চট্টগ্রাম শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০

৪ মে, ২০১৯ | ২:০৬ পূর্বাহ্ণ

ফারমিনা বৃষ্টি

চট্টগ্রাম ইন্ডি ফিল্ম ফেস্ট

রুমেলকে দৃশ্যছায়ার স্মরণ

‘ভুল ভেঙে গেলে ডাক দিও, আমি মৃত্যুর আলিঙ্গন ফেলে আত্মমগ্ন আগুন ললাটের সৌমতায় তোমার লিখে দেবো একখানা প্রিয় নাম-ভালোবাসা’………. রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ’র এই উক্তিটির তাৎপর্য বোঝা গেল চট্টগ্রাম ইন্ডি ফিল্ম ফেস্টে। কারণ এ উৎসবটি অভিনেতা ও নাট্যকর্মী প্রয়াত রুমেল বড়–য়াকে উৎসর্গ করা হয়।
চলচ্চিত্র হচ্ছে আমাদের জীবনের প্রতিচ্ছবি। চলচ্চিত্রের প্রতিটি ফ্রেমে ফুটে উঠে আমাদের জীবনের নানা গল্প।
চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা দৃশ্যছায়ার আয়োজনে গতকাল শুক্রবার নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট’র গ্যালারি হলে বসে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় আসর। প্রথমত ফেস্টটির উদ্বোধন করা হয়। এ উৎসবে মূলত বিভিন্ন নব নির্মাতাদের চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়।
উদ্বোধনের পরে বেশ কিছু পর্বে ভাগ করা ছিল এই আয়োজন। সকালে প্রিয় অভিনেতা ও নাট্যকর্মী প্রয়াত রুমেল বড়ুয়ার ছায়া শরীরে ফিরছে থিয়েটার ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে। বিকেলে ছায়া শরীরে ছিলেন তারেক মাসুদ। সন্ধ্যায় ছিলেন একজন ভুখা গায়েন।
আদি পর্বের শুরুতেই প্রদর্শন করা হয় অকাল প্রয়াত রুমেল অভিনীত ‘পতাকা’ দিয়ে। এরপরে দেখানো হয় জেরিন চৌধুরী, মৃত্তিকা বড়ুয়া, প্রমা পারমিতা নির্মিত ‘রোদ্দুর’, সায়মা ফারজানা নির্মিত ‘বিলুপ্ত ঠিকানায়’, অপরাজিতা সঙ্গীতা নির্মিত ‘পুরুষাতঙ্ক’, রবি চক্রবর্তী নির্মিত ‘মোমেনটস ও আন্ডার দ্যা ইনফ্লুয়েন্স’, শেখ মোহাম্মাদ আরাফাতুর রহমান নির্মিত ‘দ্যা ব্ল্যাক নাইট’, মাহমুদ হাসান শুভ নির্মিত ‘ফ্রিডম’, মিনাহাজুল আলম জিশান নির্মিত ‘আগুন্তুক’, আহমেদ তাহসিন শামস নির্মিত ‘ঢাকা শাটস’, মতিউর সুমন নির্মিত ‘চক্র’, সাব্বির আহমেদ সোহাগ নির্মিত ‘একাত্তরের দিন’, কাজি আশরাফ এলাহি নির্মিত ‘থ্রি নট থ্রি’ এবং আব্দুল্লাহ আল মারুফ নির্মিত অনন্ত জীবন ১৯৪৬।
দ্বিতীয় পর্বে বিশেষ প্রদর্শনীতে ছিল সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন পিন্টুর নির্মিত ‘তৃতীয় বিশ্বের ম্যাজিক’ ও প্রসুন রহমানের নির্মিত ‘নির্মাতা তারেক মাসুদকে নিয়ে ডকুমেন্টারি ফেরা’ প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম শহরে দেখানো হয়েছে।
তৃতীয় পর্ব শুরু হয় ফিল্ম নির্মাণ শ্রমিকদের সিনে আড্ডায় রুমেলকে তারা বারেবারে স্মরণ করেছে। আড্ডা শেষে দৃশ্যছায়া এওয়ার্ড নাইট অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া ফিল্মগুলোর থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করার পাশাপাশি ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এই বছর থেকে অর্থাৎ ২০১৯ সাল থেকে দৃশ্যছায়া সংস্কৃতি জন সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। আবৃত্তি শিল্পী সম্মাননা (মরণোত্তর) পেয়েছেন আবৃত্তি শিল্পী ও বোধন আবৃত্তি পরিষদের সভাপতি প্রয়াত রণজিৎ রক্ষিত। নাট্যকার সম্মাননা পেয়েছেন নাট্যকার ও সাংবাদিক প্রদীপ দেওয়ানজী। নাট্য নির্দেশক সম্মাননা পেয়েছেন নাট্য নির্দেশক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যকলা বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান অসীম দাশ। সঙ্গীত শিল্পী সম্মাননা পেয়েছেন নাট্যজন ও সঙ্গীত শিল্পী শান্তুনু বিশ্বাস। মূকাভিনয় সংগঠক সম্মাননা পেয়েছেন মূকাভিনেতা ও প্যান্টোমাইম মুভমেন্ট’র সভাপতি রিজোয়ান রাজন। এছাড়া নিয়মিত নাট্য ট্রুপ হিসেবে ফেইম স্কুল অব ড্যান্স, ড্রামা এন্ড মিউজিক সম্মাননা পেয়েছেন। সেরা অভিনয়শিল্পী সম্মাননা (মরণোত্তর) পেয়েছেন অকাল প্রয়াত তরুণ অভিনেতা ও নাট্যকর্মী রুমেল বড়ুয়া।
দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল ফিল্মি শোভাযাত্রা, শর্ট ফিল্ম প্রদর্শনী, ফিল্ম নিয়ে সেমিনার, নির্মাণ শ্রমিকদের সিনে আড্ডা এবং এওয়ার্ড নাইট। চট্টগ্রামকে ভবিষ্যতে স্বাধীন ধারার মুক্ত চলচ্চিত্র শহর হিসেবে দেখতে আগ্রহী দৃশ্যছায়া তাদের এই চট্টগ্রাম ইনডি ফিল্ম ফেস্ট নিয়মিত চালিয়ে যাবার চেষ্টা করবে এই প্রত্যাশা রইলো।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 340 People

সম্পর্কিত পোস্ট