চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২০

অনুমোদন মিলল প্রধানমন্ত্রীর

২ নভেম্বর, ২০১৯ | ৩:৩৮ পূর্বাহ্ণ

মোহাম্মদ আলী

ওয়াসার সুয়ারেজ প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগ

অনুমোদন মিলল প্রধানমন্ত্রীর

দায়িত্ব পেয়েছে মালয়েশিয়ান এরিঙ্কো কোম্পানি

চট্টগ্রাম ওয়াসার সুয়ারেজ প্রকল্পের কারিগরি পরামর্শকের দায়িত্ব পেয়েছে মালয়েশিয়ান এরিঙ্কো কোম্পানি। গত ২৩ অক্টোবর সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রী সভা কমিটির সভায় এটি চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর এ সংক্রান্ত কাগজপত্র গত ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম ওয়াসায় এসে পৌঁছেছে। এর আগে বোর্ড সভায় অনুমোদনের পর এ সংক্রান্ত কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে ওয়াসা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ও ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম ওয়াসার সুয়ারেজ প্রকল্পের কারিগরি পরামর্শক নিয়োগে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রী সভা কমিটির গত ২৩ অক্টোবরের সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে। অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানটির নাম মালয়েশিয়ান কোম্পানি এরিঙ্কো কো.। এরপর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর এ সংক্রান্ত কাগজপত্র গত ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম ওয়াসায় এসে পৌঁছেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পর কাজ শুরু করবে প্রতিষ্ঠানটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর একনেকে অনুমোদন পায়। তিন হাজার ৮০৮ কোটি ৫৮ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শেষ হলে চট্টগ্রাম শহরে এটিই হবে সুয়ারেজের ওপর ওয়াসার প্রথম প্রকল্প। বাংলাদেশ সরকার ও ওয়াসার যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘নগরীর হালিশহরে চট্টগ্রাম ওয়াসার ১৬৫ একর জায়গাতে পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্প স্থাপন করা হচ্ছে। প্রকল্পের অধীনে মোট ২০০ কিলোমিটার পাইপ লাইন স্থাপন, ১৫টি পাম্প স্টেশন, ১৪৪ কিলোমিটার সার্ভিস লাইন করা হবে। ২০২১ সালের শুরুতে পাইপ লাইন বসানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। যার মাধ্যমে বাসা বাড়ির পয়ঃবর্জ্য সংগ্রহ করে পরিশোধনের পর তার পানি সাগরে ফেলে দেওয়া হবে। অবশিষ্ট কঠিন বর্জ্য দিয়ে কম্পোস্ট সার তৈরি হবে। এর জন্য তৈরি হবে দিনে ৮০ হাজার ঘনমিটার ধারণ ক্ষমতার একটি পয়ঃশোধনাগার এবং দৈনিক ৪৫০ ঘনমিটার ধারণ ক্ষমতার একটি ফিকেল স্লাজ শোধনাগার’।

ওয়াসা সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছর পর সুয়ারেজের ওপর প্রথম প্রকল্প তৈরি করে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এর আগে ২০১৫ সালের জুন থেকে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত দুই বছর ধরে নগরীর ড্রেনেজ ও সুয়ারেজ নিয়ে একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করে সেবা সংস্থাটি। এর মধ্যে ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং সুয়ারেজ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ওয়াসা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নগরীর ২০ লাখ মানুষ সুয়ারেজের আওতায় আসবে বলে জানিয়েছেন ওয়াসার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। এর আগে চট্টগ্রাম ওয়াসা নগরীতে শুধু পানি সরবরাহ করেছে। সুয়ারেজ বা পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্প গ্রহণ করতে পারেনি। ওয়াসার সুয়ারেজের প্রকল্পটির নামকরণ করা হয় ‘চট্টগ্রাম মহানগরীর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন প্রকল্প (প্রথম পর্যায়)।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৩ সালে চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সিওয়াসা) প্রতিষ্ঠিত হয়। এতদিন পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য কোনো প্রকল্প গ্রহণ করতে না পারায় নগরীর সব রকমের বর্জ্য সরাসরি নালা-খাল হয়ে কর্ণফুলী ও হালদা নদী এবং সাগরে পতিত হচ্ছে।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 324 People

সম্পর্কিত পোস্ট