চট্টগ্রাম শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

৪ মে, ২০১৯ | ৩:২০ পূর্বাহ্ণ

আল-আমিন সিকদার

আশ্রয়কেন্দ্র ফাঁকা, ‘ফণী’ র ভয় নেই বেড়িবাঁধবাসীর !

ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ তার দানবীয় শক্তি নিয়ে গতকাল সকালে আঘাত হানে ভারতের উড়িষ্যায়। ঘণ্টায় ১৮০ থেকে ২০০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানা এ দানবীয় ঘূর্ণিঝড়টি এগোচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের দিকে। যা গতকাল মধ্যরাত নাগাদ বাংলাদেশের বুকে আছড়ে পড়ার কথা থাকলেও শক্তিশালী এ ঘূর্ণিঝড়টিকে নিয়ে কোন মাথা ব্যথা ছিলো না সমুদ্র পাড়ের বেড়িবাঁধবাসীদের। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা একাধিকবার মাইকিং করেও নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে পারেননি বেড়িবাঁধে বসবাসরতদের। অন্যদিকে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে কেউ অবস্থান না নেয়ায় সেগুলোকে পাওয়া যায় তালাবদ্ধ অবস্থায়।
উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ের হাত থেকে নগর রক্ষায় যে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে তার পাশ ঘিরেই টিন আর বাঁশ দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে সারি সারি ঘর। সমুদ্রের সাথে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যারা জীবিকা নির্বাহ করে মূলত তারাই বসবাস করে এসব ঘরগুলোতে। হয়ত সমুদ্রের বুকে সংগ্রাম করতে করতে এখানকার বাসিন্দারা ভুলেই গেছেন যে এই সমুদ্রই ১৯৯১ সালে ছিল হাজারো মানুষের মৃত্যুর কারণ। সচেতনতা এবং আশ্রয় কেন্দ্রের অভাবে প্রলয়ঙ্কারী সেই ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন এই পতেঙ্গা উপকূলের বাসিন্দারা। আর এ ঘটনার পর এ উপকূল ঘিরে বেশ কয়েকটি আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও সচেতনতার অভাবে এখনো তা ব্যবহার করছেন না এই এলাকার বাসিন্দারা। এমনকি ঘূর্ণিঝড়ে সব থেকে বেশি ঝুঁকিতে থাকা বেড়িবাাঁধবাসীরাও যায়নি আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে। যার ফলে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ তার দানবীয় শক্তি নিয়ে আঘাত হানলে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসরতদের।
গতকাল নগরীর ইপিজেড পতেঙ্গা এলাকার সমুদ্র পাড়ের বাঁধগুলোতে সরেজমিনে দেখা যায়, বেড়িবাঁধ ও সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় বসবাসরতদের নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যেতে একাধিকবার মাইকিং করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে সিটি কর্পোরেশন ও ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা। তবে সচেতনতা বৃদ্ধি ও দুর্যোগ মোকাবেলার লক্ষে করা প্রশাসনের এ মাইকিং যেনো কানেই নেইনি এই এলাকার বাসিন্দারা। যার ফলে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র গতকাল মধ্যরাতে আঘাত হানার কথা থাকলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত খালি এবং তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিলো এই এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রগুলো।
এসময় বেড়িবাঁধে বসবাসরত জাকির নামে এক ব্যক্তির কাছে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে না যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘অনেকবার শুনেছি ঘূর্ণিঝড় আইবো, কিন্তু এরপর দেখি আসেনা। এর আগের বার ১০ নম্বর সংকেত দিয়েছিলো আবহাওয়া অধিদপ্তর। কিন্তু কোনো ঘূর্ণিঝড় হয়নি। আর এবারতো মাত্র ৬ নম্বর সংকেত। আর যদিও ঘূর্ণিঝড় আসে তাহলে দৌঁড় দিয়া বড় বিল্ডিংগুলোতে চইলা যামু। আশ্রয় কেন্দ্রের থেকে এখানকার বিল্ডিংগুলো আরো বড়। এখন ৯১ এর মত ভয় পাওয়ার কিছু নেই’।
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন পূর্বকোণকে বলেন,‘গতকাল (শুক্রবার) বিকাল থেকে আকমল আলী রোডস্থ বেড়িবাঁধ এলাকায় আমরা বেশ কয়েকবার মাইকিং করেছি এবং তাদেরকে দ্রুত নিরাপাদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে অনুরোধ করেছি। তবে এখানকার বাসিন্দারা আমাদের কোনো কথাই শুনেনি। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বাতাসের বেগ বাড়লে পুলিশের সহায়তায় তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসতে বাধ্য করবো। তা না হলে প্রাণহানির মতো বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে’।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র কারণে উত্তাল পতেঙ্গা সৈকত দেখতে ভিড় জমাতে দেখা যায় দর্শনার্থীদের। তবে দুপুর পর্যন্ত সৈকত স্বাভাবিক থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভয়াবহ রূপ নেয় সমুদ্রের ঢেউ। এসময় মাইকিং করে দর্শনার্থীদের সৈকত থেকে সরিয়ে দিতে দেখা যায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায় গতকাল মধ্যরাতে বাংলাদেশ অতিক্রম করবে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’। এসময় চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্নস্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১১০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 295 People

সম্পর্কিত পোস্ট