চট্টগ্রাম সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

চট্টগ্রাম-৮ আসনে ভোট হবে নিরপেক্ষ, ইভিএমে শঙ্কা নেই

৯ জানুয়ারি, ২০২০ | ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম-৮ আসনে ভোট হবে নিরপেক্ষ, ইভিএমে শঙ্কা নেই

প্রার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভায় সিইসি

সর্বোত্তম পন্থায় সর্বোতভাবে নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক মতাদর্শ বাদ দিয়ে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা দিয়েছি।’

গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ) আসনের উপ-নির্বাচনে প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে সকাল ১১টায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এবং বিকেলে নির্বাচনে দায়িত্বরত প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। গত মঙ্গলবার বোয়ালখালী পরিদর্শন করেন তিনি।
প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মোছলেম উদ্দিন আহমদ, বিএনপি প্রার্থী মো. আবু সুফিয়ান, বিএনএফ প্রার্থী ও দলের চেয়ারম্যান এস এম আবুল কালাম, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী অধ্যক্ষ

সৈয়দ মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন, ন্যাপের প্রার্থী বাপন দাশগুপ্ত, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ এমদাদুল হক। উপস্থিত ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাক খান প্রমুখ।
এ বিষয়ে সিইসি নূরুল হুদা বলেন, ‘প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। কোন সংঘাত-সংঘর্ষ বা প্রতিহিংসা ও উস্কানিমূলক কর্মকা- ঘটেনি। নির্বাচন পর্যন্ত তা বজায় থাকবে এই প্রত্যাশা করছি।’
সভায় বিএনপি প্রার্থী আবু সুফিয়ান নির্বাচনী পরিবেশের জন্য নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘শেষ ভালো যার, সব ভালো তার।’ তিনি অভিযোগ করেন, নগরীর অংশে ভালো পরিবেশ থাকলেও বোয়ালখালী অংশে কর্মী-সমর্থকদের ভয়-ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘এই আসনে চারটি থানা রয়েছে। প্রতিটি থানায় মামলা প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে বলে শুনেছি। আপনি (সিইসি) ঢাকায় চলে যাওয়ার পর নেতাকর্মীদের হয়রানি, গ্রেপ্তারের আশঙ্কা প্রকাশ করছি।’ ভোটার ও এজেন্টদের নিরাপত্তার দাবি করে বিএনপি প্রার্থী বলেন, ‘এই নির্বাচন নিয়ে কমিশন পরিশ্রম করছে। পথে ভোটারদের যাতে বাধা না পেয়ে নির্বিঘেœ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।’

এ বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘মামলার বিষয়ে ডিআইজি ও পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলব। এছাড়াও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছি।’
নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ ৬জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সরকারি দল সমর্থিত প্রার্থী ছাড়াও অধিকাংশ প্রার্থীই বলেন, নির্বাচনের প্রতি ভোটারের আস্থা সংকট রয়েছে। তা ফিরিয়ে আনার দাবি করেছেন প্রার্থীরা।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোছলেম উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি কখনো অপরাজনীতি করিনি। আমার হাতে রক্তের দাগ নেই। আমি চাই না, নির্বাচনে কোনো মায়ের বুক খালি হোক। সংঘাত করে নির্বাচিত হলেও আমি শান্তি পাবো না। তিনি বলেন, এখনো পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠ সুন্দর রয়েছে। আগামীদিনগুলোও সুন্দর পরিবেশ থাকবে।’
প্রধান নির্বাচন কমিশন নূরুল হুদা বলেন, ‘একটিমাত্র আসনে নির্বাচন। এ নিয়ে সবাই সজাগ আছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে রয়েছে। কোনো অনিয়ম হলে সাথে সাথেই ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন দিবেন।’

নির্বাচনে সংঘাতে আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত শান্তি ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ রয়েছে। আরমাত্র কয়েকটি দিন রয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করতে পারি, সংঘাত হয়নি, আর হবেও না।’
আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোছলেম উদ্দিনের অভিযোগের বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের বিষয়ে প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা আছে। পৌর মেয়রের বিষয়ে নেই। তবে পৌর মেয়র স্টিকার লাগিয়ে যেতে পারবেন না। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি, স্পিকারের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি এই আইন পছন্দ করি না। সংসদে অধিকসংখ্যক বিরোধীদলের সদস্য থাকলে আইন সংশোধনের জন্য প্রস্তাব দিতাম।’
আইনশৃঙ্খলা সভা, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার নিয়ে।
সিইসি নূরুল হুদা বলেন, ‘ইভিএম নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। এখানে হ্যাকিং হওয়ার সুযোগ নেই। ইন্টারনেট সংযোগ নেই।’ ইভিএম নিয়ে নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘আমাাদের ইভিএম মেশিন ভারতে মেশিন থেকে অনেক উন্নতমানের।’ প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে ২৫ শতাংশ ভোট দেওয়ার ক্ষমতার বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘এটা ভোট ভুয়া তথ্য, গুজব। কোন আইন বা বিধিতে তা নেই। নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের আয়োজন করে। আর ভোটারদের ভোটকেন্দ্র আনা, ভোট দেওয়ার পরিবেশ রাখার দায়িত্ব প্রার্থীদের। আমাদের দায়িত্ব প্রিসাইডিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োগ করা। আর ভোটকেন্দ্রের ভেতরের নিরাপত্তার দায়িত্ব পুলিশের। সেই রকম কিছু হয়ে থাকবে সাথে সাথে জানাবেন।’
অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রার্থীদের সঙ্গে কারো ব্যক্তিগত বা আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকতে পারে। পছন্দ-অপছন্দ বা রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে। কিন্তু সবকিছুর উর্ধ্ব ওঠে নির্বাচনে সম্পূন্ন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করার নির্দেশনা দিয়েছে।’
সকালে সার্কিট হাউসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশন। এতে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার বাহিনীসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভাশেষে সিইসি সাংবাদিকদের বলেন, অতীতের নজির ভেঙে আগামী ১৩ জানুয়ারি চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, ‘যেহেতু ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) নির্বাচন হবে, তাই সংঘাতের কোনো শঙ্কা নেই। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংখ্যাও যৌক্তিকভাবে কমানো হবে।’ তবে স্ট্রাইকিং ফোর্স, মোবাইল ফোর্স, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, ব্যাটালিয়ন আনসার দায়িত্ব পালন করবে। ইভিএমে ব্যালট বাক্স ছিনতাই-কারচুপির কোনো সুযোগ না থাকায় আমিও আইনশৃঙ্খঙ্খলা বাহিনীর সংখ্যাও কমানোর পক্ষে।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু হয়, কারচুপি যাতে না হয়, ব্যালট ছিনতাই না হয় এবং যারা নির্বাচন পরিচালনা করবেন, তাদের পরিশ্রম যাতে লাঘব হয়, সেই চিন্তা করেই আমরা ইভিএম করেছি। ইভিএমের মাধ্যমে একজনের ভোট আরেকজন দিতে পারবেন না, একবার একজন ভোট দিলে তিনি দ্বিতীয়বার দিতে পারবেন না। এতে ইভিএম নিয়ে আপত্তির কোনো কারণ নেই।’

নির্বাচনী পরিবেশ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে সিইসি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা আমাকে আশ্বস্থ করেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব হবে। পরিবেশ-পরিস্থিতি অত্যন্ত সুন্দর। আমরাও আশ্বস্থ হয়েছি যে, নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে। ভোটাররা যে প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়ী করবেন, তিনিই জয়ী হবেন।’

মতবিনিময় সভায় নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেসুর রহমান, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল মান্নান, সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার আমেনা বেগম, চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান, চট্টগ্রাম জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. মুনীর হোসাইন খান, সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. শফিকুর রহমান প্রমুখ।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 313 People

সম্পর্কিত পোস্ট