইগাররা অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিলেন। টাইগারদের টিম স্পিরিট এবং তাদের অসাধারণ নৈপুণ্যে জাতি গর্বিত। সাবাশ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এই অবিস্মরণীয় জয় ও সাফল্যের জন্য আমাদের প্রাণঢালা অভিনন্দন।
খেলা পাঁচদিনের হলেও চতুর্থ দিনের প্রথমার্ধেই জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৫৬০ রান। এর জবাবে মাত্র ১৮৯ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরে গেছে জিম্বাবুয়ের খেলোয়াড়রা। ফলে প্রথম ইনিংসের ২৬৫ রানের সঙ্গে যোগ হয়ে দেশটির মোট রান দাঁড়িয়েছিল ৪৫৪। মুশফিকুর রহিম ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন। ২০৩ রান করেও অপরাজিত থেকেছেন তিনি। তার চারের সংখ্যা ছিল ২৮টি। এটা তার দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি। ২০১৮ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বরে মিরপুর স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধেই তিনি প্রথমবার ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন। সেবারের মতো এবারও মুশফিককে সঙ্গ দিয়েছেন মমিনুল। অধিনায়ক হিসেবে প্রচ- চাপে থেকেও মমিনুল করেছেন ১৩২ রান। বোলাররাও সমান দাপট দেখিয়েছেন। বোলারদের মধ্যে নাঈম একাই নিয়েছেন পাঁচটি উইকেট। একই ইনিংসে পাঁচ পাঁচটি উইকেট শিকার চাট্টিখানি কথা নয়। ২০১৮ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বরে চট্টগ্রামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অভিষেক ম্যাচে মমিনুল পাঁচ উইকেট নিয়ে রেকর্ড করেছিলেন।
প্রসঙ্গত, প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৬ উইকেট হারিয়ে ডিক্লিয়ার করে নিজেদের খেলার সমাপ্তি টেনেছিল। সে কারণে জিম্বাবুয়ের শুধু ইনিংস পরাজয় ঘটেনি, একই সঙ্গে ১০৬ রানের বিরাট ব্যবধানেও হেরেছে দেশটি। এই টেস্টে বিশেষভাবে উল্লেযোগ্য ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পারফরমেন্স। ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং সবক্ষেত্রেই টাইগাররা নৈপুণ্য দেখিয়েছে। দুরন্ত টাইগারদের দোর্দ-প্রতাপের কাছে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল পরাজয় মানতে বাধ্য হয়। এই জয়ের ভীষণ প্রয়োজন ছিল টাইগারদের। ২০১৮ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সর্বশেষ টেস্ট জয় করেছিলো। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সাকিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জিতেছিল ইনিংস ব্যবধানে। এবার মুমিনুল হকের নেতৃত্বে প্রথম টেস্ট জিতলো বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের ৭ম জয়। এর আগে মিরপুরেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইনিংস ও ১৮৪ রানের বড় ব্যবধানে জয়ি হয়েছিল বাংলাদেশ। প্রায় ১৪ মাস পর আবার টেস্টে দেশের মাটিতে জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ। আর ইনিংস ব্যবধানে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়।
আমাদের বিশ্বাস, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গৌরবময় এ জয়ে টাইগাররা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে। এ জয়ের ধারাবাহিকতায় ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আগামী দিনগুলোতেও সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে যাবে তারা। সঠিক কৌশল ও পরিকল্পনার পাশাপাশি ধৈর্য, সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার সমন্বয় ঘটানো গেলে বাংলাদেশের পক্ষে যে কোনো দেশের বিরুদ্ধেই জয়ী হওয়া সম্ভব হতে পারে, তা বার বার প্রমাণিত হয়েছে। দেশের সোনার ছেলেদের নিপুণ ক্রিকেটশৈলীতে দেশবাসীর ন্যায় আমরাও উল্লসিত। আশা করি, সামনের পাকিস্তান সিরিজেও কাক্সিক্ষত সাফল্য অর্জন করবে টাইগাররা। টাইগার্স, এগিয়ে যাও।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
The Post Viewed By: 114 People

সম্পর্কিত পোস্ট