চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

প্রসঙ্গ চট্টগ্রামের ইতিহাসে অমর একুশের বইমেলা

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | ৩:১৬ পূর্বাহ্ণ

জামাল উদ্দিন

প্রসঙ্গ চট্টগ্রামের ইতিহাসে অমর একুশের বইমেলা

এ কথা আজ অনেকেই জানেন যে অতীতের ধারাকে পেছনে ফেলে ২০১৯ সাল থেকে বিশাল এলাকা নিয়ে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বইমেলাÑ যা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর বইমেলার রূপ নিয়েছে। এর আগে ২০১৮ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বিভিন্নজনের উদ্যোগে খ- খ- ভাবে বইমেলা অনুষ্ঠিত হতো, যা পাঠকদের মিলনমেলায় পরিণত হতে বাধা হয়ে দাঁড়াতো। পরবর্তীতে আমরা কয়েকজন অনুভব করি যে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রয়োজন। চট্টগ্রামে খ- খ- বইমেলার পরিবর্তে বৃহত্তর পরিসরে একটি মেলা অনুষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে। এইসব বিবেচনায় নিয়ে ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নব নির্বাচিত মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত হয়ে তাঁর সহযোগিতা কামনা করি। তিনি বিষয়টি অনুধাবন করে ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিচ্ছিন্নভাবে একাধিক স্থানে বইমেলার আয়োজন না করে পরবর্তী বছর থেকে বৃহৎ পরিসরে চট্টগ্রামে কেবল একটি মাত্র বইমেলার আয়োজন করার ঘোষণা দেন। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সকলকে নিয়ে তিনি এক বৈঠকের আয়োজন করেন। ঐ বৈঠকেই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে ২০১৯ সালে অমর একুশের বইমেলা ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম চত্বরে বৃহৎ পরিসরে একক বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন নিজেই এর দায়িত্ব নিলেন। চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সদস্য ছাড়াও চট্টগ্রামের কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী ও বিভিন্ন পেশাজীবী নেতাদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠিত হলো। সভায় একটি কার্যকরী কমিটি এবং বিভিন্ন উপ কমিটিও গঠিত হলো। ইতিপূর্বে বিচ্ছিন্নভাবে যারা বইমেলা নামে বিভিন্নস্থানে মেলা আয়োজন করতো তাদের কেউ এ ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করে নি। সকলেই মেয়র-এর নেতৃত্বে একক বইমেলায় অন্তর্ভূক্ত হলেন।

২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত বইমেলায় প্রত্যাশার চাইতেও বেশি সংখ্যক প্রকাশক অংশগ্রহণ করলেন ঢাকা থেকে। প্রধান পৃষ্ঠপোষক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অভিপ্রায় ছিল ন্যূনতম ২৫জন প্রকাশক আনতে হবে ঢাকা থেকে। আমার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় সেই বছর ২০১৯ সালে শুধু ঢাকা থেকেই ৫০জন প্রকাশক অংশগ্রহণ করেন। তারই আলোকে ২০১৯ সালে ২০ দিন ব্যাপী একটি সফল বইমেলা অনুষ্ঠিত হল। সুন্দর আয়োজন ও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার বদৌলতে এই মেলা মর্যাদা লাভ করল দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর বইমেলায়।

২০১৯ সালে মোট ১১০ টি স্টল নিয়ে বইমেলা অনুষ্ঠিত হলেও ঐ বছরের উদ্বোধনী ঘোষণা অনুয়ায়ী মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিন ২০২০ সালের মেলার পরিধি দ্বিগুণ বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেন। আগের মতো আমাকে আবারো প্রকাশকদের মেলায় অংশগ্রহণের দায়িত্ব নিতে হয়েছে। এবার মেলায় ১৫৮জন প্রকাশক অংশগ্রহণ করেছে। তৎমধ্যে ঢাকার প্রকাশক রয়েছে ১১৮জন, এবং চট্টগ্রামের ৪০জন। বইয়ের স্টলের সাথে আছে লিটলম্যাগ কর্ণার। বিবিধ সহ মেলায় মোট স্টল সংখ্যা ২৩০টি। অর্থাৎ ২০১৯ সালের তুলনায় এবারের মেলার পরিধি দ্বিগুণ পরিসরে। এই বইমেলার নামকরণ করা হয় “মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত অমর একুশের বইমেলা, চট্টগ্রাম, ২০২০”। মেলাকে সুন্দর ও সুষ্ঠভাবে পরিচালনার জন্য একটি নীতিমালাও তৈরী করা হয়েছে। আয়োজিত এই মেলার পরিধি হলো ১,২০,৩০০ বর্গফুট। বইয়ের স্টল ছাড়াও মেলাকে কেন্দ্র করে নানা সাংস্কৃতিক ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। এসব অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান বুদ্ধিজীবীরা অংশগ্রহণ করে পুরো বইমেলাকে আরো প্রাণবন্ত করে তুলেছেন।
মানুষের মনকে বিকশিত করতে, জ্ঞানের পরিধি বিস্তারে, সভ্যতার বিকাশে বইয়ের অবদান প্রসঙ্গ বলে শেষ করা যাবে না। সুতরাং বইমেলার গুরুত্বও অপরিসীম।

২০২০ সালের চলমান বইমেলা এই নিরীখে অত্যন্ত সফল। প্রতিদিন হাজার হাজার বইপ্রেমী মানুষ সপরিবারে আসছেন বইমেলায়। এখানে একটি কথা না বললে নয় যে, জিমনেশিয়ামের বিশাল এই ময়দান ব্যবহারে এক টাকাও ভাড়া গুনতে হয় নি। মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিনের আন্তরিকতায় তা সম্ভব হয়েছে। এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম চত্বরে গত দু’বছর ধরে অনুষ্ঠিত বৃহত্তর পরিসরের একক এই বইমেলার আয়োজনের মূল কৃতিত্ব অবশ্যই তাঁর। তাঁর সহৃদয় পদক্ষেপ এটি এখন একটি স্থায়ী এবং টেকসই রূপ নিয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি চট্টগ্রামের ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছেন। ভবিষ্যতেও চট্টগ্রামে বইমেলার আয়োজনে তাঁর নাম বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। তাঁর নাম চট্টগ্রামের ইতিহাসে এই প্রসঙ্গে অমর হয়ে থাকবে। তাঁর অবদানও বার বার ভেসে আসবে আমাদের মানসপটে। আমাদের আশা এবং দাবী এই যে, ভবিষ্যতে চট্টগ্রামের বইমেলার আয়োজনে তাঁকে আমাদের পাশে থাকতে হবে, যেমন তিনি এখন আছেন, অতীতে ছিলেন।

জামাল উদ্দিন যুগ্ম সদস্য সচিব, অমর একুশে বইমেলা চট্টগ্রাম-২০২০; সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদ।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
The Post Viewed By: 157 People

সম্পর্কিত পোস্ট