চট্টগ্রাম শনিবার, ০৬ জুন, ২০২০

কর্মস্থলগামী নারীদের ভোগান্তি নিরসনে পদক্ষেপ চাই

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ

কর্মস্থলগামী নারীদের ভোগান্তি নিরসনে পদক্ষেপ চাই

কর্মজীবী মানুষের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নারী। সে অনুযায়ী নারীদের জন্য গণপরিবহণের তেমন সুবিধা নেই। তারা বাসে উঠার পর হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রম শক্তি জরিপ ২০১৬-১৭ থেকে জানা যায়, দেশে কর্মজীবী নারীর সংখ্যা ১ কোটি ৮৬ লাখ ৪৬ হাজার। কিন্তু দেশে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নারীদের জন্য বাস ২১টি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪টি। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের ‘নারীর জন্য যৌন হয়রানি ও দুর্ঘটনামুক্ত সড়ক’ শীর্ষক এক জরিপের তথ্য থেকে জানা যায়, দেশে গণপরিবহণে যাতায়তকালে ৯৮ শতাংশ নারী কোনো না কোনো সময়ে মৌখিক, শারীরিক বা অন্য কোনোভাবে যৌন হয়রানির শিকার হন। ২০১৮ সালে প্রকাশিত জরিপটিতে ঢাকা, গাজীপুর ও সাভারের ৪১৫ জন নারী অংশ নেন। হয়রানির শিকার নারীদের ৮১ শতাংশ কোনো প্রতিবাদ করে না। হয়রানি মধ্যে ইচ্ছাকৃত স্পর্শ, চিমটি কাটা, কাছে ঘেঁষে দাঁড়ানো, আস্তে ধাক্কা দেয়া, চুল স্পর্শ করা বা কাঁধে হাত রাখার মতো বিষয় রয়েছে। হেনেস্তকারীদের বেশিরভাগ পুরুষের বয়স হচ্ছে ৪১ থেকে ৬০ বছর বয়সী। ২১ থেকে ৬০ বছর কেউ কারো থেকে কম যান না। জানা যায়, নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বাসে নয়টি আসন সংরক্ষিত রাখার নিয়ম রয়েছে। নিয়ম ভঙ্গ করলে রয়েছে জরিমানা ও দ-ের বিধান। তথাপি কোনো বাসে চারটি, কোনো বাসে ছয়টির বেশি সিট রাখতে দেখা যায় না। সেগুলোতেও নারীরা বসতে পারছে না। কেননা কতিপয় নির্লজ্জ পুরুষেরা তা দখল করে থাকে। পাশাপাশি সিটগুলো চালকের আসনের কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে নারীদের পা রাখাটা কষ্টকর। আবার অনেক বাসে ইঞ্জিনের ওপর আসন ফেলে নারীদের আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে যা যন্ত্রণাদায়ক ও অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে নারীদের জন্য।

গর্ভবতী নারীদের বাসে উঠা খুবই যন্ত্রণাদায়ক এবং দুঃসাধ্য ব্যাপার কেননা তারা বাসে উঠার সাথে সাথে হেল্পার চিৎকার করে বাস ছাড়ার জন্য হাঁক দেয়। ফলে অনেক গর্ভবতী মহিলা দেহের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এ ক্ষেত্রে নারীদের ওপর নির্যাতন, খুন ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি বন্ধ করার জন্য আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান কঠোরভাবে নিতে হবে এবং নারী হেনেস্তা বন্ধে নারী বান্ধব গণপরিবহণের ব্যবস্থা করা দেশ, জাতি ও রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব এবং সময়ের দাবি।

মোহাম্মদ মনজুরুল আলম চৌধুরী
চট্টগ্রাম।

The Post Viewed By: 115 People

সম্পর্কিত পোস্ট