চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০

৪ মে, ২০১৯ | ৩:০২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

উৎকন্ঠার সময় পার করলেন কৃষকরা

মাঠে পাকা বোরো

মাঠে দোল খাচ্ছে পাকা বোরো ধান। ইতিমধ্যেই ২৫ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। জিঙ্কসমৃদ্ধ জাতের ধান ও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে বোরোর ফলন ভালো হয়েছে বলে জানান কৃষকেরা। ভালো ফলন ও পাকা ধানে কৃষকের মুখে হাসি থাকলেও ফণীর প্রভাব নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকেরা।
কৃষি অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলার ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন পূর্বকোণকে জানান, জেলায় ৬০ হাজার ৮৮৪ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে ২৫ শতাংশ জমিতে ধান কাটা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব এখনো পড়েনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিনিয়ত খবরাখবর রাখা হচ্ছে। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। চলতি মাসের ধান কাটা শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে সাগরে ঘূর্ণিঝড় ফণী সৃষ্টি হওয়ার পর কৃষকদের কপালে ভাঁজ পড়ে। কৃষি বিভাগও পাকা ও আধা পাকা ধান দ্রুত কাটার নির্দেশনা দেয়। এরপর কৃষকেরা পাকা ধান কাটার জন্য তোড়জোড় শুরু করেন। কিন্তু শ্রমিক সংকটের কারণে অনেকেই পাকা ধান কাটা শেষ করতে পারেননি। বোয়ালখালীর পশ্চিম গোমদ-ীর মো. বাবুল, জৈষ্ঠ্যপুরার মোজাম্মেল হক, বাঁশখালীর কামাল উদ্দিন জানান, ঘূর্ণিঝড়ের আভাস পাওয়ার পর তাড়াহুড়ো করে ধান কাটা শুরু করা হয়। কিন্তু শ্রমিক সংকটের কাটার পুরোপুরিভাবে কাটা হয়নি। দু-চারদিন সময় পেলেই ধান কাটা শেষ করা যেত। এখন ঘূর্ণিঝড় থেকে মাঠের পাকা ধান রক্ষার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। কৃষি বিভাগ জানায়, ইতিমধ্যে সব কটি উপজেলায় বোরো ধান কাটার উপযোগী হয়েছে। । ১১ পৃষ্ঠার ৬ষ্ঠ ক.

চলতি সপ্তাহের মধ্যে কাটা শেষ হয়ে যেত। ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে ধান কাটার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। কৃষকেরাও সেই মতে ধান কাটা শুরু করেছেন। গতকাল শুক্রবারও বিভিন্ন এলাকায় ধান কাটা ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন কৃষকেরা। গত তিন দিনে ১০-১৫ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে।
গত কয়েক বছর ধরে জিঙ্কসমৃদ্ধ ধান আবাদের পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। হাইব্রিড ও উফশি জাতের ধান আবাদে সুফল পাচ্ছে কৃষকেরা। একই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে চলতি মৌসুমেও ভালো ফলন হয়েছে। এছাড়াও বোরো আবাদে সেচপাম্প চালাতে বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূলে থাকায় বোরোর ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
বাঁশখালী এলাকার কৃষক নুরুল আলম জানান, ‘আড়াই একর জমিতে বোরো আবাদ করেছি। তাড়াহুড়ো করে পাকা-আধা পাকা মিলে দেড় একরের ধান কাটা হয়েছে। আর দু-একদিন সময় পেলে আড়াই একর জমির ধান কাটা শেষ করতে পারতাম। এখন উপকূলীয় এলাকা হিসেবে মাঠের পাকা ধান নিয়ে টেনশনে আছি।’

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 267 People

সম্পর্কিত পোস্ট