চট্টগ্রাম রবিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২০

৩ মে, ২০১৯ | ৩:০৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বন্দরে সার্বিক প্রস্তুতি

অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ জেটি ফাঁকা, বহির্নোঙরে জাহাজ

ফণা তুলে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ফণী। ১৯৯১ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল বন্দরে। সেই অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে এবার সব রকমের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ফণীর ঝাপটা সামলাতে তৈরি বন্দর প্রশাসন। বন্দর জেটি ফাঁকা। এখানে থাকা ১৬টি জাহাজকে বহির্নোঙরে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে গতকাল। বন্দরে ও বহির্নোঙরে যাবতীয় অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
বন্দরে চালু করা হয়েছে দু’টি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। কর্মকর্তারা সেখানে সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত রয়েছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরণের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক দৈনিক পূর্বকোণকে জানান, গতকাল সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলার পরপরই বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব সংকেত এলার্ট-টু থেকে বাড়িয়ে এলার্ট-থ্রি জারি করেছে। সকাল ১০টায় এলার্ট থ্রি জারি করা হয়। এরপরপরই জাহাজে পণ্য ওঠানো নামানোর কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। ঘূর্ণিঝড়ে জেটিতে জাহাজে ব্যাপক আঘাত লাগে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা থাকে। তাই জেটি থেকে জাহাজ সাগরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) এনামুল করিম জানান, আবহাওয়া অধিদপ্তর ছয় নম্বর বিপদ সংকেতের বিজ্ঞপ্তির প্রচারের পরপরই আমরা নিয়মানুযায়ী জেটি ও বহির্নোঙরে জাহাজ থেকে পণ্য উঠানামা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। জেটিতে অবস্থানরত জাহাজগুলোকে বহির্নোঙরে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রেক্ষাপটে ১৯৯২ সালে বন্দর কর্তৃপক্ষ ঘূর্ণিঝড় দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পুনর্বাসন পরিকল্পনা প্রণয়ন করে। সে অনুসারে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংকেত অনুযায়ী ৪ রকমের সতর্কতা জারি করে বন্দর। ৩ নম্বর সংকেতে বন্দর প্রথম পর্যায়ের সতর্কতা জারি করে। ৪ নম্বর সংকেতে দ্বিতীয় পর্যায়ের সতর্কতা এবং বিপদ সংকেত ৫,৬ ও ৭ নম্বরের জন্য তৃতীয় পর্যায়ের সতর্কতা- এলার্ট থ্রি জারি করা হয়। আর মহাবিপদ সংকেত ৮, ৯ এবং ১০ হলে বন্দরেও সর্বোচ্চ সতর্কতা বা এলার্ট- ফোর জারি করা হয়।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, সব ইকুইপমেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। জেটির শেডসমূহে যাতে জলোচ্ছ্বাসে পানি প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য সব ফটক বন্ধ করা হয়েছে বালির বস্তা দিয়ে। পণ্য ডেলিভারি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে, আগে যেসব ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান প্রবেশ করেছিল সেগুলোকে ডেলিভারি দেয়া হয়েছে গতকাল।
বার্থ অপারেটরস, টার্মিনাল অপারেটরস এন্ড শিপহ্যান্ডলিং অপারেটরস ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে ইকরাম চৌধুরী জানিয়েছেন, দুর্যোগের আশংকায় বন্দর প্রশাসনের নির্দেশে সব জাহাজ জেটি থেকে বহির্নোঙরে চলে গেছে। চট্টগ্রাম বন্দর লাইটারেজ ঠিকাদার সমিতির সভাপতি হাজি সফিক আহমদ জানিয়েছেন, বহির্নোঙরে অবস্থানরত সব জাহাজে লাইটারিং বন্ধ রয়েছে গতকাল সকাল থেকে। সব লাইটার জাহাজ কালুরঘাটের কাছে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় জরুরী সভা করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল জুলফিকার আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাগন, বিভাগীয় প্রধানগণ, টার্মিনাল অপারেটরের প্রতিনিধিগন এবং স্টেক হোল্ডারের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতি মোকাবেলায় বন্দর ও সংশ্লিষ্টদের করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। সভায় বন্দর চ্যানেল থেকে সব ধরণের নৌযান শাহ আমানত সেতুর পূর্বপাশে বা নিরাপদ পোতাশ্রয়ে পাঠানো, শুক্রবার-শনিবারও বন্দরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিত থাকা, বন্দর হাসপাতালে সব ধরণের প্রস্তুতি রাখা, জেটির ভেতরে এ্যাম্বুলেন্স রাখা এবং অতিরিক্ত একশ শ্রমিক প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 253 People

সম্পর্কিত পোস্ট