চট্টগ্রাম সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০

৩০ এপ্রিল, ২০১৯ | ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিয়ের পিঁড়িতে বসছে পপি

পপি আক্তার। জন্মের পর থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আঙ্গিনায় তার বেড়ে ওঠা। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া পপির বাসযোগ্য স্থান ছিল না। ১২ বছর আগে হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল হক ভূঁইয়ার সহযোগিতায় পুলিশ ক্যাম্পের পাশে ঝুঁপড়িতে থাকার ব্যবস্থা হয় পপির পরিবারের। সহযোগিতা নিয়ে পপি নগরীর আলফালাহ গলির একটি মাদ্রাসা থেকে পড়াশোনাও করেছে। বর্তমানে ১৮ পেরিয়ে ১৯ এ পা দিয়েছে বাবুল মিয়ার একমাত্র মেয়ে পপি। আজ বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছে সে।
নববধু হয়ে বোয়ালখালীর পশ্চিম গোমদন্ডী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত সাবের আহমদের ছেলে জসিমের ঘরে যাবে পপি। আজ মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালে পার্কিং মাঠে বাবার ভূমিকায় থাকা জহিরুল ইসলামের ব্যক্তি উদ্যেগেই বিয়ের আয়োজন শেষ করা হবে। এর আগে গতকাল সোমবার থেকেই বিয়ের প্রস্তুতি নেয়া হয়। সাজানো হয়েছে বিয়ের গেট থেকে শুরু করে প্যান্ডেলও। বর যাত্রীদের বরণ এবং আপ্যায়নেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া বিয়েতে প্রয়োজনয় সব ধরনের কেনাকাটাও করা হয়েছে। দুপুরে বিয়ে উপলক্ষে বর ও কনের আত্মীয়-স্বজনসহ প্রায় দেড়’শ মানুষের খাওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। পপির বিয়েতে বরযাত্রীসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য খাবারের ম্যানুতে থাকছে হরেক পদের খাবার। বিয়ের আগেই সকল প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে জানিয়ে হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল হক ভূঁইয়া পূর্বকোণকে বলেন, ‘নিজের মেয়ের মতোই ছোট থেকে তাকে দেখাশোনা করে আসছি। তাই বিয়ের দায়িত্বটাও নিজে নিয়েছি। আমার পরিচিত ও বন্ধু-বান্ধবের কাছ থেকে নেয়া সহযোগিতা দিয়েই তার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হবে। অন্য দশটা বিয়ের মতোই পপির বিয়ে দেয়া হচ্ছে। কোন কিছুর কমতি নেই’।
জহিরুল হক আরও বলেন, ‘পপির একমাত্র ইচ্ছা তার বিয়েতে যেন একটা সুন্দর বিয়ের গেট করা হয়। সে ইচ্ছাটাও পূরণ করা হয়েছে। বাবা হিসেবে মেয়ের বিয়েকে স্মরণীয় করে রাখতে যা করার প্রয়োজন ছিল, সব ধরনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
পপির পিতা বাবুল মিয়া একজন হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষ। তিনি সিটি কর্পোরেশনের একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আগে পথে কাটালেও বর্তমানে পুলিশ ক্যাম্পের পাশেই ঝুঁপড়ি ঘরে বসবাস তাদের। এক ছেলে সন্তান জন্মের পর মারা যাওয়ায় স্ত্রীও মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে এখন পাগল। দীর্ঘ এ সময়ে অসহায় পরিবারের পাশে থেকে সহযোগিতা করেন জহিরুল হক।
পপির বিয়েতে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম ছাড়াও পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক এবং (ডিবি-উত্তর) মো. মিজানুর রহমান, পাঁচলাইশ জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার দেবদূত মজুমদার, পাঁচলাইশ থানার ওসি আবুল কাশেম, চকবাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইয়্যেদ গোলাম হায়দার মিন্টুসহ বিশিষ্টজনরা উপস্থিত থাকবেন।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 489 People

সম্পর্কিত পোস্ট