চট্টগ্রাম সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

ঝুঁঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বন্ধ হোক

১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | ২:২৩ পূর্বাহ্ণ

ঝুঁঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বন্ধ হোক

দেশে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বেড়েই চলেছে। এ কারণে শিশুদের দৈহিক গঠনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। কাজের লোক হিসেবে শিশুদের দিয়ে ভারি কাজ করানো হচ্ছে। জীবিকার তাগিদে কর্মে নিয়োজিত দেশের লাখ লাখ শিশুর নীরব ক্রন্দন কেউই লক্ষ করছে না। অনেক শিশু ভিক্ষাবৃত্তির পথও বেছে নিচ্ছে। অনেক বাবা-মা শিশুদের অর্থ উপার্জনের তাগিদে অন্যের বাসায় কাজ করতে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে চলে শিশুদের ওপর শারীরিক-মানসিক নির্যাতন। কাজে একটু ত্রুটি হলেই শিশুদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। অনেক বাবা-মার অবস্থা ভালো হওয়া সত্ত্বেও শিশু সন্তানদের ভিক্ষা করতে পথে নামিয়ে দেয়। এ প্রবণতা দেশ ও জাতির জন্য বড়ই লজ্জাজনক।

শিশুশ্রম বন্ধে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ আজকাল সমাজে লক্ষ করা যায় না। রাস্তা-ঘাটে, অলিতেগলিতে দেখা যায় শিশুদের ভারি কাজ করতে, ইটের ভাটায় ইট নামানো, এমনকি বাস-লেগুনায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অল্প বয়সেই শিশুরা হেল্পারি করছে। গাড়িতে-লঞ্চে পণ্য উঠানো-নামানোর কাজও করছে শিশুরা।

পড়াশোনা বাদ দিয়ে অনেক শিশু দোকানে কাজ করছে। যে বয়সে শিশুদের পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকার কথা, স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই বয়সে শিশুরা পরের বাড়িতে কাজ করছে। আজকাল ভারি কাজেও শিশুদের লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে। সমাজের কর্ণধাররা শিশুদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। সঠিক তদারকির অভাবে শিশুরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেশে শিশু অপহরণ বেড়ে গেছে। অপহরণ করে বাবা-মার কাছে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। বাবা-মা মুক্তিপণের টাকা দিতে ব্যর্থ হলে শিশুকে মেরে ফেলা হচ্ছে। অসাধুদের এমন অবৈধ কর্মকা- ক্রমেই বেড়ে চলেছে। পুরনো কলহের জের ধরেও সন্ত্রাসীরা পিতা-মাতাকে বিপদে ফেলতে নানা কৌশলে শিশুদের অপহরণ করছে। আর কতদিন চলবে এসব? এ থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে হবে আমাদের। দেশে শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কোনো শিশুকে যেন অর্থের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করা না হয় সেজন্য সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই বিপথগামী শিশুদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা সবার দায়িত্ব। সঠিক বয়সে শিশুকে স্কুলে পাঠাতে হবে। বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন সহযোগিতায় দরিদ্র শ্রেণির শিশুদের শিক্ষার নানা ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপবৃত্তির সুযোগ দেয়া হচ্ছে। তাই অভিভাবকদের অর্থনৈতিক দৈন্যদশা থাকা সত্ত্বেও শিশুদেরকে স্কুলে পাঠাতে হবে। অল্প বয়সেই শিশুরা যেন কুপথে না যেতে পারে সেজন্য পারিবারিক সচেতনতার বিকল্প নেই। শিশু নির্যাতন ও অপহরণ বন্ধ এবং শিশুশ্রম রোধ করে দেশের সব শিশুকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি প্রত্যাশা করছি।

তাইফুর রহমান মুন্না
প্রাবন্ধিক

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 96 People

সম্পর্কিত পোস্ট