চট্টগ্রাম শনিবার, ০৪ জুলাই, ২০২০

সর্বশেষ:

মহিউদ্দিনের মতো ত্যাগী নেতা যুগে যুগে আসবে না

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ | ৫:১৩ পূর্বাহ্ণ

২য় মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় আমির হোসেন আমু এমপি

মহিউদ্দিনের মতো ত্যাগী নেতা যুগে যুগে আসবে না

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ম-লীর সদস্য, সাবেক মন্ত্রী, মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন আমু এমপি বলেছেন, রাজনীতির মর্মার্থ হল জনকল্যাণ, সেবা, সৃষ্টিশীলতা এবং গণমানুষের প্রতি ভালবাসা। চট্টগ্রামের মাটি ও মানুষের নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন তেমনই একজন পরিশুদ্ধ রাজনীতিক। তাঁর মতো ত্যাগী ও আদর্শবান নেতা যুগে যুগে আসবে না। তাই মহিউদ্দিন চৌধুরীকে আমি প্রয়াত বলতে চাই না। তিনি আদর্শিক রাজনীতিকদের প্রেরণা হিসেবে অনন্তকাল বেঁচে থাকবে। মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র মুক্তিযোদ্ধা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ২য় মৃত্যুবার্ষিকী পালনোপলক্ষে গতকাল রবিবার সকালে নগরীর কাজীর দেউরীস্থ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে মহানগর আওয়ামী লীগের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। তিনি মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করে বলেছেন, ছাত্রজীবন থেকে তিনি সংগ্রামী এবং সৃজনশীল কর্মী সৃষ্টির কারিগর ছিলেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেও তাঁর অবদান ইতিহাসের পাতায় অমলিন থাকবে। মহানগর আওয়ামী লীগের যতগুলো সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন তাতেও তিনি শতভাগ সফল। তাঁর রাজনীতি ছিল সেবাধর্মী। তাঁকে চট্টলবীর বলে অভিহিত করা হলেও তিনি তাঁর আপন কর্মগুণে জাতীয়ভাবে সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর মধ্যে আমরা জাতীয় নেতৃত্বের গুণাবলী খুঁজে পাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মহিউদ্দিন চৌধুরী বিনয়ের সাথে বলেছিলেন চট্টগ্রাম আমার অস্তিত্বের শিকড়।

আমি চট্টগ্রামকে নিয়েই থাকতে চাই। তবে তিনি যে-কোন জাতীয় সংকটে এবং দল ও দেশের ক্রান্তিকালে একজন আপসহীন গণনায়ক হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থাভাজন ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ¯েœহধন্য ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন এই রাজনীতিক হিমালয়সম উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে শুধু চট্টলবাসী নয়, পুরো দেশবাসী কেঁদেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও চোখের পানি ফেলেছেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মহিউদ্দিন চৌধুরীর কর্মকা-ের বর্ণনা দিয়ে বলেন, তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আত্মনির্ভরশীল করেছেন। মেয়র হিসেবে তিনি শিক্ষার আলো ছড়িয়েছেন এবং স্বাস্থ্যসেবা নগরবাসীর ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন। চট্টগ্রামের উন্নয়নে তাঁর অবদান ঈর্ষণীয়। তার কর্মপ্রয়াস বিদেশেও প্রশংসিত। তিনি বিশ্বাস করতে চট্টগ্রাম এগিয়ে গেলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শিক্ষা উপমন্ত্রী প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সন্তান ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি বলেছেন, সন্তান হিসেবে আমি বাবার জন্য গর্ববোধ করি। তাঁর স্মৃতিচারণ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। তবে একটা কথা বলতে চাই তিনি নতুন প্রজন্মের প্রতি দরদী ছিলেন এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত নির্মাণে স্বপ্ন দেখতেন-এটাই আমার বাবার জীবনাদর্শ। আগামী প্রজন্মকে তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নিতে হবে। দক্ষিণ জেলা আ.লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী আন্দোলন সংগ্রামের-¯্রষ্টা। তিনি গণমানুষের নেতা এবং কর্মীবান্ধব। তিনি শিখিয়েছেন ব্যক্তির চেয়ে দেশ বড়।

মহানগর আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, মহিউদ্দিন ভাই ছিলেন হৃদয়ছোঁয়া গণমানুষের নেতা। তাঁর রাজনৈতিক জীবন কর্ম নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই। উত্তর জেলা আ.লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম.এ সালাম বলেছেন, মহিউদ্দিন চৌধুরীর মতো একজন নেতার সাহচর্য পেয়ে অনেক কিছু শিখেছি। তাঁর সাথে একান্তে অনেক রাজনৈতিক স্মৃতি আছে। এই স্মৃতিগুলো আমার ভিতরে দেশপ্রেমকে জাগ্রত করে। সভাপতির বক্তব্য রাখেন মহানগর আ.লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমার বাবা মরহুম জহুর আহমদ চৌধুরীর ভাবশিষ্য। কঠিন সময়ে তাঁকে কখনো গ্রাস করেনি। তাঁর সাথে কারো রাজনৈতিক মতান্তর ছিল না। মহানগর আ.লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুকের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, উত্তর জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, মহানগর আ. লীগের সহ সভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী, খোরশেদ আলম সুজন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, মহানগর আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম, উপদেষ্টা শফর আলী, কার্যনির্বাহী সদস্য বখতেয়ার উদ্দিন খান, মোরশেদ আকতার চৌধুরী, থানা আ.লীগের শাহাব উদ্দিন আহমেদ, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আবুল বশর, স্বেচ্ছাসেবক লীগের এডভোকেট এএইচএম জিয়া উদ্দিন, সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এডভোকেট সুনীল সরকার, সাবেক মন্ত্রী ডা. আফসারুল আমীন এমপি, এডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, সহ-সভাপতি ও সিডিএ চেয়ারম্যান এম. জহিরুল আলম দোভাষ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম. এ রশীদ, কোষাধ্যক্ষ আবদুস সালাম, সাংসদ এম. এ লতিফ, উপদেষ্টা শেখ মো. ইসহাক, সম্পাদক ম-লীর সদস্য নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, সৈয়দ হাসান মাহমুদ সমশের, এডভোকেট শেখ ইফতেখার সায়মুল চৌধুরী, চন্দন ধর, মশিউর রহমান চৌধুরী, আহমেদুর রহমান ছিদ্দিকী, হাজী মোহাম্মদ হোসেন, হাজী জহুর আহমেদ, মাহবুবুল হক মিয়া, জোবায়েরা নার্গিস খান, ইঞ্জিনিয়ার মানস রক্ষিত, আবদুল আহাদ, দিদারুল আলম চৌধুরী, আবু তাহের, ড. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী, শহিদুল আলম, জহরলাল হাজারী প্রমুখ। দিবসের শুরুতে সকালে মরহুম এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর চশমা হিলস্থ কবরে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক, সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন সহ নেতৃবৃন্দ ফাতেহা পাঠ, কবর জিয়ারত শেষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে মহানগর নেতৃবৃন্দ মরহুম মহিউদ্দিন চৌধুরীর চশমা হিলস্থ বাসভবনে গিয়ে মরহুমের স্ত্রী হাসিনা মহিউদ্দিনসহ পরিবারের সকলের সাথে বিশেষ মুনাজাতে শরীক হন।
উত্তর জেলা আ.লীগ : এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ২য় মৃত্যুবার্ষিকীতে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ১৫ ডিসেম্বর রবিবার সকাল ১০ টায় চশমা হিলস্থ মরহুমের কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, জেয়ারত ও মোনাজাত করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন উত্তর জেলা আ. লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম.এ সালাম, সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. আতাউর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট ফখরুদ্দিন চৌধুরী, মো. আবুল কালাম আজাদ, মো. আবুল হাশেম, দেবাশীষ পালিত, জসিম উদ্দিন শাহ, আলাউদ্দিন সাবেরী, ইফতেখার হোসেন চৌধুরী বাবুল, আলহাজ্ব জাফর আহমেদ, শওকতুল আলম, মোহাম্মদ ইদ্রিস, ফোরকান উদ্দিন আহমদ, নজরুল ইসলাম তালুকদার, জেলা কৃষকলীগ সভাপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা মো. সেলিম উদ্দিন, ডা. মোহাম্মদ সেলিম, নাজিম উদ্দিন, সাবেক ছাত্রনেতা বখতেয়ার সাঈদ ইরান প্রমুখ ।

দক্ষিণ জেলা আ.লীগ : সংগঠনের দক্ষিণ জেলা সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ বলেছেন, মানুষ মানুষের জন্য এই চরম সত্য নিয়েই মহিউদ্দিন চৌধুরী রাজনীতি করতেন। জুলুম নির্যাতনের প্রবল প্রতিবাদকারী, স্বাধীনচেতা, মানুষের দৃষ্টিকাড়া ব্যাক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন তিনি। গতকাল ১৫ ডিসেম্বর মহানগর আওয়ামী লীগ সাবেক সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ২য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ জেলা আ. লীগ সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ কুমার দাশ, শ্রম সম্পাদক খোরশেদ আলম, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক বোরহান উদ্দিন এমরান, সাবেক কাউন্সিলর আবু তাহের, ডা. আ ন ম মিনহাজুর রহমান, এম হোসাইন কবির, ছাত্রলীগ সহ সম্পাদক রাশেদুল আরেফিন জিসান, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি ফরহাদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি পিকু সেন, যুগ্ম সম্পাদক রিদুয়ান লাভলু, প্রচার সম্পাদক আবু বকর জীবন, জাহাঙ্গীর রেজা,মা. শাহেদ, মৌলানা মো. ইউনুছ টাইগার প্রমুখ।
সভার পূর্বে দক্ষিণ জেলা আ. লীগ নেতৃবৃন্দ চশমা হিলস্থ মরহুম এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কবর জেয়ারত করেন এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

The Post Viewed By: 300 People

সম্পর্কিত পোস্ট