চট্টগ্রাম বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২০

সর্বশেষ:

কক্সবাজারে দুই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন: আটক প্রধান শিক্ষক  

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ | ৬:৫৯ অপরাহ্ণ

কক্সবাজার সংবাদদাতা

কক্সবাজারে দুই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন: আটক প্রধান শিক্ষক  

কক্সবাজারের ঈদগাঁওতে দুই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে আবুল কাসেম (৪২) নামে নুরানী মাদ্রাসার এক প্রধান শিক্ষককে জনতার সহায়তায় আটক করেছে ঈদগাঁও পুলিশ। মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেলে কথিত প্রধান শিক্ষক কাসেমকে তার কর্মস্থল থেকে আটক করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে ইউনিয়নের পূর্ব ভুতিয়া পাড়া মাছুয়াখালী মোহাম্মদীয়া কে.কি.নূরানী মাদ্রাসার দক্ষিণ পাশে পরিত্যক্ত ক্লাস রুমে। আটককৃত আবুল কাসেম ঈদগাঁও ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মাছুয়া খালী মুরা পাড়া মরহুম আব্দুল জব্বারের ছেলে এবং মোহাম্মদীয়া কে.জি. নুরানি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। চরিত্রহীন প্রধান শিক্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

জানা যায়, গত ৮ ডিসেম্বর (রবিবার) বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে পরীক্ষা চলাকালীন ২য় শ্রেণীর এক ছাত্রীকে (সঙ্গত কারণে ভিকটিমদের পরিচয় গোপন রাখা হল) ফুসলিয়ে মাদ্রাসার পরিত্যক্ত কক্ষে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক যৌন নিপীড়ন চালায়। একইভাবে পরদিন (৯ ডিসেম্বর) সোমবার ৩য় শ্রেণীর আরো একজন ছাত্রীকে একই কায়দায় যৌন নিপীড়ন করে। প্রথম যৌন হয়রানির শিকার ছাত্রী পরদিন ঘটনার বিস্তারিত তার মা’কে জানালে তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটিকে অবগত করেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হলে বেরিয়ে আসে আরো একজন ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের বিষয়টি। পরে উভয়ের পরিবার মাদ্রাসার সভাপতি মিজানুর রহমানকে পুনরায় অবগত করেন। সভাপতি নিজেই স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের ডেকে ভিকটিমদ্বয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সে সময় তারা ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। তাছাড়া একজনকে একাধিকবার যৌন নিপীড়ন চালায় বলেও স্বীকার করেন একজন ভিকটিম। তাদের স্বীকারোক্তি পেয়ে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) মাদ্রাসায় যান সভাপতি। সেখানে আলাদা কক্ষে বসে প্রধান শিক্ষক আবুল কাসেমের স্বীকারোক্তি নেন। তিনি ঘটনার বিস্তারিত স্বীকার করলে উপস্থিত স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে তাকে গনপিটুনি দেয়ার চেষ্টা করে। তাৎক্ষণিক সংবাদ পেয়ে ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. আসাদুজ্জামানের নির্দেশে এসআই সনজিত চন্দ্র নাথসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছে জনতার রোষানল থেকে উদ্ধার করে তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় ভিকটিমদের পক্ষে একজনের বাবা বাদি হয়ে মামলার এজাহার প্রস্তুত নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

ইনচার্জ মো.আসাদুজ্জামান জানান; নারী লোভী, লম্পট চরিত্রহীন কথিত প্রধান শিক্ষক আবুল কাসেমকে আটক করা হয়েছে। মামলা করার জন্য সদর মডেল থানায় পাঠানো হয়েছে ভিকটিমদের পক্ষে অপর এক জনের বাবাকে। একই সাথে একমাত্র আসামি আবুল কাসেমকেও আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।

 

 

 

পূর্বকোণ/এম

The Post Viewed By: 501 People

সম্পর্কিত পোস্ট