চট্টগ্রাম শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

৫ মে, ২০১৯ | ২:৪১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদদাতা , রাউজান

সরকারি দলসহ বিভিন্ন সংগঠনের একাত্মতা

পরিবহন ধর্মঘটে মুনিরীয়ার বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ

রাউজানে মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির উগ্রপন্থীদের আওয়ামী লীগ নেতা মোজাম্মেল হকের উপর হামলা, মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল আনোয়ারারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে, হামলাকারীদের বিচার ও সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার দাবিতে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মোটর মালিক সমিতির ডাকে গতকাল (শনিবার) সকাল ৬ টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিন পার্বত্য জেলায় পরিবহন ধর্মঘট পালিত

হয়েছে। এ ধর্মঘটের ফলে পুরো চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়ক ও চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মোটর মালিক সমিতির আওতাভুক্ত আরো ১২টি সড়কে দিনভর কোন যানবাহন চলেনি। সরকারি দল উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এ ধর্মঘটে একাত্মতা ঘোষণা করে। এছাড়াও রাউজান ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল মোতালেব, সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বাচা, স্থানীয় আলেম-ওলামা, বিভিন্ন যানবাহন মালিক ও শ্রমিকসহ বিভিন্ন সংগঠন এ ধর্মঘটে একাত্মতা প্রকাশ করেন। ফলে এ ধর্মঘট রূপ নেয় হরতালের চিত্রে। গতকাল সড়কগুলোতে সকাল থেকে শুধু বাস, ট্রাক বা ভারী যানবাহন নয়, কোন ধরণের ছোট যানবাহন চলতে দেয়নি আন্দোলকারী এবং শ্রমিকরা। দুপুরে বৃষ্টিতে ভিজেও লাঠি হাতে গাড়ি আটকে রাখে পিকেটাররা।
এ ধর্মঘট মূলত চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মোটর মালিক সমিতির আওতাভুক্ত সড়কগুলোতে হলেও রাউজানের অভ্যন্তরীণ সড়ক বিশেষ করে উপজেলা সদরের সঙ্গে অন্যান্য এলাকার লিংক রোড হিসেবে পরিচিত হাফেজ বজলুর রহমান সড়ক, রাউজান নোয়াপাড়া-১ ও ২ সড়ক, অদুদিয়া-ফটিকছড়ি সড়ক, শাহ লতিফ সড়ক, দোস্ত মোহাম্মদ সড়ক, শহীদ জাফর সড়কসহ অন্যান্য সড়কেও আন্দোলনকারীদের বাধায় যান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে রাউজানের উত্তরাংশ, ফটিকছড়ি, কাউখালী, রাঙ্গামাটিসহ পার্বত্যাঞ্চলের বিভিন্ন অংশ কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাঙ্গামাটি সড়কসহ উল্লেখিত সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ করতে ও মুনিরীয়ার বিরুদ্ধে গাছের গুঁড়ি ফেলে, টায়ার পুড়িয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে ধর্মঘট পালন করা হয়। রাঙ্গামাটি সড়কের রাউজান উপজেলার মুন্সিরঘাটা, গহিরা, জলিল নগর বাসস্ট্যান্ড, দায়ারঘাটা, সর্ত্তারঘাট, ৯ নম্বর ওয়ার্ড, হাফেজ বজলুর রহমান সড়কের হাজিপাড়া, কদলপুর, নাতোয়ান বাগিচা, রাউজান নোয়াপাড়া-১ সড়ক ও অন্যান্য সড়কগুলোতেও গাছের গুঁড়ি ফেলে, গাড়ির টায়ার পুড়িয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করা হয়। এতে দিনভর রাঙ্গামাটিসহ স্থানীয় সড়কগুলোতে হাজার হাজার যাত্রীকে দিনভর দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেকে পায়ে হেঁটে বিকল্প সড়ক হিসেবে কাপ্তাই সড়ক ব্যবহার করেন।
এ প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মোটর মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ সৈয়দ হোসেন কোম্পানি, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ আব্দুর রহমান বলেন, ‘মুনিরীয়া সমর্থকদের মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল আনোয়ার ও আওয়ামী লীগ নেতা মোজাম্মেল হকের উপর হামলার প্রতিবাদে আমরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভাসহ বিক্ষোভ মিছিল করেছি। প্রশাসনকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেধে দেয়া হলেও আজ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এ কারণে আমরা তিন পার্বত্য জেলার ১৩টি সড়কে শনিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ধর্মঘট পালন করি।
তিনি বলেন, ‘মুনিরীয়া সমর্থকরা তাদের এই ধরনের কর্মকা- বন্ধ না করলে আমরা আগামীতে আরো কঠোর কর্মসূচি দেব’।
আন্দোলনকারীদের নেতৃত্বদানকারী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জমির উদ্দিন পারভেজ বলেন, ‘এ.বি.এম ফজলে করিম চৌধুরীর যোগ্য নেতৃত্বে রাউজান হরতাল, অবরোধ মুক্ত ছিল। জামাত-জোট, হেফাজতের আন্দোলনেও রাউজানে কোন হরতাল, ধর্মঘট পালন হয়নি। কিন্তু মুনিরীয়ার বিরুদ্ধে বাস মালিক সমিতির ডাকা ধর্মঘট সফল হয়েছে। এটা মুনিরীয়ার বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। মুনিরীয়া তাদের কর্মকা-ের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা ও যেসব শর্ত দিয়েছি, তা না মানলে তাদেরকে রাউজানে কোন কার্যক্রম চালাতে দেয়া হবে না’।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 224 People

সম্পর্কিত পোস্ট