চট্টগ্রাম বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

গড়ে তুলতে হবে সামাজিক প্রতিরোধ থেমে নেই বখাটেপনা

৩০ জানুয়ারি, ২০২০ | ৫:০৩ পূর্বাহ্ণ

গড়ে তুলতে হবে সামাজিক প্রতিরোধ থেমে নেই বখাটেপনা

বখাটেরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তাদের পাশবিক শিকারে পরিণত হচ্ছে অসহায় কিশোরী, তরুণী, বিশেষত মেয়ে শিক্ষার্থীরা। তারা একের পর এক ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিলেও তাদের নিয়ন্ত্রণ ও দমনে বরাবরই ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে প্রশাসন। দিনকয়েক আগে গ্যাং ইভটিজিংয়ের শিকার হয়ে বোয়ালখালী উপজেলায় এক শিক্ষার্থীর গৃহবন্দী জীবন ও সংঘবদ্ধ বখাটে সন্ত্রাসীদের দ্বারা তার খালা, খালু ও খালার দেবর বেদম মারধরের শিকার হওয়া এবং কিশোরীর অভিভাবকেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত নালিশ জানানোর পরও উপজেলা প্রশাসন তার পরিবারকে নিরাপত্তা দিতে না পারার খবর এসেছে একটি সহযোগী দৈনিকে। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, স্থানীয় কয়েকজন বখাটে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করেছিল মেয়েটিকে। প্রতিবাদ করায় বখাটেরা কিশোরীর তিন স্বজনকে বেদম প্রহার করে। ঘটনা কিন্তু এ পর্যন্ত থেমে থাকেনি। বেদম প্রহারের শিকার হওয়া তিন জনের বিরুদ্ধে বখাটেরা মামলাও করেছে। বখাটেদের ভয়ে দু’সপ্তাহ ধরে মেয়েটি ঘরবন্দী হয়ে আছে। এ অবস্থায় তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। আতঙ্কে আছে তার পরিবারও। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক বলতে হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, বখাটে সন্ত্রাসীদের কাছে কি আইনশৃঙ্খলাবাহিনীও অসহায়? নাকি তারা অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ পালন করছে না?

মূল্যবোধের অবক্ষয় ও সামাজিক অনুশাসন না থাকার পরিণতি কী হতে পারে, তা আমরা এখন হাঁড়ে হাঁড়ে টের পাচ্ছি। গ্যাং কালচারের বিপজ্জনক বিস্তৃতি ঘটার পাশাপাশি বখাটেপনার ব্যাধিকেও ছড়িয়ে দিয়েছে দেশব্যাপী। বখাটেরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তাদের পাশবিক শিকারে পরিণত হচ্ছে অসহায় কিশোরী, তরুণী, বিশেষত মেয়ে শিক্ষার্থীরা। কোথাও কোথাও গৃহবধূরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে বখাটেরা একের পর এক ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিলেও তাদের নিয়ন্ত্রণ ও দমনে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে প্রশাসন। বখাটের উৎপাত সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথও বেছে নিচ্ছে অনেকেই। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত নানা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বলছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহানগর থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গেছে বখাটেপনা। বখাটেপনা নামের এই যৌনসন্ত্রাস থেকে রক্ষা পেতে অনেক মেয়েই আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে। প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রাণ দিতে হয়েছে মা-বাবা-অভিভাবক তথা শিক্ষককেও। কোনো একটি ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর প্রতিবাদ হয়, মানববন্ধন হয়, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি উঠে। পত্রপত্রিকায়ও প্রচুর লেখালেখি হয়। তবে বাস্তবতা হচ্ছে প্রভাবশালীদের প্রশ্রয়ে পার পেয়ে যায় অপরাধীরা। কিছুদিন পর সব চাপা পড়ে যায়। আবার আগের চেহারায় ফিরে আসে বখাটেরা। এতে শাস্তির দৃষ্টান্ত স্থাপন হচ্ছে না। কোথাও কোথাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকাও রহস্যজনক। অনেকে পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে ধারাবাহিকভাবে অপরাধ কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছে। আবার মামলা ও তদন্তের দুর্বলতার কারণে অনেক আসামি শাস্তি থেকে পার পেয়ে যাচ্ছে। ফলে সামাজিক এই ব্যধিটি থেকে কোনোভাবেই মুক্তি মিলছে না। দ্রুত বাড়ছে অপরাধপ্রবণতা। বখাটেরা হয়ে উঠছে অপ্রতিরোধ্য।

বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং অপকর্মে আশকারা পেতে পেতে অপরাধীদের চিন্তাভাবনা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে, ঘৃণিত কাজ করাকে তারা নিজেদের অধিকার হিসেবে গণ্য করছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এমন অপরাধের সাথে ক্ষমতার রাজনীতিরও সম্পর্ক পাওয়া যাচ্ছে। এ অপকাজে বাধা দিতে গিয়ে নীতিবান মানুষরা বখাটেদের বিদ্বেষের শিকার হচ্ছেন। ফলে, সাধারণ মানুষ অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে এগিয়ে আসছে না। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, সমাজ থেকে ন্যায়নীতির চেতনা ও সৎসাহস বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। কোনো সভ্য ও সুস্থ সমাজে এমন চিত্র কাম্য হতে পারে না। এই চিত্রের চির অবসান ঘটাতে হবে দেশ ও জনস্বার্থে। এই বর্বরদের ঠেকাতে এখনই সর্বশক্তি প্রয়োগ না করলে একসময় জাতিকে এর চরম খেসারত দিতে হবে। আমরা মনে করি, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে বখাটেপনা নামক ব্যাধির মূলোৎপাটনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই। বখাটের উৎপাতে যেন আর কোনো মেয়ের জীবন বিপন্ন না হয়, সে উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 106 People

সম্পর্কিত পোস্ট