চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৭ আগস্ট, ২০২০

সর্বশেষ:

ইঞ্জিন সংকটের খেসারত ৩ কোটি টাকা !

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ | ৫:৫৯ পূর্বাহ্ণ

আল-আমিন সিকদার

ইঞ্জিন সংকটের খেসারত ৩ কোটি টাকা !

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল ৪ দিনে যাত্রা বাতিল ৮ বার পণ্যবাহী ট্রেনের ষ জুনে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে যুক্ত হচ্ছে ১০ ইঞ্জিন

ইঞ্জিন সংকটের কারণে গত ৪ দিনে পূর্বাঞ্চল রেলের হাতছাড়া হয়েছে কমপক্ষে ৩ কোটি টাকা। ৪ দিনে ৮ বার পণ্যবাহী ট্রেনের যাত্রা বাতিল হওয়ায় এ আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে জানান রেলওয়ের পরিবহন ও বাণিজ্যিক বিভাগের কর্মকর্তারা। রেলওয়ের পরিবহন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পণ্য বোঝাই করার পর ইঞ্জিন সংকটের কারণে ৪ দিনে ৮ বার পণ্যবাহী ট্রেনের যাত্রা বাতিল করতে হয়েছে। গত ৪ ডিসেম্বর (বুধবার) ১৪০টি গাড়ির মধ্যে কন্টেইনার বোঝাই ছিল ২৮০টি, ৬০টি গাড়ির মধ্যে ট্যাংক বোঝাই ছিল ১২০টি, ৩৯টি গাড়ির মধ্যে ফার্টিলাইজার বোঝাই ছিল ৬০ এবং সদর রসুলপুরে ১৬টি গাড়ির মধ্যে বিকেসি বোঝাই ছিল ৩২টি। ইঞ্জিন না থাকায় ৯৬১ আপ ট্রেনটি সাড়ে ১১টার পরিবর্তে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে ছাড়ে।

এছাড়া সদর রসুলপুর বিকেসি স্পেশাল এবং ৯৫১ আপ ট্যাংক স্পেশাল ট্রেনটি বাতিল করা হয়। ৫ ডিসেম্বর ১০০ গাড়ির মধ্যে কন্টেইনার বোঝাই ছিল ২০০টি, ২৮টি গাড়ির মধ্যে ট্যাংক বোঝাই ছিল ৫৬টি, ১৬ গাড়ির মধ্যে বিকেসি বোঝাই ছিল ৩২টি, ৩০টি গাড়ির মধ্যে ফার্টিলাইজার ৬০টি বোঝাই থাকার পরও ইঞ্জিন না থাকায় বাতিল করা হয় সদর রসুলপুর বিকেসি পার্বতীপুর ফার্টিলাইজার স্পেশাল ট্রেনটি। ৬ ডিসেম্বর ৮০টি গাড়ির মধ্যে কন্টেইনার বোঝাই করা হয় ১০০টি, ৩২টি গাড়ির মধ্যে ফার্টিলাইজার বোঝাই ছিল ৬৪টি, ৩৫ টি গাড়ির মধ্যে ট্যাংক বোঝাই ছিল ৭০টি, ১৬টি গাড়ির মধ্যে বিকেসি ৩২টি বোঝাইয়ের জন্য ৯৮১ নম্বর ট্যাংক স্পেশাল ট্রেনটি যাত্রার কথা ছিল সাড়ে ১০টায়, ৮০৫ নম্বর কন্টেইনার ট্রেনটি সাড়ে ১১টায় ও রসুলপুর বিকেসি স্পেশাল ট্রেনটি রাত ১টায় ছাড়ার কথা থাকলেও ইঞ্জিন না থাকায় বাতিল করা হয় যাত্রা । ৮ ডিসেম্বর ৮৭টি গাড়ির মধ্যে কন্টেইনার বোঝাই ছিল ১৭৪টি, ৪৭টি গাড়ির মধ্যে ট্যাংক বোঝাই ছিল ৯৪টি, ১০টি গাড়ির মধ্যে ফুড গ্রেইন বোঝাই করা হয় ২০টি, ১০ গাড়ির মধ্যে ফার্টিলাইজার বোঝাই করা হয় ২০টি, ১৬ গাড়ির মধ্যে বিকেসি বোঝাই ছিল ৩২টি। কিন্তু ইঞ্জিন সংকটের কারণে ৮০৩ নম্বর ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করা হয়। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন পূর্বকোণকে বলেন, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে পণ্য পরিবহনে দুই হাজার সিরিজের ইঞ্জিন ব্যবহৃত হচ্ছে। রেলওয়েতে এসব ইঞ্জিন যুক্ত হয়েছে ১৯৫০ এর দশকে। পাকিস্তন আমলের পুরোনো সেই ইঞ্জিন দিয়ে এখনও চলছে পণ্য পরিবহন। একটি ইঞ্জিনের ইকোনমিক লাইফ বা কার্যক্ষমতা থাকে ২০ বছর। অথচ এই ইঞ্জিনগুলোর ইকোনমিক লাইফ তিনবার শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু এগুলো চলার মত উপযোগী নয়। তাও আমাদের চালাতে হচ্ছে। তবে মাঝে মধ্যে নানা ত্রুটির কারণে যাত্রা বাতিল করতে হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাণিজ্যিক কর্মকর্তা পূর্বকোণকে বলেন, ‘যাত্রা বাতিল না হলে ৪ দিনে ৩ কোটিরও বেশি টাকা আয় করতো রেল। কারণ, একটি পণ্যবাহী ট্রেনে ৩৩টি করে গাড়ি থাকে। যার প্রতিটি গাড়ির ভাড়া হিসেবে রেল পায় ২ লাখ টাকা। অথচ ৪ দিনে ৮ বার পণ্যবাহী ট্রেনের যাত্রা বাতিল হওয়ায় কোটি

টাকা আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ইঞ্জিন সংকট দূর হলে রেল বড় ধরণের লোকসানের হাত থেকে বাঁচবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।’ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মিজানুর রহমান পূর্বকোণকে বলেন, কোরিয়া থেকে আগামী জুন মাসে বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন আসছে। এরমধ্যে ১০টি পূর্বাঞ্চলে যুক্ত হবে। এসব ইঞ্জিন এলে এ সংকট কেটে যাবে। তবে এত সংকটের মাঝেও পণ্যবাহী ট্রেন থেকে চলতি অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ আয় হয়েছে বলেও জানান তিনি। এদিকে আমাদানি করা নতুন ইঞ্জিন যুক্ত হলে রেলওয়ের রাজস্ব আরও বাড়বে বলে জানান রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) নাসির উদ্দিন আহমেদ।

The Post Viewed By: 148 People

সম্পর্কিত পোস্ট