চট্টগ্রাম বুধবার, ০২ ডিসেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

৪ মে, ২০১৯ | ২:১৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদদাতা, কর্ণফুলী

ঘূর্ণিঝড় ফণীদুর্যোগেও ঘর ছাড়েনি কর্ণফুলীর মানুষজন

ঘূর্ণিঝড় ফণী’র সর্তকতা সংকেত ও আশঙ্কার কথা জানিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়ার অনুরোধ করে উপজেলায় এত প্রচার-প্রচারণা ও মাইকিং করার পরও ছাড়েনি কর্ণফুলীর মানুষজন। গতকাল রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত উপকূলীয় উপজেলা কর্ণফুলীর একজন মানুষও আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে যায়নি ।
জানা যায়, ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে উপজেলার জুলধা ইউনিয়নের ডাঙ্গারচর গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটে। গতকাল রাত সাড়ে নয়টায় কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী ওই গ্রামে গিয়ে দেখা যায় কেউ ঘর ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে আশ্রয় নেয় নি। উপজেলার অন্য কোন ইউনিয়নেও আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে কাউকে দেখা যায় নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জুলধা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রফিক আহমদ বলেন, সারাদিন মাইকিং করে জনসাধরণকে সর্তক করে আশ্রয় কেন্দ্রে আসতে অনুরোধ করা হয়েছে। যদিও এখনো কেউ আসে নি। আশ্রয় কেন্দ্রেগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মানুষজন এখন অনেক সর্তক। তারা অবস্থা বুুঝে আশ্রয় কেন্দ্রে চলে আসবেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে ১ লাখ ৬২ হাজার ৬২৭ জন জনগনের জন্য ১২টি আশ্রয় কেন্দ্র, ৩৪টি স্কুল ভবন, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কমিটির ৬২৫জন স্বেচ্ছাসেবী, দুইটি ফায়ার সার্ভিস দল, পাঁচটি আনসার ভিডিপি দল ও পাঁচটি মেডিকেল দল প্রস্তুত আছে। পর্যাপ্ত শুকনো খাবারে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
কর্ণফুলী উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী বলেন, কর্ণফুলীতে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে উপজেলা পরিষদ। খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। গ্রামে গ্রামে মাইকিং ও সতর্ক সংকেত জানানো হচ্ছে। এতে মনিটরিং করছেন সংশ্লিস্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীরা। অবস্থা বুঝে মানুষ জন আশ্রয় কেন্দ্রে আসতে শুরু করবে ।
অন্যদিকে, সমুদ্রে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত থাকা প্রায় দুই শতাধিক ফিশিং জাহাজ বিএফডিসি মৎস্য বন্দর থেকে শুরু করে শাহ আমানত সেতুর আশপাশে কর্ণফুলী নদীর দুপারে বিভিন্ন জেটিতে আশ্রয় নিয়ে এবং মাছ ধরা বোট, যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক নৌযান সমূহ নগরের ফিশারি ঘাটসহ কর্ণফুলী তীরবর্তী বিভিন্ন ঘাটে আশ্রয় নিয়ে সর্তকতা অবস্থায় আছে।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 232 People

সম্পর্কিত পোস্ট