চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আখেরি মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, বিশ্বশান্তি ও কল্যাণ কামনা

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ | ৪:২৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদদাতা হ হাটহাজারী

হাটহাজারীতে তিনদিনব্যাপী জোড় ইজতেমা সম্পন্ন

আখেরি মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, বিশ্বশান্তি ও কল্যাণ কামনা

হাটহাজারীতে তিনদিন ব্যাপী জোড় ইজতেমা গতকাল (রবিবার) আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে। মোনাজাত পরিচালনা করেন কাকরাইল মারকাজ মসজিদের খতিব এবং তাবলিগের বাংলাদেশের আমির আল্লামা হাফেজ জুবাইর আহমদ। আখেরি মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব, সুখ-সমৃদ্ধি, বিশ্বশান্তি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের আমিন আমিন ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে ইজতেমা ময়দানসহ আশেপাশের এলাকা। প্রায় ২০ লক্ষ মুসল্লি আখেরি মুনাজাতে অংশ নিয়েছেন বলে ইজতেমার জিম্মাদার সূত্রে জানা গেছে। সূত্র জানিয়েছে, আখেরি মুনাজাতের পর

এ জোড় ইজতেমা থেকে ৮ শতটি জামাত বের হয়েছে। এসব জামাত তাবলিগের আলমি শুরার তত্ত্বাবধানে ঢাকার টঙ্গির মাঠে আগামী ১০, ১১ ও ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব ইজতেমার দাওয়াত পৌছানো এবং দ্বীনের দাওয়াতের জন্য কাজ করবে। গত শুক্রবার হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া গ্রামে শুরু হওয়া দেশের ১৬টি জেলার মুসল্লিদের অংশগ্রহণে তিনদিন ব্যাপী জোড় ইজতেমার সমাপনী দিনে গতকাল (রবিবার) ফজরের নামাজের পর থেকে লাখো মুসল্লি আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে ইজতেমাস্থলে জড়ো হতে থাকে। ইজতেমা ময়দানের আশেপাশের বাড়িঘরের আঙ্গিনায় বিপুল সংখ্যক মহিলারাও আখেরি মোনাজাতে অংশ গ্রহণ করেন।

সকাল সাড়ে ১০টায় আখেরি মোনাজাত শুরু হওয়ার কথা থাকলেও মোনাজাতের অংশ নিতে আসা মানুষের ঢল দেখে তা প্রায় ৩ ঘণ্টা পর দুপুর ১২টা ৩৯ মিনিটে শুরু হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন কাকরাইল মারকাজ মসজিদের খতিব এবং তাবলিগের বাংলাদেশের আমির আল্লামা হাফেজ জুবাইর আহমদ।

এ সময় লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির ‘আমিন, আমিন ধ্বনিতে’ মুখরিত হয়ে ওঠে হাটহাজারীর চারিয়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকা। মহান আল্লাহর দরবারে দুই হাত তুলে কেঁদে কেঁদে নিজেদের পাপমোচনে মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন মানাজোতে অংশ নেওয়া মুসল্লিরা। একই সঙ্গে ইসলামের আলোকে নিজেদের জীবন গঠন এবং সেভাবে জীবনযাপনে আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন।

গতকাল (রোববার) ফজরের নামাজের পর বয়ান শুরু করেন পাকিস্তানের আলেম ডক্টর নওশাদ। তাঁর বয়ান তরজমা করেন মাওলানা নুরুর রহমান। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী বয়ানে তিনি কিভাবে তাবলিগের মেহনত করবে, সাহাবা ইকরামদের আখলাখ, ব্যবহার ও পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন। নাস্তার বিরতির পর বয়ান শুরু করেন ভারতের মাওলানা শরীফ আকবর। তাঁর বয়ান তরজমা করেন মাওলানা ওমর ফারুক। বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বয়ানে তিনি মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে আল্লাহর রাস্তায় কিভাবে কাজ করবে, দ্বীনি ইসলামের জন্য কিভাবে কাজ করবে তার বয়ান করেন। তাঁর বক্তব্যের পর হাফেজ জুবাইর বয়ান শুরু করেন এবং আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা এ নশ্বর পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, তিনি দোয়া কবুল করেন। কেয়ামতের দিন এ পৃথিবী আল্লাহর হুকুমে ধ্বংস হয়ে যাবে। আল্লাহ কখনো ঘুমাননা, তন্দ্রাও আসেনা আল্লাহ সদাজাগ্রত।
এ সময় ইজতেমার ময়দান ও আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে লাগানো মাইকে অনেক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি বাসা-বাড়ি, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে যে যার মতো করে মোনাজাতে শরিক হন। চারিয়া গ্রামের বিশাল ময়দান পেরিয়ে চট্টগ্রাম খাগড়াছড়ি মহাসড়কসহ এলাকার বিভিন্ন স্থাপনায় বসে দাঁড়িয়ে আখেরি মুনাজাতে শরিক হয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। ইজতেমার জিম্মাদার ও হাটহাজারী মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মুফতি জসিমুদ্দীন ৮ শত জামাতের মুসাফা পরিচালনা করেন। প্রতিটি জামাতে ১৫ থেকে ২০ জন সাাথী বের হয়েছে।
ইজতেমার জিম্মাদার মুফতি জসিম উদ্দীন এ প্রতিনিধিকে বলেন, এতবড় আয়োজন আল্লাহর রহমতে কোন ধরনের সামান্যতম সমস্যা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় বিশ লক্ষ মুসল্লি আখেরি মুনাজাতে অংশ নিয়েছে।

হাটহাজারী থানার ওসি মো. মাসুদ আলম ৩ দিনের জোড় ইজতেমায় কোন ধরনের সমস্যা হয়নি বলে গতরাতে জানিয়েছেন।

আখেরি মোনাজাতে হেফাজত আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী, সাবেক মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, মাওলানা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী , হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন, মাওলানা নোমান ফয়জি, মাওলানা লোকমান, মাওলানা সালাউদ্দীন, মুফতি নুর আহাম্মদ , মুফতি আব্দুস সালাম, মাওলানা আব্দুল হালিম বুখারি, মাওলানা শাহ তৈয়ব, মাওলানা তাজুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 156 People

সম্পর্কিত পোস্ট