চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২০

৮ মে, ২০১৯ | ২:৫০ পূর্বাহ্ণ

নাজিম মুহাম্মদ

রপ্তানিপণ্য চুরিতে জড়িত ছাত্রলীগ নেতা ও পুলিশ!

রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস পণ্য চুরিতে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ নেতা ও দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। গত ২৯ এপ্রিল ঢাকার সাভার থেকে চট্টগ্রামে নেয়ার পথে আট হাজার দুই’শ রপ্তানির টি শার্ট চুরি হয়। চুরি যাওয়া পণ্য উদ্ধার করতে গিয়ে মিরসরাইয়ের এক ছাত্রলীগ নেতা ও পুলিশের দুই কনস্টেবলের নাম উঠে এসেছে। চুরির ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন, পণ্যবহনকারী কাভার্ডভ্যানের হেলপার রাসেল ও মিরসরাই বড়তাকিয়া এলাকার আপন কমিউনিটি সেন্টারের দারোয়ান আলাউদ্দিন।
পণ্যপরিবহনকারী সদরঘাটের এস এস ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি কর্তৃপক্ষ জানান, পণ্য চুরির ঘটনায় গত ৩ মে পাঁচজনকে আসামি করে আমরা পাহাড়তলি থানায় একটি মামলা দায়ের করি। মামলার আসামিরা হলেন, পণ্যপরিবহনকারী গাড়ির চালক মহিন উদ্দিন, হেলপার রাসেল, আনসার আলি, হারুন ও সাঈদ ওরফে সিলেটি সাঈদ।
গত ৬ মে ইপিজেড এলাকা থেকে চুরি করা আট হাজার পিস টি শার্ট উদ্ধার করে পাহাড়তলী থানা পুলিশ। একইদিনে মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জের বড়তাকিয়া এলাকার আপন কমিউনিটি সেন্টার থেকে আরো বেশ কিছু টি শার্ট উদ্ধার করা হয়। চুরির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার কাভার্ডভ্যানের হেলপার রাসেল ও কমিউনিটি সেন্টারের দারোয়ান আলাউদ্দিন জানিয়েছে, মিরসরাইয়ের খইয়াছড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহরবা হোসেন টুটুল, জোরারগঞ্জ থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল মোহাম্মদ হোসেন ও খাগড়াছড়ি আর আই অফিসে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল পারভেজ পণ্য চুরির বিষয়টি জানে। মূলত তাদের সহায়তায় কাভার্ডভ্যান থেকে টি শার্টগুলো চুরি করা হয়। আটক কমিউনিটি সেন্টারের দারোয়ান আলাউদ্দিন জানান, ছাত্রলীগ নেতা টুটুল চোরাই টি শার্টগুলো নিয়ে আসলে তিনি কমিউনিটি সেন্টারের দরজা খুলতে রাজি হননি। পরে জোরারগঞ্জ থানার পুলিশ কনস্টেবল হোসেন ফোন করে দরজা খুলতে বলায় মালামালগুলো রাখতে রাজি হই।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে জোরারগঞ্জ থানার পুলিশ কনস্টেবল মোহাম্মদ হোসেন এসব বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা এই বলে ফোনের লাইন কেটে দেন। পাহাড়তলী থানার পরিদর্শক (ওসি) মঈনুর রহমান জানান, রপ্তানিপণ্য চুরির ঘটনায় ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি কর্তৃপক্ষ পাঁচজনকে এজাহারভুক্ত আসামি করে থানায় মামলা দায়েল করেছে। আমরা দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছি। চুরি যাওয়া অধিকাংশ পণ্যও উদ্ধার করেছি। চুরির সাথে জড়িত পলাতকদের আইনের আওতায় আনা হবে।
রপ্তানিপণ্য চুরির ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা ও দুই পুলিশ সদস্য জড়িত থাকা প্রসঙ্গে ওসি মঈনুর জানান, ছাত্রলীগ নেতা সোহরাব হোসেন টুটুল পণ্য চুরির ঘটনায় জড়িত রয়েছে। তাকে আমরা খুঁজছি। দুই পুলিশ সদস্যের জড়িত থাকার বিষয়ে তদন্তে পাওয়া গেলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পণ্যবহনকারী ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির ম্যানেজার জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, গত ২৯ এপ্রিল ঢাকার সাভারের ধামরাইল থেকে কাভার্ডভ্যানে ৪২৯ কার্টন রপ্তানির গ্যার্মেন্টস পণ্য পাঠানো হয় নগরীর সফি মোটরস অফডকে। অপডকে পণ্য বুঝে নেয়ার সময় কিছু ওজনে হালকা মনে হলে সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্ট কার্টনগুলো যাছাই করে দেখে। এরমধ্যে পণ্যবহন করে আনা কাভার্ডভ্যানের চালক মহিউদ্দিন ও হেলপার পালিয়ে যায়। পরে সিএন্ডএফ এজেন্টের লোকজন কাভার্ডভ্যান থেকে কার্টনগুলো খুলে গণনা করে দেখেন, ৪২৯ কার্টনে থাকা ১৬ হাজার ৬৯ পিস লেডিস ও জেন্টস টি শার্টের মধ্যে আট হাজার দুই’শ ৫৮টি টি শার্ট চুরি করা হয়েছে। চুরি যাওয়া টি শার্টের বাজার মূল্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 287 People

সম্পর্কিত পোস্ট