চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২০

সর্বশেষ:

পুনঃনির্বাচন দাবি সুফিয়ানের

১৪ জানুয়ারি, ২০২০ | ৩:২৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

পুনঃনির্বাচন দাবি সুফিয়ানের

ভীতি প্রদর্শন, কেন্দ্র দখল ও এজেন্ট বের করে দেয়ার অভিযোগ

ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, কেন্দ্র দখল ও এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনের উপ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ স্থগিত করে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান। তিনি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পুনরায় ভোট গ্রহণের আবেদন করেছেন। গতকাল সোমবার বেলা একটায় নগরীর নাসিম ভবনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান তিনি। নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় বিএনপির বেশ কিছু নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান সুফিয়ান।
তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি বিবেচনায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নির্বাচন স্থগিত করে পুনরায় দিতে লিখিত আবেদন করেছি। কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে আলোচনা করে সময় নিচ্ছি।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করসহ নেতাকর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলনে আবু সুফিয়ান বলেন, ‘মোট ১৭০ টি কেন্দ্রের মধ্যে অলমোস্ট সব কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। ভোটারদের যেতে দেওয়া হয়নি। গোপন বুথে ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরা ভোট দিচ্ছে। এসব কারণে ভোট স্থগিত করে পুনরায় ভোটের আবেদন করছি।’
নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমরা বলেছি প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে। কিন্তু প্রতিটি কেন্দ্রের ভিতরে বাইরে শতশত ছাত্রলীগ যুবলীগ কর্মী দখলে নিয়ে নেয়। এদের অধিকাংশই বহিরাগত। তারা লাইন ধরে ভোট দিয়েছে। সেখানে বয়স্ক, মধ্যবয়স্কদের দেখা যায়নি। এমনকি বিএনপি কিংবা ধানের শীষের ভোটার পেলে মারধর করেছে। এ কারণে অনেকে কেন্দ্রেও যেতে পারেনি।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘প্রহসনের নির্বাচনকে ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে দেখানোর জন্য এ পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে। ১১টা ৩৫ মিনিটে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। ১২০টি কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। তিনি ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলেও কিছু করতে পারেননি।’

বিএনপি সভাপতি শাহাদাত বলেন, প্রতি কেন্দ্রে সেনা সদস্য থাকবে বলেছিলেন সিইসি ও ইসি। এখন বলছে কারিগরি ত্রুটির জন্য থাকবে, ভোটের পরিবেশের জন্য নয়।
শাহাদাত হোসেন অভিযোগ করেন, প্রতি ভোটকেন্দ্র ছাত্রলীগ-যুবলীগের ক্যাডাররা কেন্দ্র দখলে নিয়েছে। তাঁদের এজেন্টদের মেরে বের করে দেওয়া হয়। ভোটারদের আগের রাত থেকে হুমকি দেওয়া হয় যেন ভোটকেন্দ্রে না আসে। এ অভিযোগগুলো রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
আবু সুফিয়ানের বিবৃতি : চট্টগ্রাম-৮ আসনে একতরফা ও প্রহসনের নির্বাচনের প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপি প্রার্থী আবু সুফিয়ান। গতরাতে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রচারণায় বাধা প্রদান, মিথ্যা মামলা দায়ের, বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি প্রদানের পরও আমরা আশা করেছিলাম নির্বাচন অবাধ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে এবং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারবেন। কিন্তু জনগণের সকল প্রত্যাশাকে অবজ্ঞা করে অধিকাংশ ভোট কেন্দ্রের আওয়ামী সন্ত্রাসীরা কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের এজেন্টকে বের করে দিয়ে ইভিএমের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিয়ে নিজেরাই নৌকা মার্কায় ভোট দেয়। জনগণ ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়নি।
তিনি বলেন, অধিকাংশ কেন্দ্রে আমার পোলিং এজেন্টদের ভোট শুরু হওয়ার সাথে সাথেই কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। বিভিন্ন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা সারাদিন থেমে থেমে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়।

তিনি বলেন, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। কিন্ত আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে তাদের চিরাচরিত চরিত্র সন্ত্রাসী কর্মকা-ের মাধ্যমে ভোট কেন্দ্র দখল, ভোটের পূর্বরাতে ভীতি প্রদর্শন এবং ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির পরও আমাকে যারা সমর্থন দিয়েছেন, যারা নির্বাচনী কর্মকা-ে, প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন এবং যারা ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে সন্ত্রাসীদের বাধার কারণে ভোট দিতে পারেননি এবং যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। একই সঙ্গে নির্বাচন কর্মকান্ডে যুক্ত নির্বাচনী কর্মকর্তা, সাংবাদিক, গণমাধ্যম কর্মী, পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তা যারা সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আন্তরিক ছিলেন এবং পরিশ্রম করেছেন তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। জালিয়াতির এই নির্বাচন অবিলম্বে বাতিল ঘোষণা করে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।

The Post Viewed By: 130 People

সম্পর্কিত পোস্ট