চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

৬ মে, ২০১৯ | ১:৪২ পূর্বাহ্ণ

মফস্বল ডেস্ক

অরক্ষিত উপকূলে ভোগান্তি উপজেলায়

ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় ঘরবাড়ি, লবণ মাঠ ও ফসলী জমি তলিয়ে যায়। এতে দুর্ভোগের পাশাপাশি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় অনেকে।
কুতুবদিয়া ও মহেশখালী উপকূলের ৩০ গ্রাম প্লাবিত: কক্সবাজারের নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকা কুতুবদিয়া ও মহেশখালী দ্বীপে জোয়ারের পানিতে অন্তত ৩০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জোয়ারের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে ৪/৫ ফুট পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে অধিকাংশ এলাকায় ভেঙে গেছে বেড়িবাঁধও। এতে সহজে জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। এর মধ্যে ভাঙা অবস্থায় থাকা বেড়িবাঁধ দিয়ে সাগরের পানি ঢুকে তলিয়ে গেছে মহেশখালী ধলঘাটার দশ গ্রাম। ৪ মে দিনে জোয়ারের অস্বাভাবিক পানি ঢুকে তলিয়ে যায় গ্রামগুলো। এতে ওই এলাকার ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়ে পানি। তলিয়ে যায় লবণমাঠ। এতে ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে।
ধলঘাটার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান জানান, শুধুমাত্র ঠিকাদারের অবহেলার কারণেই শরইতলা থেকে হামিদখালী পর্যন্ত এক কিলোমিটার বাঁধ খোলা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র প্রভাবে সাগরের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়িবাঁধের ওই অংশ দিয়ে অনায়সে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে সাগরের পানি। পানিতে উত্তর সুতুরিয়া, পানির ছড়া, নাছির মোহাম্মদ ডেইল, সিকদার পাড়া ও বনজামিরা ঘোনা গ্রাম সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে। এর আশেপাশের এলাকায়ও পানি ঢুকে পড়ে। পানিতে তলিয়ে ওইসব গ্রামের ঘরবাড়ি ও লবণমাঠের ক্ষতি হয়েছে। বিসিক এলাকায় জোয়ারের নোনা পানি ঢুকে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
কুতুবদিয়ার ইউএনও দীপক কুমার রায় বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় প্লাবিত এলাকার প্রায় শতাধিক পরিবারের লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া লোকজনকে শুকানো খাবার বিতরণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। গত শুক্রবার সকাল থেকে উপজেলা প্রশাসন বেড়িবাঁধ ভাঙন এলাকায় বসবাসরত লোকজনকে মাইকিং করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
বাঁশখালীতে বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি: নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুট উচ্চতায় উপকূলে বেড়িবাঁধ উপচে ও ভেঙে গিয়ে ৪ মে সকাল ১১টার দিকে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। যেসব এলাকায় বেড়িবাঁধ স্থায়ী হয়নি ঐ এলাকার মানুষগুলো আতংকের মধ্যে রয়েছেন। বর্তমানে উপকূলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ৪ মে সকালে সাধনপুর, গ-ামারা, ছনুয়া ও খানখানাবাদে ৪টি অংশে জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে। ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবেলায় গত দু’দিন ধরে মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের দাবি নতুন বেড়িবাঁধে কোন অংশে ক্ষতি হয়নি। তবে কয়েকটি নিচুস্থান দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়েছে। সারাদিন বিদ্যুৎ না থাকাতে জনগণের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। জানা যায়, বাঁশখালীতে মানুষের জীবন রক্ষায় ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র মোকাবেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি ছিল। তবে বেড়িবাঁধের কিছু অংশ অরক্ষিত থাকায় স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে সাগরের পানি ৪-৫ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় ছনুয়ার ৪ নং ওয়ার্ডের খাস পাড়ায় ছনুয়াটেকে বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে পানির প্রবেশ করে। একইভাবে গ-ামারার ৭ নং ওয়ার্ডের হামিদুল্লার টেক ৯ নং ওয়ার্ডের জেলেপাড়া সংলগ্ন ১নং ওয়ার্ডের কে.জি. স্কুলের কিছু অংশ দূরে বেড়িবাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে। গ-ামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লেয়াকত আলী বলেন, গ-ামারা এলাকায় ১৮ কি. মি. বেড়িবাঁধের মধ্যে ৭ কি. মি. অরক্ষিত। গত ১০ বছরেও এ ভাঙ্গা অংশ তদারকির জন্য পান্নি উন্নয়ন বোর্ডের কোন কর্মকর্তা এলাকায় আসেনি। বেড়িবাঁধ কেটে মাছ চাষের জন্য মাছের ঘোনা করা হয়েছে। কখনো বাধা দেওয়া হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এই দুর্যোগের দিনেও কোন যোগাযোগ করেনি। সাধারণ মানুষ নিজেরায় বাঁধের ভাঙ্গা অংশে মাটি ফেলে পানি প্রবেশ বন্ধ করেছে। সাগরের জোয়ার বৃদ্ধি পেলে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়বে, এতে কোন সন্দেহ নেই। এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের এস.ও, এস.ডি পরিবার পরিজন নিয়ে শহরেই থাকেন। গুনাগরি অফিসটিতে সার্ভেয়ার ও পিয়ন অবস্থান করে থাকেন। এ দুর্যোগের দিনেও বাঁশখালীর গুনাগরির পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিসে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছিল না।
ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণী’র প্রভাবে কিছু অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়েছে। খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বদরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, খানখানাবাদের একটি অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ে। অন্যান্য স্থানে পানি বৃদ্ধি পেলেও এলাকায় ঢোকেনি। তাছাড়া লোকজন নিরাপদে আশ্রয় নিয়ে ছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁশখালীর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু তাহের বলেন, খানখানাবাদে শুধু একটি অংশে কিছু পানি ঢুকেছে। মোট পরিস্থিতি ভাল, দিনভর আমরা মাঠে থেকে বেড়িবাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানের ক্ষতির পরিমাপ স্টিমিট করার জন্য শহরে চলে আসছি।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার জানান, দুর্যোগ মোকাবেলায় সকল প্রস্তুতি আমাদের ছিল। বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়া নারী-পুরুষদের খোঁজখবর নেয়া হয়। সাধনপুর ও বৈলগাঁও বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে পানি ঢোকে। বাঁশখালীতে অন্য ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। কিছু এলাকায় বাঁধের ওপর দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকেছে।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 260 People

সম্পর্কিত পোস্ট