চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২০

শাহ্ আবদুল মালেক আল কুতুবী মহিউদ্দিন আজমী (রাহ)

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | ৪:২৭ পূর্বাহ্ণ

এইচএম মুজিবুল হক শুক্কুর

শাহ্ আবদুল মালেক আল কুতুবী মহিউদ্দিন আজমী (রাহ)

আল্লাহ্ রাব্বুলআলামীন দুনিয়া সৃষ্টি করার পূর্বে তার প্রিয় মাহবুব হুজুর মুহাম্মদুর রাসুলাল্লাহ্ (দ.)-কে সৃষ্টির পরিকল্পনা করে তারপর বেহেস্ত, দোযখ, লৌহ মাহফুজ, আসমান-জমিন, ফেরেশতা, জ্বীন ও ইনসান সহ আঠারো হাজার মাখলুকাত সৃষ্টি করেছিলেন। সৃষ্টিকর্তা কত মহান কারিগর! তার সৃষ্টি গুলো কত সুনিপুণ সুন্দর! সে কথা বুঝার জন্য যাকে তিনি পছন্দ করে রেখেছিলেন তিনি হচ্ছেন তার প্রিয় মাহাবুব (দ.)। যৎ কারণে আল্লাহ্ সর্বপ্রথম রুহজগতে একটি সম্মেলন করেন। যেখানে তিনি ফেরেশতা নবী-রাসূলসহ জ্বীন ইনসানের সকল রুহকে একত্রিত করে তার একত্ববাদের পক্ষে সবার কায়েমনোবাক্যে স্বীকৃতি আদায় করেছিলেন এবং পরবর্তিতে শুধুমাত্র নবী ও রাসূলগণের রুহমোবারক একত্রিত করে একটি স্পেশাল সম্মেলনের মাধ্যমে তার প্রিয় হাবিব (দ) এর তথা রেসালতের পক্ষে সবার উপরে তারই প্রিয় হাবিব (দ)-কে প্রাধান্য দিয়ে সকল নবীর সেরা নবী, সকল রাসূলের সেরা রাসূল (দ.), সৃষ্টির সেরা সৃষ্টি হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করে নেন। যার অন্যতম কারণ হচ্ছে আমাদের প্রিয় রাসূল (দ.) কে নিয়ে যাতে করো মনে বিন্দুমাত্র প্রশ্নের উদ্বেগ না হয় সেজন্য মহান আল্লাহ পাক এ আয়োজন করেছিলেন। যা আজ দিনের আলোর ন্যায় পরিষ্কার।

সৃষ্টির সেরা নবীর আগমণের খবর সকল নবী-রাসূলের নবুয়ত ও রেসালতের দায়িত্ব পালনকালে প্রচার করে গিয়েছিলেন। এজন্য সাহাবায়ে কেরাম (র)’র প্রশ্নের জবাবে রাসূল (দ.) বলেন, “আওয়ালু-মা খলাক্বাল্লাহু নুরী” অর্থাৎ : আল্লাহ সর্বপ্রথম আল্লাহ্র নুর হতে আমাকে সৃষ্টি করেছেন। একথায় প্রতিয়মান হয় যে, আমাদের প্রিয় নবী সৃষ্টির সেরা সৃষ্টি এবং সৃষ্টির প্রথম সৃষ্টি। নবুয়তের ধারা পরিসমাপ্তি হয়েছিল আমাদের রাসূল (দ) এর আগমনের মধ্যে দিয়ে এবং আমাদের নবী (দ) এর প্রচারিত দ্বীন ও ইসলামের ঝান্ডাকে যুগের পর যুগ কিয়ামত পর্যন্ত টিকে রাখার জন্য বেলায়তের ধারা শুরু করেছিলেন তারই প্রিয় জামাতা ইসলামের ৪র্থ খলিফা আমিরুল মুমেনীন হযরত আলী (র)’র মাধ্যমে। যুগে যুগে বেলায়তের এ ধারা কেয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। মানবজাতিকে আলোর পথ দেখাতে দুনিয়ার মিথ্যা মোহ থেকে সঠিক পথে রাখার জন্য আলোর দিশা হিসেবে মহান আল্লাহ তা’আলা যুগে যুগে মুজাদ্দেদ, গাউছ, কুতুব, আবদাল ও সুফি দরবেশদের প্রেরণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখেন। মহান আল্লাহ বলেন সৃষ্টির মধ্যে এমন এক সম্প্রদায় যুগে যুগে আসবে, যারা পথভ্রষ্টদের সঠিক পথের দিশা দিবেন। এলমে তাসাউফের চর্চা ও বিকাশে যারা গুরুত্বপূর্ণ আবদান রেখেছেন এবং তাসাউফ চর্চার মাধ্যমে ¯্রষ্টার সাথে সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন।

এরকম হাজার হাজার আল্লাহর বান্দা রয়েছেন, যারা পৃথিবীতে আগমন করেছেন পথহারা মানুষদের মুক্তির পথ দেখানোর জন্য, মানুষের কলুষিত আত্মাকে পবিত্র করার জন্য, মানুষের মধ্যে ¯্রষ্টার প্রেম-ভালবাসা জাগিয়ে তোলার জন্য, সৃষ্টিকর্তা নিয়মিত তার প্রেরিত কিছু প্রতিনিধি বা খলিফাদের মাধ্যমে মানুষের অন্তরে হেদায়াত, খোদাভীতি, তাকওয়া ও পরহেজগারী জাগ্রত রাখার জন্য এ জাতীয় কিছু আল্লাহওয়ালা লোক প্রেরণ করে থাকেন। তাদের মধ্যে অন্যতম কুতুবদিয়া কুতুব শরীফ দরবারের প্রতিষ্ঠাতা শাহ্ আবদুল মালেক আল কুতুবী মুহিউদ্দিন আজমী (রাহ)। বাংলার জমিনে তাশরিফ এনে এদেশের কোটি কোটি মানুষের অব্যক্ত বেদনা, চাওয়া-পাওয়া খোদার ভান্ডার হতে অফুরান দান করে আজীবন মানুষের সার্বিক কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন তিনি।
নিঃসন্তান দম্পতিকে সন্তান দান, নিঃস্ব অভাবগ্রস্ত মানুষদের অভাব মোচন করা, মৃতপ্রায় মানুষকে হায়াত বৃদ্ধি করা, দুনিয়ার সেরা সেরা ডাক্তার কর্তৃক চিকিৎসা ফেরত রোগীর রোগ-বালাই হতে রোগমুক্তি। ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীও আল্লাহর রহমতে এ মহান অলির দোয়ার বরকতে শেফা লাভ করেছেন। যারা এ মহান অলির ফয়ুজাত লাভে ধন্য হয়েছেন শুধুমাত্র তারাই জানেন তিনি কত বড় মাপের আল্লাহর অলি ছিলেন।

আমার মরহুম পিতার নিজ জবানে বারংবার বলতে শুনেছি যে, একদা আব্দুল মজিদ সওদাগর কুতুব শরিফ দরবারে থাকাকালীন হঠাৎ ভীষণ অসুস্থতার মধ্যে খুবই খারাপ অবস্থায় পতিত হন। তখন উনার মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল, এক পর্যায়ে নড়াচড়া বন্ধ হয়ে শরীর শীতল হয়ে গিয়েছিল। এমতবস্থায় বখশীর হাটের পুরাতন দরবারী নুর বক্স সওদাগর, মাঝিরঘাটের গোল মুহাম্মদসহ আমার পিতা আব্দুল মজিদ সওদাগরের অবস্থা হযরত বাবাজান কেবলাকে অবহিত করেন। এমতাবস্থায় হযরত বাবাজান কেবলা (রাহ) কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে উঠলেন- সবাই আমার মজিদের জন্য দোয়া কর। আমি আমার আল্লাহর পক্ষ হতে আমার মজিদকে আরো ৩০ বছরের হায়াত নিয়ে দিলাম (সুবহান আল্লাহ)। এরপর তিনি যথারীতি সুস্থ হয়ে কয়েকদিন পর দরবার শরীফ হতে বাড়িতে ফিরে আসলেন। সুস্থ হওয়ার পর তিনি ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সবকিছু ত্যাগ করে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দরবার শরীফের সাথে নানাভাবে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেন।

আনোয়ারা জুইদন্ডী নিবাসী মরহুম ডা. মুহাম্মদ হোসাইন নামে পরিচিত এক ব্যক্তি উনার বটতলি বাজারে বড় একটি ফর্মেসির দোকান রয়েছে। এ-কারণে উনাকে সবাই ডাক্তার সাহেব হিসেবে সম্বোধন করতেন। তার ছেলে জুইদন্ডী ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক হোসাইনী আমার খুব কাছের বন্ধু দীর্ঘদিন তার সাথে আমার বন্ধুত্ব থাকলেও সে কোনদিন এ ঘটনা বলেনি সেদিন হঠাৎ গত সপ্তাহে আমার অফিসে এসে আমার সাথে নানা কথা-বার্তা বলাকালে বাবাজান কেবলার শাহাজাদা মওলানা জিল্লুল করিম মালেকী আল্ কুতুবী (ম জি আ) উপস্থিতিতে আমার বন্ধু মোজাম্মেল হোসাইনী বলেন, তার পিতা ৮০ দশকে পবিত্র হজ্ব পালনে গেলে সেখানে আসরের নামাজের কাতারে হঠাৎ কুতুবুদিয়ার হযরতুল আল্লামা শাহ্ আব্দুল মালেক আল কুতুবী সাহেব হুজুরের সাথে দেখা হওয়ার ঘটনা বর্ণনা করেন এবং নামাজপরবর্তী সময়ে তিনি আর বাবজান কেবলাকে দেখেননি। তারপর তিনি হজ্ব থেকে ফিরে এসে চলে যান সরাসরি কুতুবদিয়া কুতুব শরীফ দরবারে। সেখানে বাবাজান কেবলা তাকে সাদরে গ্রহণ করে মেহমান নেওয়াজি করেন। এরকম অসংখ্যা করামতের কথা লোকমুখে প্রচলিত আছে।

এইচএম মুজিবুল হক শুক্কুর মহাসচিব, বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি; চেয়ারম্যান, হজ্বযাত্রী কল্যাণ সংস্থা বাংলাদেশ।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 181 People

সম্পর্কিত পোস্ট