চট্টগ্রাম শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০

৩ মে, ২০১৯ | ৩:০৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদদাতা , সীতাকুণ্ড

আশ্রয়কেন্দ্র অপ্রতুল

সীতাকুণ্ডে ফণী আতংকে ৫ লক্ষাধিক উপকূলবাসী

সীতাকুণ্ডে উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় ফণীকে ঘিরে চরম আতংক সৃষ্টি হয়েছে। যেকোন সময়ে ফণী আঘাত হানতে পারে এই আশংকায় খুলে দেয়া হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্রগুলো। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে প্রত্যেক এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত করা হয়েছে। দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে খাবার, চিকিৎসা সেবাসহ যাবতীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউএনও।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড- উপজেলাটি পুরোপুরিই উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় যেকোন ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাসের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখানে বারবার ব্যাপক প্রাণ ও সম্পদহানি হয়েছে। ৬৫ থেকে ৯১ এর প্রতিটি ঘূর্ণিঝড় এই উপজেলাকে লন্ডভন্ড করে দেয়ায় এখনো ঘূর্ণিঝড় বা প্রাকৃতিক যেকোন দুর্যোগের সম্ভাবনায় আতংকিত হয়ে উঠেন এলাকাবাসী। কারণ, এখানে উপকূলবাসীকে রক্ষার কোন ব্যবস্থাই পর্যাপ্ত নয়। সীতাকুণ্ডে ২৬ কি.মি. বেড়িবাঁধের মধ্যে সোনাইছড়ি, কুমিরা, বাঁশবাড়িয়া, বাড়বকুণ্ড-, মুরাদপুর, সৈয়দপুর, বারৈয়াঢালা প্রভৃতি এলাকায় ৬-৭ কি.মি. ভেঙে গেছে। উপকূলীয় বনের আয়তন ১০ হাজার একর হলেও সেখানে অর্ধেক অর্থাৎ ৫ হাজার একরও সবুজ বেষ্টনী অবশিষ্ট নেই। আর সবচেয়ে ভয়ের কথা এ উপজেলায় ৫ লক্ষাধিক মানুষের বিপরীতে সাইক্লোন শেল্টার কাম স্কুল রয়েছে মাত্র ৫৯টি।
উপজেলার সৈয়দপুরের বগাচতর ও মহালঙ্গায় আরো ২টি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হচ্ছে। যার প্রত্যেকটিতে ধারণ ক্ষমতা ২-৩ হাজার মানুষ। অর্থাৎ ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ আশ্রয় পাবে না! ফলে ঝূঁকি নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে উপকূলবাসীকে। এলাকার জনপ্রতিনিধিদের দাবি প্রত্যেকটি এলাকাতেই আশ্রয় কেন্দ্র অপ্রতুল। মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদ হোসেন নিজামী বলেন, আমার এলাকায় প্রায় ৭৫ হাজার মানুষ বসবাস করেন। স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টার আছে ৬টি।

এগুলোর প্রত্যেকটিতে সর্বোচ্চ ২-৩ হাজার মানুষ বড়জোড় মাথা গুজতে পারবে। এর চেয়ে বেশি ব্যবস্থা নেই। এছাড়া ৪-৫টি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভাঙা। ঘূর্ণিঝড় এসব এলাকা দিয়ে ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। একইরকমভাবে আশ্রয় কেন্দ্রে অপ্রতুলতার কথা জানান বাঁশবাড়িয়ার ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলী জাহাঙ্গীরও। এদিকে উপকূলের এ পরিস্থিতিতে সীতাকু- ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) সার্বিক অবস্থা জানতে চাইলে উপজেলা কর্মকর্তা মো. মামুন বলেন, আমাদের ৫৯টি সাইক্লোন শেল্টার আছে। এগুলোর কোনটিতে ১০ হাজার, কোনটিতে ৫ হাজার মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে বলে তিনি দাবি করেন।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন রায় বলেন,ঘূর্ণিঝড় ফণী যেকোন সময় আঘাত হানতে পারে এই আশংকায় সার্বিক বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়েছি। উপকূলীয় এলাকায় ৫৯টি সাইক্লোন শেল্টার, স্কুল, কলেজ প্রভৃতি আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে। সবচেয়ে আগে প্রতিবন্ধী ও বৃদ্ধরা যেন আশ্রয় নিতে পারেন সে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। শুকনো খাবার, জরুরি চিকিৎসা সেবাসহ দুর্যোগ মোকাবিলার যাবতীয় প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি। তবুও পাহাড়ি ও উপকূলীয় এলাকায় যারা বসবাস করছেন তাদেরকে নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং করছি আমরা।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 388 People

সম্পর্কিত পোস্ট