চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

৬ মে, ২০১৯ | ২:২১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদদাতা , আনোয়ারা

১১০টি অবৈধ দোকানপাট গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন আনোয়ারার পারকি সৈকত

পারকি সৈকতের পর্যটকদের নিরাপত্তা, সুস্থ পরিবেশ ও আধুনিক পর্যটন গড়ার লক্ষ্যে প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছে। গতকাল রবিবার সকালে পারকি সৈকতে অবৈধ দোকানপাট স্থাপনা ও অসামাজিক কার্যকলাপের দায়ে ঝুপড়ি গুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জোবায়ের আহমদের নেতৃত্বে বুলডোজার দিয়ে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। এসময় দোকানদারদের মধ্যে এক ধরণের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। দোকানদাররা দোকানের জিনিস পত্র গুলো নিয়ে টানাটানি করছিল। জানা যায়, আনোয়ারা উপজেলার পারকি সৈকত সম্প্রতি পর্যটকদের জন্য আকর্ষনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। বিভিন্ন দূর দূরান্ত থেকে লোকজন পর্যটক হিসেবে ঘুরতে আসে। সৈকতকে ঘিরে দোকানপাট গড়ে উঠে। একশ্রেণির ব্যবসায়ীরা দোকানপাট এর পেছনে ছোট্ট ঘর গড়ে তুলে। যা ঝুপঁড়ি হিসেবে পরিচিত। ওই সব ছোট্ট ঘর গুলোতে অসাধু ব্যবসায়ীরা অসামাজিক কার্যকলাপ করছে বলে অভিযোগ উঠে। এমনকি মাদক ও ইয়াবা ব্যবসাও হয়ে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময় উপজেলা প্রসাশনের

পক্ষথেকে অভিযান চালালেও এসব কার্যকলাপ বন্ধ হয়নি। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও ইয়াবা ব্যবসায়ী ও মাদব ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছিল। ইদানিং সৈকতের সুস্থ পরিবেশ বিনষ্ঠ হওয়ায় সর্বমহলে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। গত ৩০ এপ্রিল আনোয়ারা উপজেলা আইন শৃঙ্খলা মাসিক সমন্বয় সভায় স্থানীয় চেয়ারম্যানদের পক্ষ থেকে পারকি সৈকতের অসমাজিক কার্যকলাপ ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর জন্য প্রশাসেনর প্রতি অনুরোধ জানান। সভায় ১৫ দিনের মধ্যে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করার ঘোষণা দেন প্রশাসন। ১ সপ্তাহ মধ্যে গতকাল রবিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জোবায়ের আহমদের নেতৃত্বে দুটি বুলডোজার দিয়ে ১১০টি হোটেল ও স্টেশনারিসহ বিভিন্ন দোকান গুডিয়ে দিয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুজ্জামান চৌধুরী, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা জামিরুল ইসলামসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ। উচ্ছেদ ছাড়াও জনৈক জালাল উদ্দিনের পারকি রিসোট এন্ড রেষ্টুরেন্ট থেকে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে নারী পুরষ ৬জনকে আটক করা হয়। কৌশল অবলম্বন করে তাদেরকে প্রশাসন আটক করে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এ অভিযানকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত একটানা উচ্ছেদ অভিযান চলে। দোকান মালিক সমিতিরা জড়ো হয়ে উচ্ছেদ অভিযান বিরত রাখার আহবান জানালেও প্রশাসন নাকচ করে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জায়গায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পারকি সৈকতে দোকানপাট গড়ে তুলে ব্যবসা করে আসছিল। অসাধু ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পর্যটন কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের সুবিধার্থে কিছু কার্যক্রম করা হয়। সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতে পারকি সৈকতে নতুন স্থাপনা গড়া হবে। সেগুলো ভাড়া দিয়ে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করা হবে বলে জানানো হয়। যা পারকি সৈকতের উন্নয়নেও কাজে লাগবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জোবায়ের আহমদ বলেন, পারকি সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে। কোন কিছুতে পারকি সৈকতের সৌন্দর্য্যে বিনষ্ট করতে দেয়া হবে না। এটা দেশের সম্পদ। কক্সবাজারের পরেই পারকি সৈকত হচ্ছে অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। সরকার আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র গড়তে নানা পরিকল্পনা নিয়েছে।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 381 People

সম্পর্কিত পোস্ট